Home ঢাকা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন চাই

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন চাই

0 0

ঢাকা:২১ অক্টোবর ২০২০ বুধবার :
নিরাপদ সড়ক শুধুমাত্র দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আগামীকাল ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২০ উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়কে প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। তাদের সুরক্ষা দিতে এই দিবসটি অন্যান্য জাতীয় দিবসের ন্যায় গতানুগতিকভাবে একদিন পালন না করে, নিরাপদ সড়ক দিবসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা,

বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা সভা, মসজিদ-মন্দির-গীর্জায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সংক্রান্ত আলোচনাসহ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজের সকল স্তরে নিরাপদ সড়কের বার্তা পৌঁছে দেওয়া গেলে দিবসটি উদযাপনের সুফল পাওয়া যাবে। একই সাথে বর্তমান সরকারের নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পর্যবেক্ষণে মতে, ২০১৫ সাল থেকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিগত ৫ বছরে ২৬,৯০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭,১৭০জন নিহত ও ৮২,৭৫৮জন আহত হয়েছে। তবে সংগঠিত দুর্ঘটনার সিংহভাগই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত ২০১৫ সালে ৬,৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮,৬৪২জন নিহত  ২১,৮৫৫জন আহত হয়েছে। ২০১৬ সালে ৪,৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬,০৫৫ জন নিহত ১৫,৯১৪ জন আহত হয়েছে। ২০১৭ সালে ৪,৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৩৯৭জন নিহত ১৬,১৯৩ জন আহত হয়েছে। ২০১৮ সালে ৫,৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,২২১ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১৫,৪৬৬ জন। ২০১৯ সালে ৫,৫১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৮৫৫ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১৩,৩৩০ জন ।

এসব সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণকালে দেখা যায়, বর্তমান সরকারের সময়ে সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়নের ফলে যানবাহণের গতি বেড়েছে, এই সময়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানো এবং বিপদজনক অভারটেকিং বেড়ে যাওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, জনগণের বহুল প্রত্যাশিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের পরেও সড়কে কাঙ্খিত উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায়নি। বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানী ঠিক আগের মতোই বিদ্যমান। ফলে যাত্রী ভোগান্তি, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে। সড়কে এহেন পরিস্থিতি বহাল রেখে নিরাপদ সড়ক দিবস পালন নেহায়াত বেমানান।

২০২১ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে জাতিসংঘের অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সড়কে পথচারীর মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই অঙ্গীকার নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

NO COMMENTS

Leave a Reply