Home চট্টগ্রাম মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট লেখকদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়,ভাতা ও আলাদা চাকরি কোটার...

মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট লেখকদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়,ভাতা ও আলাদা চাকরি কোটার দাবি জানিয়েছেন কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর নজরুল ইসলাম হাবিবী

0 0

“অক্ষরে অমরতা”শ্লোগানের পতাকাবাহী, ইউকে এবং বাংলাদেশ থেকে রেজিস্টার্ড চ্যারাটিবল অর্গানাইজেশন, আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন, ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’এর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বিশ্বের সামনে ও বিশ্ববাঙালির সামনে গতকাল ০৩.১০.২০২০ আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি দাবি পেশ করেছেন।(এক)
তিনি বলেছেন,আমরা জানি বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আছে,যাতে সরকার জনগণের সেবা করতে পারে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি আছে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দেখাশোনা করেন।কিন্তু যারা সভ্যতা নির্মাণে লেখালেখি করে, জাতির কথা, পতাকার কথা বলে তাদের জন্য আলাদা কোন মন্ত্রণালয় নেই।লেখকগণ যেন এক অবহেলিত জনগোষ্ঠি। অসহায়, নীরব দর্শক। সংসদে, সংবিধানে তাঁদের কথা উঠে না, কেউ তাঁদের দুঃখ, কষ্ট নিয়ে কথা বলে না। অথচ তাঁরাই আমাদের সভ্যতার, জাতির নির্মাতা,আমাদের পথ প্রদর্শক। লেখকেরাই যোগ্য প্রশাসক সৃষ্টি করে সংসদে পাঠান। অথচ সংসদে তাঁদের কোনো প্রতিনিধি নেই, তাঁদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই।’কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন।এ সংগঠন মনে করে, একটি “লেখক মন্ত্রণালয়” আমাদের বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন।এখানে লেখকের কথা,পল্লী-সাহিত্যের কথা আলোচিত হবে। অসহায় -গরীব লেখকদের বই প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। এই মন্ত্রণালয় গ্রাম-গঞ্জের প্রবাদ-প্রবচন, আউল বাউলদের কথা, কাহিনি সংগ্রহ করবে এবং প্রকাশ করবে।
আমরা যারা বাংলা ভাষাকে ভালবাসি, আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, আমাদের সাহিত্যের এক বিরাট অংশ, এক অমূল্য অংশ- প্রবাদ-প্রবচন, গৎ, গাথা, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, আঞ্চলিক, ভজন- কীর্তন, বাউল গাড়িয়াল সংগীত সহ অসংখ্য অসংখ্য মূল্যবান সাহিত্য পথে ঘাটে পড়ে আছে। দেশের জন্য, বাংলাভাষার সমৃদ্ধির জন্য, এ সব সংগ্রহ করা, রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। (দুই)লেখকরা সাহিত্য নির্মাণ করে। সমাজ সভ্যতা নির্মাণ করে। যাদের উপর পড়াশোনা করে আজ আমরা মানুষ হয়েছি, মানবসভ্যতাকে, পিতা-মাতাকে, জাতিকে, জাতীয় পতাকাকে চিনতে শিখেছি, সেই লেখকেরা বড়ই অবহেলিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, ক্ষুধার্ত। বিনা চিকিৎসায়,বিনা সেবায় মারা যায়। কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ আশা করে, এ রকম পরিবারের জন্য সরকার ভাতা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। তাঁদের ছেলে সন্তানকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করবে। আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করবে। তাঁদের সামাজিক সম্মান এবং নিরাপত্তা বিধান করবে।”লেখক ভাতার” নামে সরকার তাঁর পরিবার পরিজন,অসহায় লেখক, গরীব ও গ্রামের লেখকদের কিছুটা দায়িত্ব বহন করতে পারে এবং “লেখক কোটা” সৃষ্টি করে লেখকদের ছেলেমেয়েদেরকে চাকরির ব্যবস্থা করা দরকার বলে ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ মনে করে।মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট বিষয়টি কঠিন নয় বলে তিনি মনে করেন এবং তিনি আরও বলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনি এইরূপ একটি মন্ত্রাণালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন। বিশ্বের কাছে
আপনি ইতিহাস হয়ে থাকবেন।লেখকরা আপনাকে নিয়ে লিখবেন। তাঁরা বাংলা-সাহিত্যে নতুন করে আপনাকে চিরঞ্জীব করে রাখবেন।
তিনি আরও বলেন আমরা কথা দিতে পারি, আমরা ইউরোপ, আমেরিকা তথা বিশ্ব থেকে উক্ত মন্ত্রণালয়ের জন্য যথাসাধ্য অর্থ সংগ্রহ করবো।বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের সংগঠন আছে, লক্ষ লক্ষ অনুসারী আছে। তারা আপনাকে ও বাংলা দেশ ও
সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখবে।
তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার অনুরোধ করেন।দেশের স্বার্থে পল্লী-সাহিত্য রক্ষায়, একটি”লেখক-মন্ত্রণালয়’ গঠন করবেন।”লেখক কোটা” চালু করবেন। “লেখক ভাতা” চালুর মাধ্যমে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, যা বিশ্বের আর কোনখানে নেই।
‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ চায় এর কার্যক্রম বাংলাদেশ থেকে শুরু হোক। বিপ্লবটি পর্যায়ক্রমে আমরা বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে দেবো আপনাকে সাথে নিয়ে।
আপনার মাধ্যমে আমি এ রকম একটি বৈশ্বিক এবং যৌক্তিক দাবি সারা বিশ্বের লেখকের স্বার্থে জাতিসংঘে উত্থাপন করতে চাই। আপনি এবং বাংলাদেশ আরেকটি ইতিহাসের অধ্যায় হয়ে থাকবেন বলে তিনি মনে করেন।এখানে উল্লেখ্য,ইতিমধ্য আবেদনটি বাংলাদেশ হাই কমিশন ইন ইউকে এবং বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply