Home চট্টগ্রাম নারী শ্রমিকদের জীবন জীবিকা ও নিরাপত্তার অধিকার” বিষয়ক অনলাইন এডভোকেসী সেমিনার অনুষ্ঠিত।

নারী শ্রমিকদের জীবন জীবিকা ও নিরাপত্তার অধিকার” বিষয়ক অনলাইন এডভোকেসী সেমিনার অনুষ্ঠিত।

0 0

সি টি জি ট্রিবিউন প্রতিনিধিঃমানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও আওয়াজ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে “করোনাকালীন তৈরি পোশাকখাত:নারী শ্রমিকদের জীবন জীবিকা ও নিরাপত্তার অধিকার” বিষয়ক অনলাইন এডভোকেসী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৪ জুলাই(শুক্রবার) সন্ধা ৭ টায় জুম মিটিংয়ে এই অনলাইন এডভোকেসী সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তারের সঞ্চালনায়
এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম।ইলমা-চট্টগ্রামের নির্বাহী পরিচালক জেসমিন সুলতানা পারু, ক্লিফটন গ্রুপ-চট্টগ্রামের হেড অব জোনাল এডমিন মেজর(অব:) এম. এ. সিদ্দিক চৌধূরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ,

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার সকল অতিথিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে অনলাইন
সেমিনার শুরু করেন।তার আহবানে আলোচ্য বিষয়ের উপর ধারণাপত্র পাঠ করেন আওয়াজ ফাউন্ডেশন- চট্টগ্রামের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো: ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া।

উক্ত অনলাইন সেমিনারে অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন বলেন, শুধু সিভিল সোসাইটির লোকজন কথা বললে হবেনা, নারীদেরকে দায়িত্ব নিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি লীডারশীপ তৈরী করতে হবে।

ক্লিফটন গ্রুপ-চট্টগ্রাম’র হেড অব জোনাল এডমিন মেজর(অব:) এম. এ. সিদ্দিক চৌধুরী বলেন,নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সকল প্রতিষ্ঠানে এন্টি হ্যারেজমেন্ট কমিটি চালু করতে হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বলেন,সেই শুরু থেকেই আমি নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করছি। নারীদের সম্মান করতে হবে তারা যাতে এগিয়ে যেতে পারে। অন্যথায় তারা কোনভাবেই সমাজ এগোতে পারবেনা এবং দেশ পিছিয়ে যাবে।

ইলমা-চট্টগ্রাম’র নির্বাহী পরিচালক জেসমিন সুলতানা পারু বলেন,এই করোনাকালে নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, নারীদের অধিকার বাস্তবায়ন করতে না পারলে দেশ পিছিয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ বলেন, আওয়াজ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান এমন সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ওয়েবিনার আয়োজন করার জন্য। এই মহামারিতে যারা ক্ষতিগ্রস্থ তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।সকল হ্যারেজমেন্টের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।নারীদের সকল সুযোগ দিতে হবে।

দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ’র চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাঈদুর রহমান চৌধুরী বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীকর্মীরা যেকোনো ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হলে ভয় না পেয়ে আওয়াজ ফাউন্ডেশন সহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা নিতে হবে।

টেড্র ইউনিয়ন লিডার মনিরুজ্জমান মাসুম বলেন, বয়সের অজুহাত দেখিয়ে, কাজ নেই বলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ছাটাই করা হচ্ছে।এসব যদি বন্ধ করা না হয় তাহলে দেশ অনেক পিছিয়ে যাবে।

এছাড়া নির্যাতিত শ্রমিকদের মধ্যে কথা বলেন: সাবিনা ইয়াসমিন, রাশেদা বেগম ও শাহনাজ বেগম। তাদের সমস্যা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট মো: সেলিম। পতিনি বলেন, শ্রমিকদের অকারনে ছাটাই করার কোন সুযোগ নেই।

আওয়াজ ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার বলেন, নারীরা এখনও বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে।তাই এই বৈষম্য দূর করতে হবে। নারী-পুরুষ একসাথে কাজ করতে হবে।নারীর প্রতি অবমাননা আর না।

যতদিন পর্যন্ত নারীরা সচেতন না হবে ততদিন নির্যাতন বন্ধ হবেনা। তাই নারী নির্যাতন বন্ধে আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। এজন্য আমার পুরুষ ভাইদের আরও সোচ্চার হতে হবে।অনুষ্ঠানের শেষে তিনি সবার সুস্থতা কামনা করে ও ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,আওয়াজ ফাউন্ডেশন একটি তৃনমূল সংগঠন প্রতিষ্ঠান। এ সংস্থার কাজ মূলত পোশাকশিল্পে সকল শ্রমিকের বিশেষ করে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদের অন্যতম ভিত্তি পোষাক শিল্প। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮২% এই উৎস থেকে আসে এবং এ শিল্পের সিংহভাগকর্মী নারী।

এ শিল্পের স্থায়িত্বশীলতার জন্য ইতোমধ্যে আওয়াজ ফাউন্ডেশন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। আর এর একটি অংশ হিসেবে“জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স” বা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও কর্মসূচীর আওতায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ ও ‘আওয়াজ ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে তৈরী পোশাকশিল্প কারখানায় বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

তারই অংশ হিসেবে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন “কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের যৌন হয়রানি, সংগ্রাম এবং উত্তরণের উপায়” শীর্ষক এক গবেষণাপত্র সম্পন্ন করেছে। বিভিন্ন পোষাকশিল্প কারখানায় যৌন হয়রানির বর্তমান অবস্থা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট,

নারীদের বর্তমান অবস্থা, প্রতিরোধ এবং উত্তরণের উপায় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply