Home আইন ও আদালত মেজর সিনহার সাথে থাকা শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথের জামিন মঞ্জুর

মেজর সিনহার সাথে থাকা শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথের জামিন মঞ্জুর

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৯ আগষ্ট।কক্সবাজারে টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব:) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের সাথে ডকুমেন্টারি নির্মাণে থাকা গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিক্ষার্থীর একজন শিপ্রা দেবনাথের জামিন মঞ্জুর করেছে রামুর আমলী আদালত।শিপ্রা দেবনাথের আইনজীবী অরুপ বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, “মহিলা বিবেচনায় মামলার প্রতিবেদন না দেয়া পর্যন্ত শিপ্রাকে দেবনাথকে রোববার ৯ আগষ্ট দুপুরে জামিন দিয়েছে রামু আমলী আদালতে বিচারক দেলোয়ার হোসেন।মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতের জামিনের আবেদনের শুনানি সোমবার হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিটু।
সিফাতের জামিনের আবেদন করা হলে শুনালীর জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

গত ৩১ শে জুলাই রাতে ওই ঘটনার পর টেকনাফ থানা পুলিশ (একটি রামু থানায় অপরটি টেকনাফ থানায়) দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে আছেন বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং শিপ্রা দেবনাথ।
নিহত সিনহা মোঃ রাশেদ খানের সাথে কক্সবাজারে ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ করছিলেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির তিনজন শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং তাহসিন রিফাত নূর।

ঘটনার দিন রাতে রামু থানার হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্টে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নূরকে আটক করে। পরে তাহসিন রিফাত নূরকে তাদের অভিভাবকের কাছে ছেড়ে দেয়া হলেও শিপ্রা দেবনাথকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
পুলিশ সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে দুটি মামলা এবং শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।

শনিবার এই দুই শিক্ষার্থীর দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এর আগে বুধবারও তারা এ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।প্রসংগত, প্রসঙ্গত, দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সিনহা মো. রাশেদ খান ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন।

আরো তিন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে। গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯ কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়ে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়,

সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলাও করে। তবে পুলিশের এই ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে, সিনহাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে বুধবার কক্সবাজারের টেকনাফ আদালতে ৯ পুলিশকে আসামি করে মামলা করেন তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালতের নির্দেশে বুধবার রাতেই মামলাটি টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত হয়। এই হত্যা মামলায় বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন- এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা।
মামলার পর ওইদিন বিকালে টেকনাফ থানা থেকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করা হয়। পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ২০ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয় দুদিন আগেই।

এ মামলায় বৃহস্পতিবার টেকনাফ থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, শামলাপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতসহ ৭ আসামির প্রত্যেককে র‌্যাব হেফাজতে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক ২ আসামি এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

NO COMMENTS

Leave a Reply