Home অপরাধ ভূমিদস্যু চক্রের প্রধান মনছুর আলম দখল করছে সাধারণ মানুষের জমি ও বসতবাড়ি

ভূমিদস্যু চক্রের প্রধান মনছুর আলম দখল করছে সাধারণ মানুষের জমি ও বসতবাড়ি

কক্সবাজার প্রতিনিধি,১১ অক্টোবর।কক্সবাজারের পেকুয়া মগনামাসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিদস্যু ও জালিয়াত চক্রের প্রধান মনছুর আলম নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ লোকজনের জমি ও বসতবাড়ি দখল করে নিচ্ছে। কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে নিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে জমির প্রকৃত মালিককে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ। প্রতিকারের আশায় জমির প্রকৃত মালিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অবহিত করলেও কোন রকম প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এতে করে ভূমিদস্যু ও প্রতারক চক্রের প্রধান মনছুর আলমের কাছে সাধারণ লোকজন জিম্মি হয়ে পড়েছে। এছাড়া হয়রানীর শিকার ও প্রতারিতরা পাচ্ছেন না ন্যায্য বিচার।

অভিযোগ আছে, স্থানীয় মগনামা এলাকার মতিউর রহমানের ৯৬ শতক সম্পত্তি তার তিন ছেলে নিজ নিজ নামে পৃথক দিয়ারা রেকর্ডভক্ত করেন। কিন্থু ভূমিদস্যু ও জালিয়াত চক্রের প্রধান মনছুর আলম ওই মতিউর রহমানের ৬ মেয়ের মধ্যে ৫ জন থেকে সুকৌশলে আর.এস এবং বিএস মুলে ২৫ শতক জায়গার দলিল জোর করে নিয়ে ফেলে। অপর এক বোন এবং তিন ভাই থেকে দলিল নিতে ব্যর্থ হয়।

বর্তমানে, মগনামা মৌজায় জমি ভোগ-দখল বা বেচা-বিক্রির জন্য দিয়ারা চূড়ান্ত সেহেতু এখানে বিএস কার্যকর নয় এমনটাই দাবী মতিউর রহমানের ওয়ারিশগনের।
মতিউর রহমানের ছোট ছেলে ছৈয়দুল করিম বলেন, আমাদের পিতা জীবদ্দশায় তার সম্পত্তি আমাদের তিন ভাইকে সমানভাবে ভাগ করে দেন। আমরা সে অনুযায়ী এতোদিন ভোগ দখল করে আসছি। আমাদের পিতা মারা যাওয়ার পর মনছুর আলম তার প্রতারক চক্রের পালিত লোকজন দিয়ে ২৫ শতক জায়গা জোর করে দখলে নেয়। বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মীমাংসা করার জন্য একাধিকবার মনছুর আলমকে তাগাদা দিলেও সে তাতে কর্নপাত না করে উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়ে এলাকায় একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এ ব্যাপারে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের শরণাপন্ন হলে তিনি তা মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সে লক্ষ্যে তিনি মনছুর আলমকে পরিষদে ডাকেন। কিন্থু মনছুর আলম বিভিন্ন অজুহাতে তালবাহনা করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। শেষতক চেয়াম্যান নিজেই মনছুর আলমকে ফোন করে বিচারে বসার জন্য অনুরোধ করেন।

একাধিকবার ফোন করার পর অবশেষে হাজির হয়ে তার কাছে থাকা আরএস এবং বিএসের কাগজপত্র দেখান। এর আগে আমরা চেয়াম্যানকে জমির দিয়ারা রেকর্ড পত্র জমা দিয়েছি। চেয়াম্যান উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখে দিয়ারা যাদের কাছে তাদের পক্ষে রায় দেন। অর্থাৎ আমাদেরকে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে রায় ঘোষণা করেন। বিচারের রায় তার পক্ষে না হওয়ায় এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে পরিষদ থেকে বের হয়ে যান। মনছুর আলমের এমন আচরণে পরিষদে উপস্থিত সকলে হতবাক হয়ে যায়।

মনছুর আলমের ক্ষমতার উৎস কোথায়?
মনছুর আলম উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তার অপর তিন ভাই সরকারী চাকুরীজীবি। এক ভাই বিজিবির সিপাহী। আরেক ভাই জনশক্তি প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে কর্মরত। অপর ভাই মাস্টার্সের ছাত্র। সরকারী চাকুরীজীবিই যেন তার কাছে হাতিয়ার। এই হাতিয়ার ব্যবহার করে তিনি যেমন ইচ্ছে তেমন করে থাকে। তার কাছে অনিয়মই যেন নিয়ম। লালন পালন করে এক বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী।

এই বাহিনী দিয়ে তিনি জমি-দখল হুমকি ধমকি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এই বিশাল বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতে তার বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ সমস্ত অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে মোবাইল ফোনে মনছুর আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অফিসের ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম জানান, বিষয়টি আমার কাছে বিচারাধীন আছে। উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখেছি। বর্তমানে যেহেতু দিয়ারা চূড়ান্ত তাই দিয়ারার পক্ষে আমার অবস্থান।

তিনি আরও বলেন, আমি তো কাগজপত্রের বাইরে যেতে পারিনা । কাগজপত্র যা বলে আমি তাই বলেছি।
এদিকে, মনছুর আলম বিভিন্ন স্থানে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির বিভিন্ন জালিয়াত চক্র গড়ে তুলেছে। কেউ পুরাতন স্ট্যাম্প তৈরি করে, কেউ বিভিন্ন ধরনের সিল মেরে আবার কেউ সই, স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জমি দখল করে নিচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অবিলম্বে এই বিষয়গুলো যেন খতিয়ে দেখা হয় এবং এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা মনছুর আলম যেন আর কোন নিরীহ মানুষের ভূমি আত্মসাৎ করতে না পারে সে জন্য কায্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছে ভুক্তভোগী পরিবার।

NO COMMENTS

Leave a Reply