Home রংপুর জলঢাকায় অরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

জলঢাকায় অরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

0 0

সি টি জি ট্রিবিউন আবেদ আলী স্টাফ রিপোর্টারঃনীলফমারীর জলঢাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭১ এর কান্ডারি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে এখন আস্তানা হয়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রবেশ পথেই
লেখা রয়েছে শহীদদের সম্মানে জুতো সহ মিনারে না উঠার কথা। আবার সেখানেই বেধে রাখা হয় গরু ছাগল।

অযত্ন আর অবহেলায় পরে থাকা জলঢাকায় জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি যেন দেখার কেউ নেই। জলঢাকাবাসির দীর্ঘদিনের এই প্রানের দাবি দুটি পূর্ণ হলেও চতুরদিকে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অরক্ষিত হয়ে পরেছে ম্যুরাল এবং শহীদ মিনারটি।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি নির্মাণের দু’বছর পেরিয়ে গেলেও আজো হয়নি তার আনুষ্ঠানিক কোন উদ্বোধন। ফলে সেখানে গড়ে উঠেছে বেওয়ারিশ কুকুরের আস্তানা। শুধু তাই নয়, সৌন্দর্য বর্ধনের জায়গাটুকু সুকৌশলে দখলে নিয়ে দোকান ঘরের পসরা বসিয়ে আর্থিক ফায়দা নিচ্ছে এক শ্রেণির দালাল চক্র এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সচেতন মানুষেরা।

পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র ট্রাফিক মোড়। যা বর্তমানে নাম করণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু চত্তরে। নীলফামারী জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে এডিপি সাধারণ খাত থেকে
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এই ম্যুরালটি প্রাক্কলিত
ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা নির্মাণের জন্য।
নির্মাণ কাজ শেষ হবার প্রায় ৩ বছর হলেও
কি কারণে এখনো এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছেনা
সেটাই জলঢাকাবাসির প্রশ্ন?

ম্যুরালের ভিতরে এবং বাহিরে বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুরের আস্তানা ছাড়াও চতুর দিকে ময়লা আবর্জনা সহ দোকান পাট খুলে ম্যুরালের মর্যাদা নষ্ট করছে এক শ্রেণির মানুষ। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত এবং অবৈধ দখলমুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন সহ সেই সাথে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পরিবেশ রক্ষায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার দাবীতে বুধবার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের পক্ষে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন, ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক যুবলীগ নেতা এনামুল হক।

এর আগেও গতবছর একই দাবিতে স্বারকলিপি দিয়েছিলেন সাহিত্য সংস্কৃতি নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম নুরুন্নবী রহমান।
ততকালীন ইউএনও রাশেদুল হক প্রধান এর পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। পদোন্নতি জনিত কারণে তিনি চলে যাওয়ার পর
এই অঞ্চলের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের যে,
স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন হলেও সফল হয়নি।

অবহেলায় অপূর্ণতা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বেশকিছু সমাজকর্মী। এবিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান এর সাথে কথা হলে স্বারকলিপির বিষয় নিশ্চিত করে তিনি বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শ্রদ্ধা নিদর্শনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্মান করা হয়েছে শহীদ মিনার।

কোন অবস্থাতেই অমর্যাদা করতে দেওয়া হবে না। যেকোন ভাবেই এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করবে উপজেলা প্রশাসন। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং স্বাধীনতা স্বপক্ষের সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

NO COMMENTS

Leave a Reply