Home অপরাধ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান, জরিমানা

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান, জরিমানা

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে একজন ‘ভুয়া’ চিকিৎসক ও হাসপাতালের ফার্মেসিতে অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহারের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য পাওয়া গেছে। আজ রোববার দুপুর ১২টা থেকে এ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৩)।

এ সময় ইউনানীর সনদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো এলোপ্যাথিক চিকিৎসা দেয়ায় ‘ভুয়া’ চিকিৎসক মিজানুর রহমানকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য রাখায় প্রতিষ্ঠানটির ফার্মেসিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া র‍্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, অভিযান চলাকালে হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন (যেটা ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী সংক্ষেপে ডিএআর বলে) অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সার্জিক্যাল আইটেম জব্দ করা হয়েছে।

অনুমোদনহীন এসব মেডিকেল সামগ্রী রাখার অপরাধে ফার্মেসির দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট শফিউল ইসলাম ও আব্দুল জলিলকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‍্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘ইউনানী হেকিম হিসেবে চিকিৎসার জন্য সাময়িক সনদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন ভুয়া চিকিৎসক মিজানুর রহমান। তার প্যাডে এলোপ্যাথি চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ তিনি নিজেকে হেকিম নয়, বরং ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতেন।’

অসংখ্য ভুয়া ডিগ্রি তার প্রেসক্রিপশনে যুক্ত আছে। সেগুলোর কোনো সত্যতা কিংবা ভিত্তি নেই। সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতেই তিনি ভুয়া ডিগ্রি যুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অর্থের ক্ষতিসাধন করেন। এ ব্যাপারে ওই চিকিৎসক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান পলাশ কুমার বসু।

এমন ‘ভুয়া’ চিকিৎসককে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচার ও চেম্বারে বসার সুযোগ করে দেয়ায় হাসপাতালটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার মো. হাসিনুর রহমানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

NO COMMENTS

Leave a Reply