Home আইন ও আদালত কক্সবাজার শহরে এক কোটি পিস ইয়াবা লুটকারী মিজান ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কক্সবাজার শহরে এক কোটি পিস ইয়াবা লুটকারী মিজান ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

সি টি জি ট্রিবিউন শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২০ জুলাই।

কক্সবাজার শহরের খুরুশকুল ব্রীজ এলাকায় ইয়াবা কারবারিদের সাথে পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে মিজান নামে চিহ্নিত এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিজান কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার গোলাম মওলা বাবুল ওরফে জজ বাবুলের ছেলে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির।

তিনি বলেন, মিজান একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি। চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি শহরের বাঁকখালী নদীর মাঝির ঘাট এলাকায় ফিশিং ট্রলার থেকে খালাসের সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা লুটের ঘটনায় মিজান জড়িত রয়েছে। লুটের পর থেকে মিজান পলাতক ছিল। এক পর্যায়ে কৌশলে মিজান ভারত চলে যায় ।

১৭ জুলাই বেনাপোলের ইমেগ্রেশন পুলিশ মিজানকে আটকের পর বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশকে অবগত করেন। পুলিশের একটি টিম বেনাপোল গিয়ে মিজানকে কক্সবাজার নিয়ে আসে। তার স্বীকারোক্তি মতে সোমবার (২০ জুলাই) ভোররাতে বাঁকখালী নদীর মাঝিরঘাটস্থ খুরুশকুল ব্রীজ এলাকায় লুট হওয়া ইয়াবা উদ্ধারে যায় সদর মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ।

মিজানকে নিয়ে যৌথ ইয়াবা উদ্ধারে গেলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা তার সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে।

ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির আরও বলেন, মাদক কারবারিরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে মিজানকে ছিনিয়ে নেওয়া চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয় মিজান। এসময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে সহযোগিরা পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি দেশিয় বন্দুক ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারসহ গুলিবিদ্ধ মিজানকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই মিজানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ইয়াবার মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো.শাহজাহান কবির।
প্রসংত,পরে ২৪ ফেব্রুয়ারী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে খুরুশকুলের কুলিয়াপাড়া এলাকার মোস্তাকের বাড়ি থেকে ১ লাখ পিস এবং লারপাড়ার গ্যাস পাম্পের পেছনের মোক্তার মেম্বারের বাড়ি থেকে আরও এক লাখ পিস সহ দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

অভিযানে মিজানের অন্যতম সহযোগী মো. ফিরোজ ও মোস্তাক আহমেদকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার মাঝিরঘাটে মাছ ধরার ট্রলার থেকে খালাসের সময় এক কোটি পিস ইয়াবার একটি বিশাল চালান লুট হয়। ইয়াবার এই বিশাল চালান লুটে নেতৃত্ব দেন এই মিজান।

ইয়াবা লুটের ঘটনার পর ঘোনারপাড়ার তৈয়বের কাছে আত্মগোপনে ছিলেন মিজান। পরে ঘটনা জানাজানি হওয়ার এক পর্যায়ে মিজান চট্টগ্রাম থেকে বিমানযোগে ভারত পালিয়ে যান।

জানা গেছে, আলোচিত লুটের ঘটনা তদন্তের এক পর্যায়ে কক্সবাজার পুলিশ দেশের সকল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে মিজানের বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করেন। কিন্তু ততক্ষণেই মিজান ভারত পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবুও সেই সময় সরবরাহ করা চিঠির প্রেক্ষিতে গত ১৭ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে।

NO COMMENTS

Leave a Reply