Home অপরাধ চকরিয়া খুটাখালীতে পাওনা টাকার জন্য দুই শিশুকে হত্যার চেষ্টা

চকরিয়া খুটাখালীতে পাওনা টাকার জন্য দুই শিশুকে হত্যার চেষ্টা

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে গর্জনতলীর ঘাটি রাস্তার মাথায় পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর রাজু আক্তার (১১) ও রিয়াজ উদ্দীন (৭) নামের দুই শিশুকে হাতের কজ্বি কেটে ও জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। আহত সহোদর ভাই-বোনের বোনের দুই হাতের কব্জি কেটে ফেলা ছাড়াও শরীরের আটটি স্থানে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয় জনতা দুই শিশুকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া কাপড় ও এক জোড়া সেন্ডেল উদ্ধার করেছে। বাবার কাছ থেকে পাওনা টাকার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১০ টার দিকে দুবৃত্তরা এই নৃশংস ঘটনা ঘটান।

নৃশংসতার শিকার দুই শিশু ভাই-বোন রিয়াজ উদ্দিন ও রাজু আক্তার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের গর্জনতলী গ্রামের আবদুর ছবির সন্তান।শিশু রাজু আক্তার গর্জনতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় এবং রিয়াজ উদ্দিন একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।শিশুদের দিনমজুর বাবা আবদুর ছবির বলেন, আবদুর রহিম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি আমার কাছ থেকে কিছু টাকা পাওনা ছিল।

সেই টাকা দিতে না পারায় তিনদিন আগে আমার স্ত্রী মিনা আক্তারকে হুমকি দিয়ে যায়, বড় ধরণের ঘটনার শিকার হবো আমরা।সেই হুমকি দেয়ার তিনদিন পর সোমবার সকালে আমার দুই অবুঝ শিশুকে বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গলের ভেতর। সেখানে দুই শিশুকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।তবে ছেলে রিয়াজের গলায় চালানো ধারালো অস্ত্রের কোপ সহ্য করে পালিয়ে পাশের সড়কে এসে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যায়।

এসময় মেয়ে রাজুর ওপরও চালানো হয় নৃসংশতা। রাজুর দুই হাতের কব্জি কেটে ফেলাসহ শরীরের আট স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়েছে।ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাবা আবদুর ছবির বলেন, আমি এবং স্ত্রী ঋণের কিস্তির টাকা দিতে ঈদগাঁহ যাই। সেই সুযোগে দুই শিশুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে পূর্ববিরোধ থাকা আবদুর রহিম ও তার লোকজন।

চকরিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শিশুর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেছি। শিশুর প্রতি এমন অমানবিকতার সাথে যারাই জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তপূর্বক তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
……..

NO COMMENTS

Leave a Reply