Home সারাদেশ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানী বন্ধে মানববন্ধন

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানী বন্ধে মানববন্ধন

0 0

বিআরটিএ কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানী বন্ধের দাবিতে আজ ২৫ আগষ্ট পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা),বারসিক,ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হর্কাস ফেডারেশন ও ঢাকা যুব ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও বানিপা’র সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হকার্স লীগের সভাপতি এম এ কাশেম,পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, বারসিকের সমন্বয়ক মো: জাহাঙ্গীর আলম,ঢাকা যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো:শহীদুল্লাহ, গ্রীণ ফোর্সের সমন্বয়ক মেসবাহ সুমন,নাসফ এর সহ সম্পাদক মো: সেলিম, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব শাকিল রেহমান,সেভ দ্য রোড এর যুগ্ম মহাসচিব মো:হাসিবুল হক, সুজন ঢাকা মহানগরের সহ সভাপতি নাজিম উদ্দিন ডব্লিউ বিবি ট্রাস্ট আতিকুর রহমান প্রমূখ।
বক্তারা বলেন,কাভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নিদির্ষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের মে মাসের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার চলাচলকারী প্রতি কিলোমিটারের সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল ১ টাকা ৪২ পয়সা।করোনাকালীন সময়ে ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে তা ২ টাকা ২৭ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে বাস ও মিনি বাসের চলাচলের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুসারে ভাড়া ১টাকা ৭০ পয়সা এবং চট্রগ্রামে ১ টাকা ৬০ পয়সা।করোনাকালীন সময়ে বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ায় এবং তা যথাক্রমে ২ টাকা ৭২ পয়সা এবং ২ টাকা ৫৬ পয়সা হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোর সময় ভোক্তা ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো আপত্তি করেছিল। করোনাকালীন সময়ে পৃথিবীর কোথাও গণপরিবহণে যাত্রীভাড়া বাড়ানো হয়নি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চাইতেও বাস্তবে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

গণপরিবহন করোনাকালীন সময়ে ৬৬দিন বন্ধের পর চালু হওয়াতে আবারও দেখা দিয়েছে নৈরাজ্য। ভাড়া ডাবল, উপেক্ষিত যাত্রী সুরক্ষা, ১১ দফা শর্ত ভঙ্গ করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে বাস চালক, হেলপার ও যাত্রী। করোনাকালীন সময়ে মানুষের হাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারনে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে নিত্যযাত্রীরা। যেমন কলাবাগান থেকে প্রেসক্লাবের দুরত্ব ৫.৬ কি:মি। এই দুরত্বে বাসভাড়া হওয়া উচিৎ ৭ টাকার মতো কিন্তু করোনাকালে এই ভাড়া ৩০ টাকার মতো নিচ্ছে। প্রতিবাদ করেও সুফল মিলছে না। অন্যদিকে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহনের কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। বিগত দিনগুলোতে দেখা গিয়েছে একটি সিন্ডিকেট পুরো পরিবহন সেক্টরকে দখল করে নিয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানি যত সংখ্যক ও যে মানের বাস চালানোর শর্তে রুট পারমিট পায় তারা তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যক এবং নিম্নমানের বাস চালায়। কোম্পানিগুলো যেখানে ৫০টি বাস চালানোর কথা সেখানে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ১০টি বাস চালাচ্ছে। এতে যাত্রীরা যথেষ্ট যানবাহন না পেয়ে রাস্তার মাঝখান থেকে চলন্ত বাসে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে বাধ্য হচ্ছে এতে দূর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে গেটলক বা সিটিং বাসের নামে অনেক বাস চলাচল করে যা অন্য ভাড়ার চাইতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে।

সম্প্রতি বিআরটিএ বাস মালিক-শ্রমিকদের সাথে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আগামী ৩১ আগস্ট পর গণপরিবহনে আর বর্ধিত ভাড়া নেয়া যাবে না। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আশাবাদী হতে পারছি না। বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ঢাকা শহরে প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৭০ পয়সার এবং দুরপাল্লার প্রতি কিলোমিটার সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল ১ টাকা ৪২ পয়সার এর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন যাত্রী চলাচল করতে পারে সেইদিকে নজর দিতে হবে।

রাস্তার তুলনায় প্রাইভেট কার ও অন্যান্য গাড়িও অনেক বেশি। কিন্তু প্রয়োজন ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা, বিশেষ করে ভালো সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন পরিকল্পনা মাফিক যাত্রীবান্ধব বড় বড় বাস। পর্যাপ্ত বাসের অভাবে এবং সড়ক পরিবহনে মাফিয়া চক্রের কারনে দুর্বৃত্ত্বদের দৌরাতœ কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না। ফলে বিশেষ করে “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮” বাস্তবায়নে শিথিলতার কারনে বেপরোয়া গাড়ি চালানো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না এবং দুর্ঘটনার নামে হত্যাকান্ড বেড়েই চলছে। সাইকেলের ব্যবহার ইদানিং বৃদ্ধি পেলেও সাইকেলের জন্য আলাদা লেন বা প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা এখনো নাই।

সুপারিশ সমূহঃ
‌১.বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ঢাকা শহরে প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৭০ পয়সার এবং দুরপাল্লার প্রতি কিলোমিটার সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৪২ পয়সার এর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
২.স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন যাত্রী চলাচল করতে পারে সেইদিকে নজর দিতে হবে।
৩.কোন শিথিলতা নয়, চাই “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮” এর পূর্নাঙ্গ ও দ্রুত বাস্তবায়ন।
৪.যাত্রী হয়রানী বন্ধ কর।
৫. বাসকে প্রাধান্য দিয়ে গণপরিবহনে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থানে স্টপেজসহ আসা-যাওয়ার সুবিধাসহ একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

NO COMMENTS

Leave a Reply