Home রংপুর করোনা সংকটে জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের মমতার হাত

করোনা সংকটে জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের মমতার হাত

0 15

সি টি জি ট্রিবিউন আবেদ আলী স্টাফ রিপোর্টারঃবিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস শুরু থেকে জলঢাকা পৌরশহর সহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নানান সচেতনতার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন নীলফামারীর জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
স্বজনদের ফেলে যাওয়া লাশ দাফনের দায়িত্বও নিয়েছিলেন তিনি।

ঘটনাটি ছিল ৯ জুন, জলঢাকা উপজেলার উত্তর দেশীবাই বসুনিয়া পাড়ার শরিফুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (২৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে তার দাফনে অস্বীকৃতি জানিয়ে রংপুর হাসপাতাল থেকে মাইক্রো করে নিয়ে এসে জলঢাকার বঙ্গবন্ধু চত্বরে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী শরিফুল সহ অন্যান্য স্বাজনেরা।

খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান সেখানে এবং মৃতদেহ দাফনের বিষয় মৃত মনোয়ারা বেগমের স্বামী ও পিতার পরিবারে যোগাযোগ করা হলে তারা লাশ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুইজন ইমাম দ্বারা মনোয়ারা’র মৃতদেহ পৌরসভার কেন্দ্রীয় কবরস্থানে ধর্মীয় বিধান অনুসারে দাফন সম্পন্ন করেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণে বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে চতুর্ভুজ আকৃতি চিহৃ দেয়া হয়েছে যাতে করে ক্রেতারা এটিতে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারেন।

শুধু এটাই নয়, তিনি করোনার এই সংকটময় দিনে পত্রিকা হকার সহ অসহায় দুস্থদের খুজেঁ খুজেঁ তাদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী। এছাড়াও জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে খাদ্য সহায়তা চেয়ে ফোন করা ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রেখে খাদ্য পৌঁছে দেয়া, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা এবং পর্যবেক্ষণে রাখা,

প্রয়োজন অনুসারে কোয়ারেন্টিনে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো, করোনা আক্রান্ত রোগীদের খোঁজখবর রাখা ও তাদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, করোনায় এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের দাফন কার্য সম্পন্ন অব্যাহত রেখেছেন জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায়।

চরম ঝুঁকির মধ্যেও পুলিশের প্রত্যেক সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমনকি সকল প্রকার ছুটি বাতিল করে মানবিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন তারা।
নীতি আদর্শের কাছে হার মানতে রাজি নন ওই ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি গত ৩০/০৩/২০১৯ তারিখে জলঢাকা থানায় যোগদানের পর থেকেই থানায় দালাল মুক্ত ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেন চুরি, জুয়া ও মাদকের ব্যবসা। এমন অপরাধীদের সাথে যেন কোন আপোষ নেই তার। তবে কোনও নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিক খেয়াল রেখে পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ঝগড়া বিবাদের অভিযোগ গুলো তিনি থানার গোল ঘরে বসে বেশিরভাগই নিষ্পত্তি করে দেন। যার ফলে এই থানায় মামলার সংখ্যা অনেকটাই কম।

থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানকে নম্রভদ্র ও অত্যন্ত মানবিক একজন মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, তিনি জলঢাকায় আসার পর থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন ফলে এই থানায় অনেকটাই পরিবর্তন ঘটেছে।

করোনাকালীন সময়ে পুলিশকে মানুষের পাশে থাকার বিষয়টি দেখেছি। মানবিক নানান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তারা। মানুষ থানা প্রশাসনের কাছে কাঙ্খিত যে সেবা পাওয়ার কথা সেটা পাচ্ছে বলে আমি মনে করি এবং এখন পর্যন্ত কোন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান,

সেবাই পুলিশের ধর্ম, সেই আলোকে কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশের সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার লক্ষে বর্তমান সরকারের ঘোষিত দুর্নীতি মুক্ত সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

NO COMMENTS

Leave a Reply