Home অপরাধ কক্সবাজার জেলায় ‘বড়’ মাদক কারবারীরা অধরাই রয়ে গেলো।

কক্সবাজার জেলায় ‘বড়’ মাদক কারবারীরা অধরাই রয়ে গেলো।

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১১ সেপ্টেম্বর।।

কক্সবাজার জেলায় ‘বড়’ মাদক কারবারীরা অধরাই রয়ে গেলো।
গত কয়েক বছরে মাদকের বিস্তার ঘটেছে কয়েক গুণ। বেড়েছে মাদকের মামলার সংখ্যা, কিন্তু বাড়েনি মাদকের বিরুদ্ধে সে পরিমাণ উদ্ধার অভিযান। পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার পর পুলিশ সহ অন্যান্য সংস্থা একপ্রকার ব্যস্ত রয়েছে। যার সুযোগ নিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা।
তবে, গত ৪০ দিনে (১ আগষ্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বিজিবি,মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে কয়েককোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার ও বেশকিছু ইয়াবা কারবারীকে আটক করেন। এরপরেও থেমে নেই মাদক পাচার।
জানা গেছে,২০১৭ সালের কক্সবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের পর গত ২৩ মাসে বড়বড় ইয়াবা গডফাদাররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। অনেকে আত্নসমর্পণ করে আছেন কারাগারে। অস্ত্র ইয়াবা নিয়ে আটকও হন অনেকে। জেলায় গত ২২ মাসে বন্দুক যুদ্ধে মারা যান মাদক বহনকারী, সেবনকারী ও শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিমসহ বেশকিছু বড় ইয়াবা কারবারী।
মাদকবিরোধী অভিযানের মুখে বড় কারবারীরা আড়ালে চলে গেলেও বন্ধ ছিলনা তাদের ইয়াবার কারবার।
৩১ জুলাই রাতে বাহারছড়া শামলাপুর এবিপিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে মেজর অবঃ সিনহা মো.রাশেদ খান হত্যা কান্ডের পর টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১০ পুলিশ সদস্য জেলে যাওয়ার পর গত ১ আগষ্ট থেকে এ (১১ সেপ্টম্বর) পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে ভাটা পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে বড়বড় অনেক ইয়াবা কারবারীরা আবারও ফিরতে শুরু করেছে জনপদে।
পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছেন, মেজর ( অবঃ) সিনহা মো.রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলার হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ থানার লোকজন ওসি প্রদীপসহ পুলিশের বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করছেন। এতে করে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। বিভিন্ন মামলার আসামী ধরা, ছাড়াসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকান্ড স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অনেকটা বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও সুত্রে প্রকাশ। এবিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একটি দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে, বড় ইয়াবা কারবারীদের আটক কিংবা তাদের আত্মসমর্পণ করানোর কোনো উদ্যোগ নেই। নানা কৌশলে রুট বদল করে তারা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা পদক্ষেপের পরও থামছে না ইয়াবা প্রবেশ। এর উৎসভূমি মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভয়াবহ এ মাদক।
এছাড়া বঙ্গোপসাগর হয়ে উপকূলীয় বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েও আসছে ইয়াবার চালান। এসব অঞ্চলে ৩ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তালিকাভুক্ত এবং এর বাইরে থাকা মাদক কারবারিরা আটক হয়েছে। কিন্তু অধরা থেকেই গেছে অধিকাংশ ইয়াবার নেপথ্য নায়করা। নানা কৌশলে তারা মাদকের এ অবৈধ ব্যবসা জিইয়ে রেখেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, শুধু অভিযানেই বন্ধ হবে না মাদক প্রবেশ। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সীমান্তে নিশ্ছিদ্র প্রহরা, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত বন্ধ, মাদকের চাহিদা হ্রাস, মাদকসেবীদের পুনর্বাসনসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া একক কোনো বাহিনীকে দায়িত্ব না দিয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তারা।
গত একমাস ধরে র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ছে ইয়াবার চালান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইয়াবা ব্যবসার নেপথ্যে নায়কদের কাবু করা না গেলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে সাফল্য আসবে না।

NO COMMENTS

Leave a Reply