Home জাতীয় প্রধানমন্ত্রীই এই মুহূর্তে সবচেয়ে ব্যস্ততম ব্যক্তি’

প্রধানমন্ত্রীই এই মুহূর্তে সবচেয়ে ব্যস্ততম ব্যক্তি’

0 57

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্যক উপলব্দি করেন। এই মুহূর্তে তিনিই দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ব্যক্তি। করোনা শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়। এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য- অর্থাৎ জীবনের সকল উপজীব্যকে ঘিরে। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অধিকতর জোরালো নজর দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এখন দীর্ঘস্থায়ী সক্ষমতার কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তার নিজের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, আমিও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তবে সুস্থ হয়ে বেশ কিছু দিন থেকেই তিনি তার দপ্তরে আসছেন।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করোনা পরিস্থিতি মোকাবলোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-

কোভিড-১৯ পরীক্ষার কাজ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় জেলা পর্যায় পর্যন্ত আরপিসিএফ পরীক্ষা যত দ্রুত সম্ভব সম্প্রসারিত হবে।

আরো নতুন নতুন এবং সহজে করা যায় এমন কোভিড-১৯ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আসা হবে। উপজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত এ ধরনের পরীক্ষা চালু করার প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।

সকল জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণেরা কাজ চলছে।

জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত সকল সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে ‘হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা’, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরীক্ষার কিট ও পিপিইর যাতে অভাব না হয়, সেজন্য সুপরিকল্পিত সংগ্রহ ও সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল যেন কোভিড ও নন কোভিড সকল রোগীর চিকিৎসা দেয় তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেসকারি হাসপাতালে মূল্য নির্ধারণ, তদারকি ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি ও বেসরকারি খাত যেন যৌথভাবে এই গুরু দায়িত্ব পালন করে সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া পূর্বঘোষিত জোনিং ব্যবস্থা যখন যেখানে যেমন প্রয়োজন তা কার্যকর করা হবে। এ ব্যাপারে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ কাজ করছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখুন এবং বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখুন। বাংলাদেশ ব্যতিক্রমী কোনো দেশ নয়। আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থে্য যা করা সম্ভব এবং যা বাস্তবমুখী – সরকার সে রকম ব্যবস্থাই নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, যতদিন কোভিড থাকবে ততদিন প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। লক্ষণ থাকলে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক ভাই-বোনদের প্রতি আবেদন, করোনা সন্দেহ হলে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত চিকিৎসা দিন। যেকোনো মূল্যে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস করতে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতেই হবে। বয়স্কদের অধিকতর সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া বাগেরহাটে রোগীর আত্মীয়-স্বজনের হামলায় ডা. রাকিবের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দোষীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থার নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ঘটনা যেন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাব না ফেলে। বিষয়টি সরকার দেখবে, আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।

NO COMMENTS

Leave a Reply