Home চট্টগ্রাম সমকালীন বিষয় নিয়ে বন্দর থানার এসআই নাসির উদ্দিনের একান্ত ভাবনা

সমকালীন বিষয় নিয়ে বন্দর থানার এসআই নাসির উদ্দিনের একান্ত ভাবনা

0 0

ডেস্ক রিপোর্ট:সাম্প্রতিক কালে ” ধর্ষণ “শব্দটি বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে , শুধু তাই নয় ধর্ষণের প্রকোপ মহামারী আকারে বেড়েছে । আর এই সমকালীন ঘটনাবলী নিয়ে চট্টগ্রামের বন্দর থানার আওতাধীন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইনচার্জ এসআই নাসির উদ্দিনের তার একান্ত ভাবনা প্রকাশ করেছেন নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে । পাঠকদের জন্য সেই একান্ত ভাবনা হুবহু তুলে ধরা হলো..

বাংলাদেশে এতো বখাটে, ধর্ষক, নির্লজ্জ, মানুষ রূপি হায়েনাদের জন্ম দিন দিন বেড়ে যাওয়ার কারণ কি?

অনেক ভেবে চিন্তে এবং পুর্বের ইতিবৃত্ত পর্যালোচনা করে দেখলাম বাংলাদেশের বিবাহ সংস্কৃতি অনেকাংশেই দায়ী। তাহলে কেমন সেটি!

ধরুন বাংলাদেশের একজন ২১ উর্ধ্ব বয়সী ছেলে বিয়ে করতে যাচ্ছে সে প্রতিষ্ঠিত হোক বা না হোক তার কাধের উপর বাংলাদেশের সমাজ ইসলাম ধর্মের নিয়মকে অবজ্ঞা করেই এমনই একটি দেন মোহর চাপিয়ে দেয় যা বিবাহের দিন কণেকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ১০০০ জন বরের মধ্যে শুধু ১০ জন বা তার চেয়ে দুএকজন বেশি বা কম। প্রায় কনের অভিভাবক কণের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে বরের সামর্থের দিকে না থাকিয়ে ৫,১০,১৫,২০,৩০,৫০ লক্ষ এমনকি ০১ কোটিও দেন মোহর দিতে বাধ্য করে কাবিন নামায় এই বাংলা সমাজ।

অথচ ইসলাম ধর্ম বলে, মহর বা মোহর হল বিবাহের সময় কনের দাবিকৃত অর্থ বা সম্পদ, যা বর বা বরের পিতার পক্ষ থেকে কনেকে প্রদান করতে হয়। এটি প্রদান করা বাধ্যতামুলক। মহরের মাধ্যমেই পুর্ণাঙ্গ বিয়েকে বৈধ করা হয়। প্রাচীন আরবে যৌতুক দেয়ার প্রথা চালু ছিল, নবুয়াত প্রাপ্তির পর মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে যৌতুক প্রথাকে নিষিদ্ধ করে আবশ্যক দেনমহরপ্রথা চালু করেন। ইসলামে মহরের কোন সীমারেখা নেই। যা বরের আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়।

তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ কর। [কুরআন 4:4]

বর্তমান বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশে বর্তমান বিবাহ সমুহ কতটুকু বৈধ? আপনি নিজেই অনুমান করুন!
আর যদি বৈধ বিবাহ হবার পরও দেখলেন আপনার সন্তান বখাটে, ধর্ষক, চোর, ডাকাত, কথায় কথায় গালি, বড়দের অসম্মান, ছোটদের সাথে খারাপ আচরণ, মা-বাদের প্রতি অশ্রদ্ধা ইত্যাদি অশিষ্টাচার মুলক আচরণ করে তাহলে ভাবুন তো একবার!

চাপিয়ে দেওয়া মোহরানা প্রথা একটি বৈধ বিবাহ কে নিজেদের অজান্তে বেভিচারের সামিলতা কিনা সেটা ভাবলে লোম শিউরে উঠে।

তাই বলি ইসলাম আপনাকে সহজ সমাধান দিয়েছে সেটি মানলে কণের ধার্য্যকৃত মোহরানা যেন হয় বরের সাধ্যের মধ্যে এবং সেটি যেন বিয়ের সময় পূরণ করতে পারে। এইক্ষেত্রে চাপিয়ে দেওয়া মোহরানাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে একটি ছেলের সামর্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিয়ের আগে কণেকে সব শোধ করে দিলে একটি বিবাহ বৈধ হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে আদর্শবান।

নাম ফুটানোর জন্য ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহর দিয়ে ওসুল ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে সুন্দরী বউ ঘরে তুলে নিলেন ধুমধাম করে, বাকি ১৫ লক্ষ রয়ে গেল। যা কণের সম্পুর্ন হক। বিয়ের পর কণের এই হক কখনো আদায় করেছেন?

আর যদি এটি ২০ হাজার বা ২ লক্ষ হতো সহজে কণের হক পূরণ হতো। সহজ বিয়ে, সুন্দর সংসার, আদর্শ ছেলে-মেয়ে পেয়ে আপনি ধন্য হতেন।
কমে যেত নারী নির্যাতন, ধর্ষন, ব্যাভিচার। আর যারা এখনো আদর্শ জীবন পার করছে তারা এই ধর্মীয় নীতিতে অটল আছেন বলে আমার বিশ্বাস।

NO COMMENTS

Leave a Reply