Home অপরাধ চকরিয়া থানার ওসি হাবিবসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা : ওমান প্রবাসীকে তুলে...

চকরিয়া থানার ওসি হাবিবসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা : ওমান প্রবাসীকে তুলে এনে হত্যা

কক্সবাজার প্রতিনিধ,১৭ আগষ্ট।একজন ওমান ফেরত প্রবাসীকে তুলে এনে কক্সবাজারের চকরিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিববুর রহমান ও চকরিয়া হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আমিনুল ইসলামসহ দুইজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পটিয়ার আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) পটিয়া জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন প্রবাসী জাফরের মামা ও বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী।
হত্যার আগে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ভাইয়ারদিঘী এলাকার ওমান প্রবাসী মো. জাফরকে চকরিয়ায় এনে বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগ তুলা হয়।

শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের সিআইডি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
৩১ জুলাই রাতে সেনাবাহনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিংহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যার ২ দিন আগে ওমান প্রবাসী জাফরকে পরিকল্পিত ভাবে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কথামৌজা গ্রামের মো. আবদুল আজিজের ছেলে মো. জাফর জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে ওমান প্রবাসে ছিলেন। দেশে করোনাভাইরাস শুরুর আগে ওমান থেকে জাফর দেশে ফিরেন। কিন্তু তার ভিসার মেয়াদ থাকলেও লকডাউনের কারণে জাফর আর বিদেশে ফিরে যেতে পারেনি।

৩১ জুলাই রাতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিংহা মোহাম্মদ রাশেদ খুনের ২দিন আগে ২৯ জুলাই রাতে ওমান প্রবাসী জাফরকে পটিয়ার বাড়ি থেকে সাদাপোষাকধারী কিছু ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে চকরিয়া উপজেলার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন।

কিন্তু প্রবাসীর পরিবার ওই টাকা দিতে পারেননি। ফলে পরে প্রবাসীর পরিবারের কাছে চকরিয়া থানা পুলিশ ফোন করে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য সংবাদ দেন। প্রবাসীর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন গত ৩১ জুলাই চকরিয়া থানা থেকে লাশ গ্রহণ করে পটিয়ায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন।

প্রবাসীর পরিবারের দাবি, পুলিশ তাদের দাবিতে ৫০ লাখ টাকা না পেয়ে ওমান প্রবাসীকে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে ক্রসফায়ারের নামে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে।
পটিয়া জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদির পক্ষের আইনজীবী নূর মিয়া জানিয়েছেন, ক্রসফায়ারের নামে ওমান প্রবাসীকে চকরিয়ায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

তিনি বলেন, এঘটনায় ওমান প্রবাসী জাফরের মামা মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, ২৯ জুলাই দিনগত রাত আড়াইটার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলীর গর্জন বাগানের জঙ্গলে এক নারীসহ তিনজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এদের মধ্যো একজন ওমান প্রবাসী জাফর আলম।

বন্দুকযুদ্ধ শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ, ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি বন্দুক, ১টি এলজি ও ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে বলে দাবী করা হয়।এ ঘটনায় চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান, হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আমিনুল ইসলাম, পুলিশ কনস্টেবল সাজ্জাদ ও সবুজ আহত হয় বলে প্রচার করা হয়েছিল।

এরআগে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে পুলিশ বানিয়ারছড়া এলাকা থেকে ইয়াবাসহ ১ জন পুরুষ ও ১ জন নারীকে আটক করেছিল বলে দাবী করে পুুুলিশ।তবে, পরিবারের দাবী, একইদিন পটিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. হাসানকেও চকরিয়া থানা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে ‘ক্রসফায়ারে’ তার মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

নিহত হাসান পৌরসভার পাইকপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে বলে পৌর কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। একই ঘটনায় আরো একজন নিহন হন।পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, চকরিয়া থানা পুলিশ পটিয়ায় এসে ওমান প্রবাসীকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিববুর রহমান একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

হারবাং ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিংহা মোহাম্মদ রাশেদ খুনের ঘটনায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন প্রধান আসামি পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত ও বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ দাশ কুমার দাশসহ ৭ পুলিশ সদস্য।

NO COMMENTS

Leave a Reply