Home আইন ও আদালত কক্সবাজারে গণপিটুনিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারে গণপিটুনিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১২ আগষ্ট।।

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজার এলাকায় ১০ আগষ্ট দুপুরে ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় খুচরা ইয়াবা বিক্রি কালে জনতার হাতে আটক পরবর্তী গণপিটুনির শিকার হয়ে মৃত্যু বরণকারী নবী হোসনের ভাই বাদী হয়ে এক জনপ্রতিনিধিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ পরিদর্শক খায়রুজ্জামান।
বুধবার ১২ আগষ্ট দুপুরে খরুলিয়ার ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার হাসানুল বারী। তিনি এসময় স্থানীয় লোকজন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন। তবে ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যাওয়া এমন একজন জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজনকে মামলার আসামী করা এবং গণপিটুনীর ঘটনায় জড়িত এমন কিছু লোকজনকে মামলায় আসামী না করা নিয়ে বাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ১০ আগষ্ট দুপুরে কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় খুচরা ইয়াবা বিক্রি কালে ইয়াবা ও নগদ ১ লাখ আটাশ হাজার টাকাসহ জনতার হাতে আটক হন নবী হোসেন নামের একব্যক্তি। এসময় জনগণকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফের আটক পরবর্তী গণপিটুনির শিকার হন ওই নবী হোসন। পরে
উপস্থিত লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খবর দেন। ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের মেম্বার শরিফ উদ্দিন এসে বিকেলে সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই সঞ্জয়ের হাতে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আহত নবী হোসেনকে তুলে দেয়। ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেন বাংলাবাজার পশ্চিম মুক্তারকুল এলাকার মৃত আব্দু শক্কুরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছিলেন।
পুলিশ তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দিলে তাকে থানায় আনা হয়। ওইদিন রাতে নবী হোসনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়।
পুলিশ জানায়, ১১ আগষ্ট সকাল পৌনে ৮ টার দিকে হাজতী নবী হোসেন অসুস্থবোধ করলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯ টার দিকে হাসপাতালে মারা যান নবী হোসেন।
এদিকে, এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) সৈয়দ আবু মো: শাহাজান কবিরকে ক্লোজড করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুককে বিপিএম বার পিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। একই সাথে থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর দায়িত্ব দেয়া হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুজ্জামান জানান, গণপিটুনিতে আহত নবী হোসেন মারা যাওয়ার ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ১২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি থানার এসআই আবুল কালাম তদন্ত করছেন।
অপরদিকে, বুধবার বিকালে সদরের খরুলিয়া বাজার এলাকার ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রাম ডিআইজি রেঞ্জ অফিসের এসপি হাসানুল বারী। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কক্সবাজার থানা পুলিশও ছিলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার হাসানুল বারী স্থানীয় লোকজন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন। তবে ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যাওয়া এমন একজন জনপ্রতিনিধি মো. শরীফ উদ্দিন ও এলাকায় ছিলেন না এমন কয়েকজনকে মামলার আসামী করা এবং গণপিটুনীর ঘটনায় জড়িত এমন কিছু লোকজনকে মামলায় আসামী না করা নিয়ে বাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জনগণকে আশ্বস্থ করেন এই পুলিশ সুপার।

NO COMMENTS

Leave a Reply