Home চট্টগ্রাম কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা

0 916

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১৫ জুন ॥
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী আমানতের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ট্রাস্টি সেক্রেটারি লায়ন মুজিব, তার স্ত্রী মাহাবুবাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইউনির্ভাসিটির ট্রাস্টি বোর্ডেও চেয়ারম্যান ও প্রতিতিষ্ঠাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে গত ১২ জুন চট্টগ্রামের পাচলাইশ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এরআগে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের নামে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে লায়ন মো. মুজিবুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ট্রেজারার বাদী হয়ে গত ২ জুন কক্সবাজার সদর মডেল মামলা দায়ের করেন। মামলা দুটি তদন্তাধীন রয়েছে। কক্সবাজারের একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হতে সকলের অগোচরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এমনকি বোর্ড অব ট্রাস্টির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিকে না জানিয়ে ভুঁয়া রেজুলেশন তৈরি কওে ট্রাষ্টি বোর্ড সেক্রেটারী লায়ন মো. মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্যরা এক কোটি চুরানব্বই লক্ষ পঁচাশি হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করে।

কিন্তু সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাত করার প্রমাণ পায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এফডিআর এর এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিাতা সালাহউদ্দিন আহমদ বাদী হয়ে গত ১২ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-০৮, জিআর-১৪৮।

এামলার আসামীরা হলেন, ট্রাস্টি বোর্ডেও সেক্রেটারী মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী মাহব্বুা সুলতানা, আব্দুস সবুর (বড় ভাই), এস এম সাইফুর রহমান (শ্যালক), মোহাম্মদ মহসিন (স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী), সালেহা সুলতানা (স্ত্রীর বড় বোন), এএইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী (ভাতিজা), অলিদ মাহমুদ (ভাতিজা) ও আব্দুল মাবুদ ( ভাই) ।

সুত্রে আরো জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারী অনুমোদনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কোন তফশীলি ব্যাংকে দেড় কোটি টাকার স্থায়ী আমানত থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই দেড় কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখা হয়েছিল। সেই স্থায়ী আমানতের ইন্সট্রুমেন্ট প্রস্তাবিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি লায়ন মুজিবের কাছে গচ্ছিত ছিলো।

পরবর্তীতে মহামান্য রাস্ট্রপতি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে প্রফেসর আব্দুল হামিদ নিযুক্ত হলে তিনি এফডিআরের মূলকপি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট হস্তান্তরের জন্য বারবার তাগাদা দেন। কিন্তু লায়ন মুজিব কাল ক্ষেপন করতে থাকে। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন মূলকপি প্রদর্শনের জন্য চিঠি প্রদান করে।

তখন ট্রেজারার প্রফেসর আবদুল হামিদ ট্রাস্টিজ সেক্রেটারি লায়ন মুজিবকে এফডিআরের মূলকপি জমা দেয়ার জন্য চাপ দিলে তারা বিভিন্নভাবে ট্রেজারারকে অসহযোগিতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তাদের নামে জমিক্রয় ও ভবন নির্মাণের নামে প্রায় তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মসাতকৃত অর্থ নিয়ে পলাতক হয়ে যান।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চিঠির জবাব দিতে ট্রেজারার রূপালী ব্যাংক নিউ মার্কেট শাখা চট্টগ্রামে লিখিতভাবে যোগাযোগ করেন। তার এই পত্র যোগাযোগের প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিব।তার স্ত্রী মাহবুবা সহ অপর আটজন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য । যারা সেক্রেটারি মুজিবের নিকট আত্মীয়।

যথাক্রমে মাহব্বুা সুলতানা (স্ত্রী), আব্দুস সবুর (বড় ভাই) এস এম সাইফুর রহমান (শ্যালক), মোহাম্মদ মহসিন (স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী), সালেহা সুলতানা (স্ত্রীর বড় বোন) এএইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী (ভাতিজা), অলিদ মাহমুদ (ভাতিজা) ও আব্দুল মাবুদ( ভাই) মিলে ট্রাস্টি বোর্ডের রেজুলেশন প্রস্তুত করে ০২-০৫-২০১৯ইং সকালে দুইকোটি ষোল লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার এফডিআর স্থানান্তর করে ওই দিনেই এক কোটি চুরানব্বই লাখ পঁচাশি হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়।

ব্যাংকের বরাতে জানা যায়, ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতির সম্পূর্ণ অগোচরে এই কাজটি করা হয় ট্রাস্টি সেক্রেটারি লায়ন মুজিবের স্বাক্ষরে এবং তাকে সহযোগীতা করেন তার আত্মীয় অপরাপর আট ট্রাস্টি সদস্য। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঋণ হিসেবে উত্তোলিত প্রায় দুইকোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন হিসাবে জমা হওয়ার কোন প্রমাণ না পাওয়ায় তারা এই জালিয়াতি ও এফডিআরের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারে।

এরআগে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের নামে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (সিবিআইইউ) ট্রাষ্টি বোর্ড সেক্রেটারী লায়ন মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লায়ন মুজিবুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মামলায় সাক্ষী হিসাবে রয়েছেন খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টিজ চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি।

ডবশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বাদী হয়ে গত ২ জুন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অর্থ পরিচালক মো. আব্দুস সবুর ও মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইনচার্জ মনির উদ্দীন আরিফ। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-১, জিআর/৪৩২।

এ বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের অর্থ আত্মসাত, জমি ও ভবন নির্মাণের টাকা আত্মসাতের খবর জানার পরপরই ট্রেজারার এবং আমি কক্সবাজার এবং পাঁচলাইশ থানায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দাযের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা কক্সবাজারে উখিয়ার বিশাল জনসভায় প্রকাশ্য ঘোষণায় তিনি আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে বলেন। তার পূর্বেই আমি লিখিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদনের জন্য একটি আবেদন জমা দিযেছিলাম। কক্সবাজারবাসীর দাবী ও আমার আবেদনের প্রেক্ষিতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওই ঘোষণাটি দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি প্রতিষ্টার পর থেকে সুনামের সাসে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রতারকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। টাকাগুলো উদ্ধারে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি।

NO COMMENTS

Leave a Reply