চট্টগ্রাম জহুর হকার্স মার্কেটের ভাস্কর্য ভাংচুর: স্তম্ভিত নগরবাসী !

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ  নগরীর “জহুর হকার্স মার্কেটে” নির্মাণাধীন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মরহুম জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরী এবং সদ্য প্রয়াত  এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাস্কর্য ভাংচুর করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।দেশ স্বাধীন হবার পরপরই  ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাসমান হকারদের পুনর্বাসনের জন্য জাতির জনক বংবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নীচে পরিত্যক্ত জায়গায় এই মার্কেট বানিয়েছিলেন। তখন অবশ্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ছিল না। এই মার্কেটের ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল জেলা প্রশাসনের এর দাবীদার সিটি কর্পোরেশন  তা কেউ কোনোদিন শুনেনি।
মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী ইন্তেকাল করলে তার নামে এই মার্কেটের নামকরন করা হয় “জহুর হকারস মার্কেট” এবং এই মার্কেটের উন্নয়ন, নির্মাণ , পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ সহ হাজার হাজার ভাসমান হকারকে সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করতেন তখনকার শ্রমিক নেতা এ,বি,এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ,মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত তিনি পালন করেন এই মার্কেটের আজীবন সভাপতির দায়িত্ব ।

এই মহিউদ্দিন ১৭ বছর চসিক এর মেয়র ছিলেন এর মধ্যে গড়িয়েছে কর্ণফুলীর অনেক জল। জিয়া গেল, এরশাদ এল আওয়ামীলীগের কয়েকবার ক্ষমতার পালা বদল হল , খালেদা জিয়া ছিল আর মেয়র পদেও বিভিন্ন জন ছিল। কোনোদিন এই মার্কেটের পরিচালনা বা জমি সংক্রান্ত কোন বিরোধ কেউ দেখেনি শুনেনি।
চট্টল বীর গত হয়েছেন ৪০ দিন হয়নি। তার প্রতিষ্ঠিত হাতে গড়া মার্কেটে এখনো শোকের ছায়া কাটেনি ,এর মধ্যে মার্কেটের ভিতর খালি জায়গায় তার এবং তার দুই নেতার ( বঙ্গবন্ধু এবং জহুর আহমেদ চৌধুরী ) প্রতিকৃতি বা ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা চরম দুঃখজনক। অবশ্য কাগজে কলমে জায়গাটি যদি কর্পোরশেনের হয় সেখানে এইসব স্থাপনা নিরমান অবশ্যই অবৈধ, আরেকজনের ভুমিতে বঙ্গবন্ধুর বা বিখ্যাত কারো নাম, ফলক, ভাস্কর্য দিলেই এটার মালিকানা পরিবর্তন হয়না , এটা সবাই জানে। তবে মাথা গরম না করে বিষয়টা শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাধান করা যেত। যাদের ছবি ভাঙা হয়েছে তারা আমাদের আদর্শ , নেতা আর যারা ভেঙেছে এই ভাস্কর্য সেই প্রতিষ্ঠানের মেয়রও আওয়ামীলীগ – ম্যাজিস্ট্রেট রা সরকারের কর্মচারী।

বিষয়টা স্পর্শকাতর আর আদর্শিক  তাই আলোচনা করে বিষয়টার সুরাহা করা যেত, অন্য কোথাও সুবিধাজনক স্থানে তা পুনঃস্থাপন করা যেত । কি কারনে এভাবে ভেঙ্গেচুড়ে ফেলা হল এই বিশাল রথী মহারথীদের ভাস্কর্য !  আমাদের সরকারের একজন ম্যাজিস্ট্রেট কোন সাহসে এভাবে জাতির জনককে অসম্মান করলেন আর তার সাথে সাথে অপমানিত করলেন চট্টগ্রামের দুই বীর সূর্য সন্তান জহুর আহমেদ চৌধুরী ও চট্টল বীর মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ??

এরকম ঘটনায় চট্টগ্রামবাসী  স্তম্ভিত।নগরবাসী বিস্মিত আর প্রতিক্রিয়াশীল চক্র মহা আনন্দে তালি বাজাচ্ছে। লজ্জিত আমরা সঠিক তদন্ত চাই – মুল ঘটনার ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *