Home চট্টগ্রাম পর্যটন শহরে সড়কের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ” ভোগান্তিতে জনসাধারণ “

পর্যটন শহরে সড়কের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ” ভোগান্তিতে জনসাধারণ “

0 0

নুরুল আমিন, কক্সবাজারঃপর্যটন শহর কক্সবাজারের সড়ক উপ সড়ক গুলোর এখন বেহাল দশা।খানা খন্দে ভরপুর এসব সড়ক উপ সড়ক গুলো দিয়ে যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা মনুষ্য যাতায়াতও দূরহ হয়ে পড়ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রধান সড়ক সহ তার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী উপ সড়কগুলোর কোথাও কোথাও কার্পেটিং ওঠে গিয়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহন সড়ক সমূহে চলতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।সড়কের এমন কাহিল অবস্হায় পথচারী সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে শহরের প্রান কেন্দ্র লালদিঘি পাড় থেকে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত ৫ কি: মি রাস্তার প্রায় সাড়ে ৩ কি: মিটার সড়ক খানা খন্দে ভরপুর এর মধ্যে।বাজারঘাটা পয়েন্টের অবস্হা আরো করুন। তাছাড়া রুমালিয়ারছড়া,তারাবনিয়ারছড়া,আলীরজাঁহাল থেকে সদর উপজেলা গেট পর্যন্ত সড়কের কোথাও কার্পেটিং আবার কোথাও ইট সুরকী খসে পুকুর সম গর্তে পরিনত হচ্ছে।এরপরও এই ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গাচোড়া সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ যানবাহনেও পায়ে হেটে নিত্যদিনের যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছে।

ঝুঁকির মধ্য দিয়ে গন্তব্য স্হলে পৌঁছতে গিয়ে মানুষ সড়ক দূর্ঘটনারও শিকার হচ্ছে। এই শহরের বিভিন্ন উপ সড়ক ও অলিগলির চিত্রও একই।প্রধান সড়কের সাথে সংযোগ সড়কের মধ্যে কোর্ট বিল্ডিং থেকে কলাতলী প্রেসক্লাব, সার্কিট হাউজ এলাকা, বিমানবন্দর রোডের ৬ নং ফিসারিঘাট,নুনিয়াছড়া,হলিডেমোড় থেকে কুতুবদিয়া পাড়া,বড়বাজার পয়েন্টের অলিগলি, চাউল বাজার থেকে মাঝিরঘাট,হাসপাতাল সড়ক ও ষ্টেডিয়াম এলাকা,

টেকপাড়া বইল্যাপাড়া,গোলদিঘির পাড় থেকে ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত সড়কে ছোটখাটো যানবাহন রিক্সা, টমটম ও সি এন জিতে চলাচল করতে গিয়েও প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে।এছাড়াও সদর হাসপাতালের পুরনো গেট থেকে ডিসি এসপি জজ আদালত ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যাতায়াতকারী রাস্তাটির কাষ্টম অফিসের আগেও পরের অংশ পানি বালুতে একাকার হয়ে একাংশ পাহাড়ি টিলায় রুপ নিয়েছে।

বিশ্বখ্যাত পর্যটন শহর কক্সবাজারে দেশি বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে উল্লেখযোগ্য হারে।শহরের ভিতরে ও বাইরের পর্যটন স্পট গুলো দেখতে পর্যটকরা প্রধান সড়ক ও উপ সড়ক গুলো দিয়ে যাতায়াত করায় যানবাহনের চাপও কম নয়।কিন্তু ব্যস্ততম এসব সড়কে সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণে দায়িত্ব প্রাপ্তরা এ সম্পর্কে বে খবর বলে মনে হয়।পৌরসভা, সড়ক বিভাগ ও আরো কয়েকটি অবকাঠামো উন্নয়নের সরকারি দপ্তর এসব সড়ক নিয়মিত তদারকি,

সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ উপযুক্ত সময়ে না নেয়ায় প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের দূর্বিসহ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এ অভিযোগ অভিঙ্গ মহলের।তাছাড়া সড়ক উপ সড়ক গুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান গুলো শুষ্ক মৌসুমে সংস্কার কিংবা মেরামত না করে বর্ষা এলেই এসব কাজের আয়োজন করায় পাহাড়ের ঢল ও বৃষ্টির পানি এসব সড়কে জমে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। ছোট গর্ত ক্রমান্বয়ে রুপ পাচ্ছে বড় গর্তের।

এছাড়াও শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্হা তেমন সুবিধার না হওয়ায় লাগাতার বৃষ্টির পানি ও সরে যেতে না পেরে একস্থানে জমাটবদ্ধ থাকায় যানবাহনের কড়া ব্রেকে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়েও গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।এই পানি যানবাহনের চাকায় ছিটকে গিয়ে পথচারী মানুষের শরীরে পড়ছে।পর্যটন শহর কক্সবাজারের প্রধান ও উপ সড়ক গুলো সংস্কার, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আরো উদার স্বচ্ছতা চান পৌরসভার জনগন।

উন্নয়নের নামে অবহেলা, অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে যুক্ত ঠিকাদার ও ঠিকাদারী সংস্হা কে জনগুরুত্বের এসব সড়কের কাজ দেওয়া কোনভাবেই উচিত নয়।তাছাড়া পরিকল্পনাহীন সড়ক সংস্কারে অভিযুক্তদের উৎসাহ না দিয়ে উপযুক্ত সময়ে টেন্ডার আহবান সহ শুষ্ক মৌসুমে কাজ শেষ করার প্রতি দ্রুত ঠিকাদারী সংস্হাকে এ ক্ষেত্রে বিবেচনার দাবীও সচেতন মহলের।

এমনকি ইতিপূর্বে সংস্কার মেরামতে সংশ্লিষ্টদের বাস্তবায়নের নামে করা কাজের বর্তমান চিত্র দেখে তাদের ভবিষ্যৎতে কাজ না দেয়ার পক্ষেও তারা।এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান,পৌরসভার নিয়ন্ত্রিত সড়ক উপ সড়কগুলো সংস্কার, মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া শহরের ১১টি পয়েন্টে ড্রেন নির্মাণ কাজও ২৫% সমাপ্তি হয়েছে।

এম জি এস পির অর্থায়নেও কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কারনে সড়কগুলোর একপাশে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলায় শহরের সৌন্দর্যে সামান্য সময়ের জন্য ব্যাঘাত ঘটছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান,প্রধান সড়ক সংস্কার ও মেরামতের দায়িত্বপ্রাপ্তর হওয়ায় জরুরি ভিক্তিতে আমরা পদক্ষেপ নিয়ে সর্বদা বিভাগের দুটি ট্রাক জনবল ও সরঞ্জাম সহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে জরুরি ভিক্তিতে ঐ সব খানাখন্দক ও গর্তের সহসা মেরামত করা যায়।

NO COMMENTS

Leave a Reply