Home রাজনীতি আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিল বাংলাদেশ কংগ্রেস

আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিল বাংলাদেশ কংগ্রেস

0 0

প্রথম বারের মতো নির্বাচন কমিশনে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান করলো দেশের সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কংগ্রেস। গত বছরের মে মাসে দলটি নিবন্ধন পেলেও গতবার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান করার বাধ্যবাধকতা ছিল না কাজী রেজাউল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই দলটির।

হিসাব জমাদানকালে তিনি বলেন, রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে এবং রাজনীতিবিদদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমাদান একটি ভালো দিক, তবে দেশের রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনকে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ সময় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন, ২০২০-এর খসড়া নিয়ে কথা বলেন দলটির চেয়ারম্যান এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পদ-পদবী ব্যবহার করে যাতে কেউ অনৈতিক সুবিধা গ্রহন বা দুর্নীতি করতে না পারে সেজন্য এই আইনে পলিটিক্যাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখতে হবে।

এছাড়াও লিডারশিপ ইনস্টিটিউট গঠন করে রাজনীতিবিদদেরকে প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, সহজভাবে নেতা বনে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে হবে। সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থেও এই আইনে কিছু বিধান রাখতে হবে যা ভঙ্গ করলে কোন দলকে জরিমানা গুণতে হবে।

সামান্য কারণে কোন দলের নিবন্ধন বাতিল না করে জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ব্যাপারে মতামত দেন এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেন।

এ সময় উপস্থিত দলের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো দেশের কল্যাণে কাজ করে। দেশের জন্য সর্বস্তরে নেতৃত্ব সৃষ্টিসহ সরকারের নানা ত্রুটি বিচ্যুতি তুলে ধরে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে দেশ পরিচালনায় সরকারকে সহযোগিতা করে যার সুফল জনগণ ভোগ করে।

এজন্য তাদেরকে নানান ধরণের কর্মসূচী বা গবেষণামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হয়, যার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ক্ষমতায় না থাকা দলগুলি বছরের পর বছর আর্থিক সংকটে থাকায় দেশের কল্যাণে প্রয়োজনীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে না।

ফলে দেশকে কাঙ্খিত সেবা দিতে দলগুলি ব্যর্থ হচ্ছে। সেজন্য নিবন্ধিত দলগুলির জন্য নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে বার্ষিক বাজেটের .০২% বরাদ্দ রাখার বিধান রেখে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন প্রণয়ন করার ব্যাপারে মতামত দেন তিনি।

দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ন্যাশনাল সিনেটের সদস্য নাজমুল মোর্শেদ বলেন, বিভিন্ন সামাজিক, সাংষ্কৃতিক সংগঠন বা এনজিওদের জন্য সরকারের আর্থিক সহায়তা থাকে। দেশের বৃহৎ স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে আর্থিক অনুদান আবশ্যক। নির্বাচন কমিশনে প্রতি বছর দলগুলির জন্য আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান বাধ্যতামূলক।

অর্থ প্রদান না করে হিসাব গ্রহন সমীচীন নয়, সুতরাং নির্বাচন কমিশনের উচিৎ দলগুলির জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা রেখে জবাবদিহিতা আদায় করা। ভারত, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ফ্রান্স, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সুবিধা প্রদান করা হয় মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।

সমবন্টনের ভিত্তিতে গঠনমূলক শর্ত প্রদান করে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থ বরাদ্দের আহবান জানান দলের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মোঃ তাহের উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, দলের অবসরপ্রাপ্ত বা দূদর্শাগ্রস্থ সদস্যদের কল্যাণ ও নির্বাচনী খাতে বরাদ্দ প্রদান করে সুষ্ঠ গণতন্ত্রের স্ব^ার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে গতিশীল রাখতে হবে। ন্যাশনাল সিনেটের সদস্য মোঃ নাজমুল হক বাদল ও মোঃ শাহজাহান এবং সহ-কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply