Home আইন ও আদালত কক্সবাজার শহরে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর

কক্সবাজার শহরে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর

সি টি জি ট্রিবিউন শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১১ জুলাই।কক্সবাজার পৌর কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন সিকদারের ছোট ভাই এমরানকে ইয়াবাসহ আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের আলির জাহাল এলাকার সায়মা ওশান সিটির সামনে এঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কক্সবজাার শহর পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম শহরের আলির জাহাল এলাকার সায়মা ওশান সিটি এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় সায়মা ওশান সিটির সামনে থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহাব উদ্দিন সিকদারের ছোট ভাই ইমরান হোসেন (২৬) কে।তিনি আলিরজাহাল এলাকার মাস্টার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে ও কক্সবাজার সিটি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইমরান হোসেনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তাকে আটক করে সদর মডেল থানায় নিয়ে আসার সময় কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন সিকদারের উস্কানিতে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন বাঁধা দেয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করেছে । এসময় আসামী ইমরানকে ছিনিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়। পরে সদর মডেল থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার বিরুদ্ধে সংশ্লি আইনে মামলা রুজু করার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা জানান, আটক ইয়াবা কারবারী ইমরান কক্সবাজার সিটি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির পদবী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ভাই কাউন্সিলর সাহাব উদদীন সিকদারের ছত্রছায়ায় ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। কাউন্সিলরের ভাই হওয়ায় তিনি এলাকায় কায়েম করেছে সন্ত্রাস ও মাদকের রাম রাজত্ব। কেউ তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়নি এতোদিন। মুখ খুললে শিকার হতে হয়েছে চরম নির্যাতনের। এধরনের অসংখ্য মানুষ তাদের টর্চারের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন সিকদার দীর্ঘদিন ধরে নাফ সীমান্তের ভয়ঙ্কর মাহমুদুল করিম মাদুর সাথে যৌথভাবে স্বর্ণ, অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসা করে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। তার পার্টনার টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা ডন মাহামুদুল হক মাদু ওরফে মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মো: হোসেন মাদু সীমান্তে একজন চোরাচালানি ডন হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি সাহাব উদদীন সিকদারের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন অধরা ছিল। পরে অবশ্য ওই মাদু পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হন।মাফিয়া মাদু শহরের সিটি কলেজ সাহিত্যিকা পল্লী, এসএমপাড়া সড়কে বিশাল জায়গা কিনে পাকা বাড়ি নির্মাণ, সাবরাং ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন কয়েক কোটি টাকার ভুসম্পত্তি।

সাহাব উদদীন কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে তার ভাই এমরানসহ কাছের লোকজন দিয়ে তারা ইয়াবা সাম্রাজ্য কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছিল। ইয়াবা ব্যবসা সহজ করতে সাহাব উদদীন সিকদারের বাড়ীর ভিতর গড়ে তুলেছে সুন্দর বন কুরিয়ার সার্ভিসের শাখাও। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর ঘটনা রয়েছে। সম্প্রতি মাদক ব্যবসা, নারী কেলেংকারীসহ বিভিন্ন অপকর্মের জন্য কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ শাহাব উদ্দিন সিকদারকে কাউন্সিলর পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবিও জানান।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। আটক এমরানের সাথে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসবে। এছাড়া পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেওয়া হবে।

এদিকে, ছোট ভাই ইমরানকে পুলিশ গ্রেপ্তারের বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন সিকদার বলেন, তাঁর ভাই ষড়যন্ত্রের শিকার।

NO COMMENTS

Leave a Reply