Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ...

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছে নুরুল আজিম রনি,ক্ষুব্ধ সিনিয়র নেতারা

সিটিজি ট্রিবিউন ডেক্স : রাজনীতির মাঠে সাধারণত বিপক্ষ দলের সাথে রাজনৈতিক বিরোধ ও কাদা ছোঁড়াছুড়ি, বিষোদগারের ঘটনা ঘটে থাকে।কিন্তু প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দলের শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতাকে পাবলিক প্লাটফর্মে খাটো করতে গিয়ে কেউ যদি ব্যাঙ্গাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তখন ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়?

হ্যাঁ, এমনই এক নিন্দনীয়, শিষ্টাচারবিবর্জিত ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউনিট চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে রনি লিখেছেন, ‘বাফুফে নির্বাচনের শেষমুহূর্তে গােল করে বসলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। গত ৪ বছর ধরে কাজী সালাউদ্দিন এর ধারাবাহিক এই সমালােচক (আ জ ম নাছির উদ্দিন) কাজী সালাউদ্দিনের সাথেই আজ সােনারগাঁও হােটেলে প্রবেশ করেছেন। গােল্লায় যাক ফুটবল, ধান্দা ঠিক থাক।’

এই স্ট্যাটাসের সাথে একটি ছবিও সংযুক্ত করে দেন তিনি। যেখানে দেখা যায়, গোলবারের জালে একটি ফুটবল স্পর্শ করছে এবং ফুটবলের উপর এডিট করে বসানো হয়েছে আ জ ম নাছির উদ্দীনের ছবি।

এদিকে সদ্য বিদায়ী সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ব্যঙ্গ করে এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। কেউ কেউ দলের সিনিয়র একজন নেতাকে নিয়ে এমন মন্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুরুল আজিম রনি নিজেকে মুজিববাদে বিশ্বাসী জানিয়ে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘যেহেতু আমি সাংগঠনিক দায়িত্বে নেই, সেহেতু আমি এই বিষয়ে কথা বলতেই পারি। আমি জানি যতটুক লিখেছি, ততটুক সত্য এবং সুন্দর ভাষায় লিখেছি। আমার স্ট্যাটাসে কোন শব্দটি বা কোন তথ্যটি অসত্য, কুরুচিপূর্ণ?’

এদিকে মতপার্থক্য ও চিন্তার ভিন্নতা থাকলেও নিজের দলের রাজনীতিবিদকে এভাবে হেনস্থা ও বাজেভাবে উপস্থাপন করা কোনো ছাত্রলীগ নেতার পক্ষে সম্ভব নয় জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘রাজনীতিতে নেতার পাশাপাশি কর্মীদের ভূমিকা থাকে অনেক বেশি। রাজনৈতিক পরম্পরায় দেশজুড়ে বিভিন্ন নেতার আলাদা আলাদা অনুসারী রয়েছে। তার মানে এই নয় যে, এক নেতার সমর্থক অন্য নেতাকে অপমানিত করবে। রাজনীতিতে এসব কর্মকাণ্ড খুবই ঘৃণিত।’

তিনি বলেন, যাদের কোনো কাজ নেই, ভিত্তি নেই তারাই বেকার বসে বসে সমাজে প্রতিষ্ঠিতজনদের নিয়ে কয়েকদিন পর পর এলোমেলো কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখে প্রকারান্তরে আলোচনায় থাকতে চায়, লাইমলাইটে আসতে চায়। কিন্তু এভাবে কখনো লাইমলাইটে আসা যায় না। বরং আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হয়।

দলের প্রবীণ ও দায়িত্বশীল নেতারাও সুনজরে দেখছেন না নুরুল আজিম রনির এমন কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে। তারা বলছেন, শিষ্টাচার, পরিমিতিবোধ যার নেই সে কখনো আওয়ামী লীগের কর্মী হতে পারে না।

এদের রাজনৈতিক দীক্ষা বা শিক্ষা কোনোটাই নেই : হানিফ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিম সমন্বয়ক মাহবুব উল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘যারা নিজ দলের সিনিয়র রাজনীতিবিদদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে তাদের রাজনৈতিক দীক্ষা বা শিক্ষা কোনোটাই নেই। এই ধরনের ব্যক্তি নিজের সুবিধার জন্য এ কাজগুলো করে থাকে। আমি মনে করি যে নেতার অনুসারীরা এই ধরনের মন্তব্য করছে সেই নেতাদের এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত।’

হানিফ বলেন, ‘রাজনীতির প্রথম শর্ত হলো শিষ্টাচার। যাদের মধ্যে শিষ্টাচার নেই তারা আদর্শের রাজনীতির ধারায় পড়ে না। দল ভারি করার জন্য কিছু ব্যক্তি উড়ে এসে জুড়ে বসে। আর তারাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই পরিবারে হিংসার রাজনীতির সৃষ্টি করছে।’

পদ-পদবি ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কিছু বিকৃতমস্তিষ্কের মানুষ ছাত্ররাজনীতির আড়ালে এই কাজগুলো করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অপসংস্কৃতি যাতে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে না পারে সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের অনুরোধ করবো।’

অসম্মানজনক কিছু না করার জন্য তাকে বলা উচিৎ : ব্যারিস্টার নওফেল

আ জ ম নাছির উদ্দীনকে নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনির কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল করে কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছিলো না।

পরে এই বিষয়ে কথা বলার আগ্রহ পোষণ করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে তিনি ফিরতি বার্তায় একুশে পত্রিকাকে জানান, ‘যদি তিনি (রনি) কিছু লিখেও থাকেন, সেটা লেখার জন্য আমি প্ররোচিত করিনি। সুতরাং, এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করার অবস্থান আমার নেই। যদি তার (রনি) লেখায় অসম্মানজনক কিছু থাকে সেটা যাচাই করে দেখতে হবে এবং অসম্মানজনক কিছু না করার জন্য তাকে বলা উচিৎ।’

পরিমিতবোধ না থাকলে ‘অসম্মানজনক’ পরিণতি ভোগ করতে হবে : ব্যারিস্টার বিপ্লব

রাজনীতিতে সবার মাঝে পরিমিতিবোধ ও সহিষ্ণুতা থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এ প্রসঙ্গে একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে পরিমিতিবোধ না থাকলে সামগ্রিকভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, দলে ভুল বার্তা যায়।

আমাদের সবার উচিত যার যে প্রাপ্য সম্মান তাকে সে সম্মান দেওয়া। তা না হলে একদিন তাকেও সেই অসম্মানজনক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এটি নিন্দনীয়, সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত আসা উচিৎ : আমিন

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যক্তির প্রতি পছন্দ-অপছন্দ, ঘৃণা-ভালোবাসা থাকতেই পারে, কিন্তু কারো ভুলে গেলে চলবে না যে, আ জ ম নাছির চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই তাকে সে পদে বসিয়েছেন। কাজেই দলের প্রতি নূন্যতম আদর্শ-আনুগত্য যার আছে তিনি কখনোই এমন ব্যাঙ্গাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পাবলিক প্লেসে করতে পারেন না।’

এমন ব্যাঙ্গাত্মক অপপ্রচার যেই করুক সেটিকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে এ ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবা উচিৎ এবং সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সদস্য আমিনুল ইসলাম।

‘আমি মনে করি এধরনের আচরণ সভ্যতা-বভ্যতা বহির্ভূত তো বটেই, চরম শিষ্টাচারবিরোধী। এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবা এবং প্রয়োজনে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আসা উচিত।’

শিষ্টাচার যাদের নেই তারাই এই ঘৃণিত কাজগুলো করে : সুজন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন থাকলেও এর বহিঃপ্রকাশ কখনোই অশোভন আচরণের মাধ্যমে হতে পারে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিকে অনুসরণ করে। আর যারা অন্তরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে তারা কখনো নিজ দলের প্রবীণ রাজনীতিবিদ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারে না।’

সুজন বলেন, ‘নিজ দলের সিনিয়র রাজনীতিবিদদের অবজ্ঞা করে একজন সাবেক ছাত্রনেতা যা তা বলতে পারে না। আলোচনা-সমালোচনা করার অধিকার সবারই আছে, তবে তা গঠনমূলক হতে হবে, ব্যাঙ্গাত্মক নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিষ্টাচার যাদের মধ্যে নেই তারা এই ঘৃণিত কাজগুলো করে। শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতি আমরা কখনও সমর্থন করি না।’

NO COMMENTS

Leave a Reply