Home চট্টগ্রাম অবৈধ দখল এবং কর্পোরেশনের ভাগাড় থেকে উচ্ছিষ্ট মধু আহরনকারী মৌমাছিদের বিরুদ্ধে জিহাদ...

অবৈধ দখল এবং কর্পোরেশনের ভাগাড় থেকে উচ্ছিষ্ট মধু আহরনকারী মৌমাছিদের বিরুদ্ধে জিহাদ চলবে -সুজন

0 0

সিটিজি ট্রিবিউন আয়াজ আহমাদ :চট্টগ্রাম, ০২ অক্টোবর ২০২০ইং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়ে বলেন, আমি জনগণের হাটা চলার পথ জনগণকেই ফিরিয়ে দিতে চাই। জনগণের সম্পদ কারও দখল করার অধিকার নেই। যতদিন দায়িত্বে আছি ততদিন আমার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হকার হোক আর যতো প্রভাবশালীই হোক রাস্তা কিংবা ফুটপাত কোনভাবেই দখল করা যাবে না। আমার এ উদ্যোগ চলমান থাকবে।

আজ শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর অলংকার মোড় হতে তাসফিয়া পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং রোডের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিক পরিদর্শনকালে প্রশাসক নগরবাসীর উদ্দেশ্য এসব কথা বলেন। এসময় অলংকার মোড়ের ফুটপাত দখল করে সারিবদ্ধ দোকানগুলো তাৎক্ষণিক তুলে দেন তিনি।

চলতি পথে ফুটপাত দখল করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন আইনে পেলে তিল পরিমাণ জায়গাও ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন দখলবাজদের বিরুদ্ধে আমার জিরো টলারেন্স নীতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে অবৈধ দখল এবং কর্পোরেশনের ভাগাড় থেকে উচ্ছিষ্ট মধু আহরনকারী মৌমাছিদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ তৎপরতা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাকালীন সময়ে পূর্বে উচ্ছেদকৃত ফুটপাত আবার সেই আগের মতো দখলে যাচ্ছে। এবিষয়ে আমার কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়শই তথ্য আসছে। তাই আমরা তাদের সতর্ক পর্যবেক্ষন করছি। নিউ মার্কেট এলাকার পরিস্থিতি এতোদিন আপনারা দেখেছেন। আর এখন বদলে গেছে নগরীর চিরচেনা সেই ফুটপাতের চেহারা। থেমেছে হকারদের দৌরাত্ম্য। চলাচলের পথে নেই ভাসমান দোকানপাট। হকারদের শৃংখলিত করার কারণে সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে রাস্তাঘাটে।

জনগন এখন নির্বিঘ্নে হাটাচলা করতে পারছে। স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাতায়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না কেউ। এমন অবস্থায় ফিরেছে নগরী। আমি মনে করি প্রচেষ্টা আর নাগররিক মূল্যবোধ থাকলে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি বাসযোগ্য নগরী রেখে যেতে পারবো। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ফুটপাতে কোনোভাবেই হকার বসতে দেয়া হবে না।

ফুটপাতে রেখে যাওয়া চৌকি অপসারন করা হবে। তিনি পিসি রোডে বসবাসকারীদের আরো কিছুদিন ধৈর্য্য ধারনের আহবান জানিয়ে বলেন এই সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ সহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে এসব সমস্যা সমাধান সহ নানাবিধ বিষয়ে নগরীর সম্মানিত নাগরিকরা উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছেন।

আশার বানী হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে এই সড়ক প্রান ফিরে পাবে। তিনি দীর্ঘ সময় ঐ এলাকার লোকজন বর্ননীয় কষ্ট সহ্য করায় দুঃখ প্রকাশ করেন।এরপর প্রশাসক নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ষ্ট্র্যান্ড রোড পরিদর্শনে যান। সেখানে চলমান মেকাডম কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন এই সড়কে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচল করে বিধায় কাজের গুনগত মান অবশ্যই ঠিক রাখতে হবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।

এসময় এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ায় প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান। উপস্থিত নগরবাসী প্রশাসককে এ রাস্তার আশীর্বাদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথেই এ সড়ক প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, এই নগর আমাদের আপনাদের সকলের। আমরা একদিন থাকবো না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই নগরে বসবাস করবে।

তাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তাই আমাদের এই নগরকে একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন আধুনিক মানবিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

পরিদর্শনকালে প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ তৈয়ব,বিপ্লব দাশ, ঠিকাদারদের প্রতিনিধিবৃন্দসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply