Home অপরাধ ইয়াবা ও অস্ত্রের সাজানো মামলায় ১৩ মাস জেলের ঘানি টানছে মাদ্রাসা ছাত্র...

ইয়াবা ও অস্ত্রের সাজানো মামলায় ১৩ মাস জেলের ঘানি টানছে মাদ্রাসা ছাত্র মোস্তফা

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১২ আগষ্ট।।

২৭ মে ২০১৯। এর তিনমাস আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাড়ী ফিরেন টেকনাফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়ার জকরিয়া প্রকাশ জকু। প্রবাসী থেকে টাকা আদায়ের জন্য তার মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু সন্তানকে গত বছরে ২৭ মে বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে যায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। পরিবারের কাছে দাবী করা হয় ১০ লাখ টাকা। দাবীকৃত টাকা না দিলে ইয়াবা ও ৫ টি অস্ত্র দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হুমকি দেয়।
তিন দিনপর পুলিশ তাকে নিয়ে হোয়াইক্যংয়ের সাতঘরিয়া পাড়ায় তার বাড়িতে ইয়াবা ও অস্ত্র খুঁজতে ফিরে আসে, কিছু পায় না। ছেলেকে মুক্ত করতে প্রবাস ফেরত বাবা কিছু টাকাও দেয় পুলিশকে। কিন্তু এতেও মন গলাতে পারেনি পুলিশের।
চতুর্থ দিন ( ৩১ মে ২০১৯) এসে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বলে, পাশের বাড়ির মফিজ আলমের বিছানার নিচ থেকে ইয়াবা আর অস্ত্র বের করে দিয়েছে মো. মোস্তফা।
টাকা দেয়ার পরেও তার শিশু সন্তান মো.মোস্তফা (১৬) কে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয় পুলিশ। পরে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ৫টি দেশীয় তৈরী বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কাতুজ উদ্ধার দেখিয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করে ৮ শ্রণীতে পড়ুয়া মাদ্রাসা ছাত্র মো.মোস্তফাকে। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।
শুধু প্রবাসীর ছেলে আর মাদ্রাসা ছাত্র হওয়ায় অপরাধে মাদক ও অস্ত্র আইনে পুলিশের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় গত সাড়ে ১৩ মাস যাবত জেলে রয়েছেন টেকনাফ হোয়াইক্যং মহেশখালীয়া পাড়া বাহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর এই ছাত্র মো. মোস্তফা (১৬)।
তাকে গত সাড়ে ১৩ মাসেও জেল থেকে জামিনে মুক্ত করতে পারেনি পরিবার।

তার মা ভেলুয়ারা বেগম বলেন, ২৭ মে রাতে হঠাৎ এসে আমার শিশু ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় সাবেক ওসি প্রদীপ দাশের নেতৃত্বে এসআই বোরহান উদ্দিন ভুইয়া, এসআই সাব্বির আহমেদসহ একদল পুলিশ। এর তিন মাস আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে আসেন তার বাবা।
তিনি জানান, তার ছেলেকে মুক্তিদিতে ১০ লাখ টাকা দাবী করা হয়। ছেলের বাবা প্রবাসী হলেও এতো টাকা পুলিশকে দিতে ব্যর্থ হন।
পরে তার শিশু ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র মো.মোস্তফাকে ইয়াবা ও বন্দুক ও গুলি দিয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।
মামলা দুটির বাদী এসআই (নিরস্ত্র) বোরহান উদ্দিন ভুইয়া।অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত টেকনাফ থানার মামলা নং-৪,জিআর মামলা নং-৪৫১,
মাদক আইনে দায়েরকৃত টেকনাফ থানার মামলা নং-৫, জিআর মামলা নং-৪৫২,
মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাব্বির আহমেদ। মামলা দুটি রেকর্ড করেন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ নিজেই।
সাতঘড়িয়াপাড়ার বাসিন্দারা বলেছেন, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য আগে পাড়ায় এসে তাঁদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিবেশী মফিজ আলমের বাড়ি ঘিরে ফেলেছিলেন।
মোস্তফাকে নিয়ে থানার পুলিশ আসে পরে। কিছুক্ষণ পর মোস্তফার হাতে ইয়াবা আর অস্ত্র দিয়ে পুলিশ সাংবাদিকদের ডাকে, ছবি তোলেন।
মাদ্রাসা ছাত্র মো. মোস্তফার পারিবারিক সুত্র জানায়, ছেলে রক্ষা করার আশ্বাস দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা নেন। মাদ্রাসার প্রত্যায়নপত্র, জন্ম নিবন্দনে তার বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করা হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এই শিশুকে ২২ বছর উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।
তার মা ও বাবা প্রতীক্ষায় আছে তাদের ছেলে জেল থেকে কবে ফিরবে।
তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ মাদ্রাসা ছাত্রের অবিলম্বে মুক্তির দাবী করে সাবেক টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপসহ এধরনের নাটক সাজিয়ে একজন কোমলমতি শিশুর ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দেওয়াদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানান।
এদিকে, মাদক ও অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত মামলা দুটোতে মাদ্রাসা ছাত্র মো. মোস্তফা (১৬) কে প্রধান আসামী করা হলেও একই এলাকার মফিজ আলম মো. আলম (৩০) ও গ্রামবাসী কৃষক মো. হোছেন (৪০) কে মামলা দুটোতে পলাতক আসামি করে পুলিশ।
ওই মামলাগুলোর পলাতক আসামী মো. হোছেন গত বছরের ২০ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। আরেক আসামী মফিজ আলম মো. আলম এখনো পলাতক।

NO COMMENTS

Leave a Reply