Home বিনোদন আজকের পৃথিবী,কোরান ও মানব সভ্যতা

আজকের পৃথিবী,কোরান ও মানব সভ্যতা

0 109

সি টি জি ট্রিবিউন :লেখক- কবি,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকারকর্মী মোঃ কামরুল ইসলাম।আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়ে আমাদের পরিবেশ। জলবায়ু ও এর প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য জীব,জৈব উপাদান সহ সবকিছু পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত।আবার এই সব মানুষেরই জন্য।তাই পৃথিবী ও পরিবেশ কে সুন্দর রাখার দায়িত্বও মানুষের।

পৃথিবী কি ও এর ওজন কত- বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যয়নরত আমার বড় মেয়ে নাজিফা ইসলাম ইরার আজকের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই ধরনের অবতারনা তা কিন্তু নয়।ভলতেয়ার নামক এক বিশ্ব পন্ডিতের মন্তব্য এমন ছিল যে পৃথিবীতে ঈশ্চর বলতে কিছুই নেই তা আমার চাকরকে বলো না সে আমাকে রাতের বেলা কুপিয়ে মেরে ফেলবে কেন সেই এই ধরনের মন্তব্য করলো আমাকে বুঝিয়ে বলা।

পৃথিবী সৌরজগতের মাঝারী ধরনের একটি গ্রহ এবং এর ওজন ৫.৮৭*১০/২১ টন।আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় আমার এই উত্তরে সে খুশী হতে পারেনি। মুখের উপর সে আমাকে বলে ফেলল তা সে আমার লেখা বই “জানতে হবে আমাদের”তাতে দেখেছে।সে আরো বিশদ ভাবে জানতে চায়।মুলত পৃথিবী সৃষ্টি সম্পর্কে যে বা যারা বলেছে তা ছিল সম্পূর্ন অনুমান নির্ভর।

পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৪ ± ৫ কোটি বছর (৪.৫৪ × ১০৯ বছর ± ১%) এই বয়স উল্কার রেডিও মেট্রিক বয়স নির্ণয় পদ্ধতি থেকে নেওয়া যা প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন পার্থিব ও চাঁদের পাথরের রেডিওমেট্রিক বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রেডিওমেট্রিক নির্ণয় পদ্ধতি আবিষ্কারের পর ইউরেনিয়াম-সীসার বয়স নির্ণয়ে দেখা যায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ খনিতে এমন সীসা বিদ্যমান রয়েছে যার বয়স ১০০ কোটি বছরের বেশি এবং এই ধরনের খনি থেকে প্রাপ্ত সবচেয়ে পুরনো ছোট ও স্বচ্ছ বস্তু গোমেদ-মণি, যা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক হিলস নামক স্থানে পাওয়া যায়, যার বয়স কমপক্ষে ৪৪০.৪ কোটি বছর।

সৌরজগতে গঠিত উল্কাপিন্ডের মধ্যে ক্যালসিয়াম-অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ সবচেয়ে প্রাচীন কঠিন বস্তুর বয়স প্রায় ৪৫৬.৭ কোটি বছর। আবার কেউ বলছেন পৃথিবীর বয়স ৫০০কোটি বছর।ভূতত্ত্বের ইতিহাস পাললিক শিলার গবেষণা থেকে দেখা যায় পাথর এবং পৃথিবীর স্তরবিন্যাস, প্রকৃতিবিদদের এই ধারণা প্রদান করে যে,পৃথিবী সৃষ্টির সময় থেকে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের এই অবস্হা।

পৃথিবীর বিভিন্ন স্তরগুলিতে অজানা প্রাণীর জীবাশ্ম বিদ্যমান রয়েছে ,যা স্তর থেকে স্তরে জীবের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।সপ্তদশ শতকে নিকোলাস স্টেনো প্রথম প্রকৃতিবিদ ছিলেন যিনি জীবাশ্ম অবশিষ্টাংশ এবং পাললিক শিলার মধ্যে সম্পর্কের ধারণা প্রদান করেন।

তাঁর পর্যবেক্ষণ সমূহ তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্তরবিজ্ঞান তত্ত্ব (যেমন, “উপরিপাত নীতি” এবং “মূল আনুভূমিক নীতি”) প্রণয়নে সহয়তা করে। ১৭৯০-এর দশকে উইলিয়াম স্মিথ অনুমান করেন যদি বিভিন্ন স্থানে শিলার দুটি স্তরের অনুরূপ জীবাশ্ম পাওয়া যায়, তাহলে সম্ভাবনা রয়েছে যে দুটি স্তরের বয়স একই।

উইলিয়াম স্মিথের ছাত্র, জন ফিলিপস পরে এই ধরনের গড় নিয়ে গণনা করে বলেন পৃথিবীর বয়স সম্পর্কে একটি ধারনা দেন তবে তাও ছিল অনুমান নির্ভর।পৃথিবী সৃষ্টি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রথমে মহান আল্লাহ বলেন- আল্লাহর কিতাবে কোনো ভুল নেই।সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই যিনি তাঁর দাসের প্রতি এই কিতাব(আল কুরআন)অবতীর্ণ করেছেন এবং এতে তিনি অসঙ্গতি,বক্রতা রাখেননি।

(আল কুরআন, কাহফ ১৮ : ১)। আস সা’দী (র.)এই আয়াতের তাফসিরে বলেন-‘বক্রতা থাকা নাকচ করার মানে হচ্ছে, এর (কুরআন) তথ্যসমূহ মিথ্যা থেকে মুক্ত। এবং এর আদেশ-নিষেধ সকল প্রকার অনাবশ্যকতাও অন্যায় থেকে মুক্ত।আকাশ,পৃথিবীসহ সৌরজগতের সৃষ্টি নিজ চোখে কেউ দেখেনি। এই পর্যন্ত যত তথ্য,তত্ত্ব যা আমরা জেনেছি তা বিজ্ঞানীদের অনুমান নির্ভর।

তাই আল্লাহ বলেন-আমি তাদেরকে আসমান সমুহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির সাক্ষী করিনি আর না তাদের নিজেদের সৃষ্টির। আর আমি পথভ্রষ্টকারীদেরকে সহায়তাকারী হিসেবে গ্রহণ করিনি।”(আল কুরআন, কাহফ ১৮ : ৫১) কুরতুবী (র.)এর তাফসিরে লিখেছেন-এই আয়াতসমুহ বিভিন্ন শ্রেণীর জ্যোতিষী,নৃবিজ্ঞানী,বিজ্ঞানী,নিরাময় কারী এবং এমন কাজে যুক্ত অন্যদেরকে ও তাদের বিভিন্ন ধারনার প্রত্যুত্তর দেয়।

জ্যোতিবিদ ও বিজ্ঞানীরা যা বলে তা তাদের ব্যক্তিগত মত। অন্যদিকে মহান আল্লাহ বলেন-পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই তিনি মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনঃসংযোগ করেন, অতঃপর সপ্ত আকাশ সুবিন্যস্ত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।”(আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ২৯)।

এই আয়াত প্রমাণ করে যে পৃথিবীর সৃষ্টি আকাশ সৃষ্টির আগে হয়েছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply