Home অপরাধ হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের এম আই ও প্রতারক ফিরোজ হোসেনের অপরাধ ফাঁস।

হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের এম আই ও প্রতারক ফিরোজ হোসেনের অপরাধ ফাঁস।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃফিরোজ হোসেন রাজশাহী বিভাগের পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল বাসুপাড়া গ্ৰামের গরিব কৃষক মোঃ আব্দুস সালাম এর মেজো পুত্র ।

ছোটবেলা থেকেই অনাহারে অনাদারে জীবন যাপন ।অভাবের পরিবারে বাবা উপার্জিত টাকায় কোনভাবে দিন কাটে তাদের। অভাব থাকায় হয়নি ভালো স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ। লেখাপড়ার খরচ চালাতে লোকের বাড়ি ও ক্ষেতে কাজ করতে হয় ফিরোজ হোসেনকে।ভাগ্যজোরে ইন্টার পাশ করে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়। শুরু হয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা । বোটানি শাখায় অনার্স পড়ুয়া কালে পরিচয় হয় রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের মেয়ে নাসরিন আক্তার রুমার সাথে।

প্রেম-ভালোবাসাযর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুবিধার্থে দীর্ঘদিন নাসরিন আক্তার রুমা ফিরোজকে সার্বিক সহায়তা করতে থাকে । নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে নগদ অর্থ সহ হাতখরচ প্রদান করেন। নাসরিন আক্তার রুমার সহায়তা নিয়ে ফিরোজ হোসেন আর্থিক সহায়তা পেয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকা রেনাটা ঔষধ কোম্পানিতে ট্রেনিং করতে আসেন ২০১৭ইং আগস্ট মাসে। কোম্পানিতে ট্রেনিং করতে আসায় ঢাকাতে থাকার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাদিনীর পরিচিত ভাইকে সাহায্যের জন্য জানায় ।

তখন বাদিনী ফিরোজ হোসেন,শওকত, বাপ্পী আরো অনেককে থাকার জন্য নিজ ভাড়া বাসা ও পাশের বাসাতে স্থান করে দেয়। বাদিনীর সাথে কিছুদিন যেতে ই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ফিরোজ হোসেন রেনাটা ফার্মাসিটিকালে চাকরি না হওয়ায় ব্যর্থ হয়ে রাজশাহী নিজ বাড়িতে ফিরে যান। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হেলথকেয়ার ফার্মাসিটিক্যাল এর ট্রেনিং এর জন্য আবারও ঢাকায় আসেন বাড্ডায় বন্ধু আলমের বাসায়। নাসরিন আক্তার ও বাদিনীর সঙ্গে সম্পর্ক চলমান রাখেন ফিরোজ।

ঢাকাতে বাদিনী তাকে সার্বিক সহযোগিতা করে। বাদিনীর সাথে ফিরোজের ভালবাসার সম্পর্ক থাকায় উভয়ের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের ট্রেনিং শেষে হেলথকেয়ার কোম্পানি থেকে ফিরোজ হোসেনকে চাঁদপুর জেলা ধীন কালীবাড়ি এলাকায় কর্মস্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয় । কর্মরত অবস্থায় থাকার সুব্যবস্থার জন্য কালি বাড়ি সংলগ্ন ছায়াবানী হতে আলিমপাড়া স্কুল রোড সিদ্দিক মহল মোঃ জিল্লুর রহমানের বাসাতে নিচ তলায় বসবাস করতে থাকেন।

এমতাবস্থায় ফিরোজ হোসেন বাদিনী কে স্ত্রী হিসেবে চাঁদপুরের বাসায় নিয়ে যায়।চাঁদপুরের ভাড়া বাসায় সকলের সঙ্গে খুব ভালো সময় এবং ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়ে যায় বাদিনী ও ফিরোজের।চাঁদপুর থাকাকালীন কম বেতনে চলতে কষ্ট হওয়াতে ফিরোজ হোসেন নাসরিন আক্তার রুমার কাছে টাকার সহযোগিতা চাই। এভাবে একাধিক বার টাকা দিয়ে নাসরিন আক্তার রুমা বুঝতে পারে ফিরোজ তাকে ব্যবহার করছে ।

সব রকম সুবিধা ভোগ করছে এমতাবস্থায় নাসরিন আক্তার রুমা ফিরোজকে না জানিয়ে গোপনে দেলোয়ার হোসেন নামে গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকা সংলগ্ন একটি ছেলেকে বিয়ে করে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে । একথা জানার পর ফিরোজ হোসেন নিরুপায় হয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে তোলা ব্যক্তিগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করে। এমনকি বিবাহিত নতুন বর দেলোয়ারকে নোংরা ও অপমানজনক কথা বলে।

এ অবস্থার পরিপেক্ষিতে দেলোয়ার হোসেন ও নাসরিন আক্তার এর পরিবার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানায়। ফিরোজ হোসেন ঘটনা শোনার পর নাসরিন আক্তার রুমার বাড়িতে তানোরে চলে যায়। নাসরিন আক্তার রুমার বাবা আইনি প্রক্রিয়ায় হুমকি দেখালে ফিরোজ হোসেন সেখান থেকে ব্যর্থ হয়ে চাঁদপুরে ফিরে আসে। বাদিনী জানতে চাইলে মিথ্যা কথা বলে সান্ত্বনা দেয়। এভাবে দীর্ঘ এক বছর যেতে না যেতেই ফিরোজ হোসেন তার বহুরূপীতা দেখাতে শুরু করে।

বাদিনী কে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে। বাদিনী গর্ভবতী হওয়ার কথা জানলে আত্মহত্যার কথা বলে ভয় দেখিয়ে গর্ভপাত করা। বাদিনী বাধ্য হয়ে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করে এবং ফিরোজ একটা প্রতারক এটা বুঝতে পারে। এজন্য তাদের বিয়ের কাবিন সম্পর্কে জানতে চাই।ফিরোজ হোসেন বলে ওটা বিয়ে ছিল না একটা লোক দেখানো নাটক ছিল। তখন বাদিনী ঝগড়া করে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানায়।১৫-১১-২০২০ ইং বাদিনীকে মারধর করে চাঁদপুরে সিদ্দিক মহলের বাসা থেকে বের করে দেয়।

বাড়িওয়ালাকে ফিরোজ হোসেন জানায় বাদিনী কে ডিভোর্স করেছে সে এ বাসায় আর থাকতে পারবেন না। বাদিনী চাঁদপুর পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করে। ১২-২-২০২তারিখ অভিযোগের ভিত্তিতে ফিরোজ হোসেন কে চাঁদপুর মডেল থানা হাজতে প্রেরণ করা হয় এবং ৯ এর (ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।এসআই হানিফ দরিদ্র পরিবারের কথা বিবেচনা করে বাদিনীকে বলেন ফিরোজকে ক্ষমা করে তার ভুল শুধরানোর জন্য আরও একটি সুযোগ দিতে বাদিনী এতে রাজি হয়। বাদিনী নিজ জিম্মায় তাকে থানা থেকে নিয়ে আসে।

ফিরোজ হোসেন চালাকি করে বাদিনীকে জানায় সে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে তাকে ক্ষমা করে দিতে হবে। একাধিকবার মুঠোফোনে এসএমএস করে ক্ষমা চাই। এমনকি পুলিশ সুপারের কর্মরত ডি বি অফিসার আব্দুর রউফকে দিয়ে (বাদিনীর) বিষয়টি টাকা প্রদানের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে এবং এ চেষ্টার প্রক্রিয়াও ব্যর্থ হয়। ( বাদিনী) ১৭-২-২০২০ ইং সালে জজকোট বরাবর মামলা দায়ের করে।

নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল ৯ এর (ক) ধারায় মামলাটি পিবিআই অফিসার ইব্রাহিমের দায়িত্বে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরেজমিনে জানা যায় (বাদীনি) বর্ণিত ঘটনাটি সত্য এবং চাঁদপুরের বাড়িওয়ালা জিল্লুর রহমান সহ প্রতিবেশী কাজের বুয়া ও অন্য লোকেরা সত্য বলে স্বীকার করে। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি সত্য এবং( বাদিনী)ফিরোজ হোসেন কে থানা থেকে নিজ দায়িত্বে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। সে একজন প্রতারক।

পি বি আই অফিসার ইব্রাহিম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি সত্যতার প্রমাণ পেয়েছি প্রক্রিয়া গত ভাবে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জামিরুল হোসেন জানান, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি প্রমাণিত হলে আমরা তাকে কর্মস্থান হতে বহিষ্কার করবো।

NO COMMENTS

Leave a Reply