Home চট্টগ্রাম রামু গর্জনিয়ার ৬০ হাজার মানুষ রাস্তাবিহীন ব্রীজের সুফল পাচ্ছে না

রামু গর্জনিয়ার ৬০ হাজার মানুষ রাস্তাবিহীন ব্রীজের সুফল পাচ্ছে না

0 0

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১৩ অক্টোবর।।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার দুর্গম জনপদের নাম গর্জনিয়া।
গর্জনিয়া ইউনিয়নের মানুষ শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিদুৎ আর স্বাস্থ্য সেবাসহ থেকে অনেক পিছিয়ে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত ইউনিয়নটির প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। দৃশ্যত কিছু উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারছেন না এই জনপদের মানুষগুলো।
উন্নয়ন বঞ্চিত গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষের
প্রবেশ মুখ ১ নং ওয়ার্ড ও ২ নং ওয়ার্ডের সীমানায় দক্ষিণ বড়বিল ছড়া। এই বড়বিল ছড়ার উপরদিয়ে সাধারণ জনগনের চলাচলের সুবিধার্থে সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেস্টায় গড়ে তুলেন গর্জনিয়া-বাইশারীর পুরাতন প্রধান সড়ক। এ সড়ক দিয়ে এখনো বাইশারী ও গর্জনিয়া দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে।
এলাকাবাসী জানান, গত ৮ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ মেয়াদ কালে সাবেক স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা রওশন আকতারের প্রচেষ্ঠায় সেখানে একটি ব্রিজ৷ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটি বর্তমানে রাস্তাবিহীন দাড়িয়ে আছে। তাদের মেয়াদকাল শেষ হয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ছৈয়দ নজরুল ইসলামের আমলও শেষের পথে। তারপরও ব্রীজের সংযোগে মাটি ফেলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ । এধরনে আরো অসংখ্য ব্রীজ ও কালভাটের সুফল পাচ্ছে না বছরের পর বছর।
২য় ব্রীজ নজু মাতব্বর পাড়া হয়ে ঐতিহাসিক শাহ সোজা সংযোগ সড়কে ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত। এর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ১ বছর হলো তাতেও সামান্য মাটি ফেলতে পারেনি জনপ্রতিনিধিরা।
অপরদিকে, মাঝিরকাটা বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চলছে মোরগ লড়াই। ৪ বছর আগে চউই ও পল্লী বিদ্যুতায়ন সীমানা নির্ধারন করা হয়। সে হিসেবে ম্যাপ তৈরি করা হয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিলে বিদ্যুৎ বিহীন এলাকা সংযোগ প্রকল্পে ম্যাপ, টেন্ডার হয়। পশ্চিম বোমাংখিল হতে বেলতলি বাজার পর্যন্ত,পশ্চিম বোমাংখিল-বোমাংখিল– মাদ্রাসা বাজার-পূর্ব বোমাংখিল কিছু অংশ কাজ হয়। বাকী অংশে কাজ শুরুর ঠিক সেই মূহুর্তে কিছু অসাধু লোকদের সাথে নিয়ে মাঝির কাটায় বেলতলি দোকানে বসে পল্লী বিদ্যুতায়নের সভা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সাবেক সাংসদ সহিদুজ্জামান ও সাবেক চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর উন্নয়নের ফলক মুছে গেলে, হয়তো গর্জনিয়া-বাইশারী সড়কটি এক সময় বিলীন হয়ে যাবে। কারন বর্তমানে গর্জনিয়া-বাইশারী সড়কের মধ্যখানেই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে টাইম বাজার সামান্য রাস্তা পাকা হলেও জনবহুল বটতলী হতে সিকদার পাড়া ও টাইম বাজার হতে বাইশারী সীমানা পর্যন্ত রাস্তাটি দেখলে মনে হয়, এখানে কোন জনপ্রতিনিধি নেই। বর্তমানের মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ চৌধুরী ব্রীজটি হলেও তাতে ৫/১০ হাজার টাকার মাটি ভরাট না করায় তাও অচল প্রায়।
স্থানীয় অধিবাসী মহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু জানান, একান্ত হাতছানি দিয়ে ডাকছে সংযোগ সড়ক সংরক্ষণে। আর আমাদের বিদ্যুৎ, আমাদের অধিকার। মাঝির কাটায় সংযোগ সড়ক হোক। সামগ্রীক বিশ্লেষণে গর্জনিয়ার অবস্থা ভাল নেই। উন্নয়নের জ্বর যেন তাদের থেকে বিদায় নিচ্ছে না। দূর্নীতির মহা আখড়া থেকে গর্জনিয়াবাসী মুক্তি চায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী সুবিধার্থে সব উন্নয়ন কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply