Home চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১১ ইউনিটের কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে স্থগিত করা...

দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১১ ইউনিটের কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১১ ইউনিটের কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। আর এ অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্ব প্রাপ্ত চার নেতার বিরুদ্ধে।

গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উপস্থিতিতে যুবদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় টীমের পর্যালোচনা শেষে জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর ১১ ইউনিটল ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করেন।

ঘোষিত কমিটি গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতাদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিট কমিটি গুলো করার সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি কমিটির বিষয়টি জানেন না চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। আর ঘোষিত ১১ ইউনিট কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের আর্থিক লেনদেন নিয়ে জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগের তীর যাচ্ছে যুবদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, বিভাগীয় সহ- সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগরের বিরুদ্ধে।

মোশাররফ হোসেন দিপ্তী নোয়াখালী অঞ্চলের হওয়াতে বিএনপিতে তার প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ, মহানগর ও উত্তর জেলায় নিজের ইচ্ছে মতো যুবদলের কমিটি করছেন। শুধু মাত্র অর্থের বিনিময়ে পদ পদবী বিক্রী করছেন তিনি। তার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে আছে চট্টগ্রামের সিনিয়র বিএনপির নেতারা।

সূত্র জানিয়েছে, খোদ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ানের নির্বাচনী এলাকা বোয়ালখালীতে তার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়নি। একই ভাবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাঁশখালী আসনের বিএনপির দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে আলাপ না করেই বিতর্কিত বিএনপি নেতা লেয়াকত আলী চেয়ারম্যানের অনুসারীদের প্রাধান্য দিয়েই গঠন করা হয়েছে উপজেলা কমিটি। আর কমিটিতে আহবায়ক করা আবু আহমেদের বিরুদ্ধে মাদক ও জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলা কমিটি নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও পৌরসভা কমিটির আহবায়ক করা রায়হান এলডিপির ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের নেতা বলে দাবি করেছেন পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রবিউল হোসেন ছোটন।

লোহাগড়া উপজেলা কমিটি জেলা বিএনপির সদস্য লায়ন নাজমুল মোস্তাফা আমিনের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে তার অনুসারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা না করেই ইচ্ছে মতো আর্থিক লেনদেনে এ কমিটি হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম নামের সাবেক এক যুবদল নেতা।

জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানকে খোদ তার নিজ উপজেলায় আনোয়ারায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিকাশ শাহজাহান উপাধি আনোয়ারা উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব রয়েছে লায়ন হেলাল উদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারীরা।

লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, লোহাগড়া উপজেলায় যাদের দিয়ে যুবদলের কমিটি দেওয়া হয়েছে তারা কেউ দলের সক্রিয় নেতা না, আন্দোলন সংগ্রামে তাদের কোন ভূমিকা ছিল না। এ কমিটি সম্পূর্ণ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাব শীগ্রই।

চন্দনাইশ পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রবিউল হোসেন ছোটন বলেন, ২০০৬ সালে রায়হান এলডিপির ছাত্রদলে যোগ দেন, তিনি কোন আন্দোলন সংগ্রামে ছিল না, সম্পূর্ণ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এটি করা হয়েছে। আমরা এ কমিটি বাতিল করার আবেদন জানাচ্ছি না হলে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র এক নেতা জানান, সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। ১৫ লাখ টাকা নিয়ে লোহাগড়ায় জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল মোস্তাফা আমিনের অনুসারীদের রাখা হয়েছে, চন্দনাইশ পৌরসভায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে এলডিপি নেতা রায়হান আহবায়ক করা হয়েছে, আনোয়ারা উপজেলা কমিটির জন্য আহবায়ক করা হারে থেকে ও সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজামের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।

একই ভাবে বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গিয়ে বিতর্কিত বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার পিএস আবু আহমদকে আহবায়ক করা হয়েছে। তৃণমুল নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করা হবে। কমিটিতে হয় তো তারা দুই জন থাকবে, না হয় আমরা।

সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আর্থিক লেনদেনের কোন কিছুই হয়নি। যারা পদ পায়নি তারাই এসব বলছেন। এখন তো কমিটি স্থগিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় টিম যাছাই বাছাই করুক, তারপর দেখা যাবে।

তবে এ বিষয়ে জানার জন্য কেন্দ্রীয় যুবদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সহসম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

NO COMMENTS

Leave a Reply