Home চট্টগ্রাম আজ থেকে লোকে লোকারন্য হয়ে উঠবে পর্যটননগরী কক্সবাজার

আজ থেকে লোকে লোকারন্য হয়ে উঠবে পর্যটননগরী কক্সবাজার

0 0

সি টি জি ট্রিবিউন শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১১ জুলাই।

করোনায় স্থবির হয়ে পড়া পর্যটন নগরী কক্সবাজার আজ থেকে আবারও চাঙ্গা হচ্ছে। লাখো দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদভারে আবারও মুখরিত হবে সৈকত।
কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস।

তিন শতাধিক রেস্টুরেন্ট, সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
১২ জুলাই রোববার থেকে সরকারি নির্দেশনা মত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।

তবে, শনিবার বিকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কক্সবাজার সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো ঈদুল আযহা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।এছাড়া রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি-বেসরকারি অফিস-দপ্তর এবং হোটেল-মোটেলসহ সবধরণের সংস্থা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু থাকবে।
দেশের প্রথম রেড জোন ঘোষিত লকডাউনের পর এবার সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১১ জুলাই।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সমন্বয়ক এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার।তিনি জানিয়েছেন, লকডাউন ও সাধারণ ছুটির মেয়াদকাল শেষ হলেও সর্বসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

এ নিয়ে কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া রাজনৈতিক সভা-সমাবেশসহ প্রকাশ্য যে কোন ধরণের গণজমায়েত করার পূর্বে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে অবহিত করে আয়োজন করতে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্য বেড়ে যাওয়ায় গত ৬ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত প্রশাসন কক্সবাজার পৌর এলাকাকে দেশের প্রথম রেড জোন ঘোষণা করে।

পরে চকরিয়া, পৌর এলাকা, টেকনাফ পৌর এলাকা এবং উখিয়ার সদর, কোটবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন কুতুপালং স্টেশনসহ জেলার ৯টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়। পরবর্তীতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গত ২৪ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারিসহ সবধরণের অফিস-দপ্তর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
এদিকে, গত সাড়ে তিনমাস কক্সবাজারে লকডাউন চলার কারণে পর্যটন শিল্পসহ সব ধরনে ব্যবসায় চরম ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, করোনা মহামারীর কারণে কক্সবাজারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট, ক্ষুদ্র ,মাঝারি, বড় সব মিলে গত সাড়ে তিন মাসে ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনার আওতায় আনা, ব্যাংক ঋণ মওকুফ সহ নানা প্রস্তাবনা সহকারে এফবিসিসিআইকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনায় স্থবির হয়ে পড়া বাংলাদেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজার আজ থেকে চাঙ্গা হবে। লাখো দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদভারে আবারও মুখরিত হবে সৈকত।

কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস। তিন শতাধিক রেস্টুরেন্ট, সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের মতে, শুধুমাত্র হোটেল-মোটেল আর রেস্টুরেন্টেই গত সাড়ে তিন মাসে ক্ষতি হয়েছে ১ শ’২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার। এর মাঝে এ শিল্পের উদ্যোক্তারা পায়নি কোন প্রণোদনা।

এদিকে, শনিবার বিকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কক্সবাজার সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো ঈদুল আযহা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply