ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করায় ১২ পুলিশকে প্রত্যাহার

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় পুলিশ ফাঁড়ির ১২ কনস্টেবল ও এক এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে মারধরের অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারা খারাবাদ-বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন।

মঙ্গলবার সদস্য প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা। এদিকে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন বিকালে  বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ সত্য নয়।

তবে এক ছাত্র পুলিশের সঙ্গে তর্ক করলে তার সঙ্গে এক কনস্টেবলের হাতাহাতি হয়। যুবকটিকে ফাঁড়িতে নিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

কর্তৃপক্ষ ওই ফাঁড়ির ১৩ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজ্ড) করে। স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের বোনকে এক পুলিশ সদস্য যৌন হয়রানি করে আসছিল। যুবকটি এর প্রতিবাদ করায় পুলিশ সদস্যরা তাকে ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন দুপুরে ফাঁড়ি ঘেরাও করে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর উত্তেজিত লোকজন শান্ত হয়। ছাত্রীর বাবা জানান, তার মেয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ে। প্রতিদিন স্কুলে এবং কোচিংয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ফাঁড়ির কয়েক সদস্য যৌন হয়রানি করত।

মঙ্গলবারও একই ঘটনা ঘটে। ছাত্রী বিষয়টি তার ভাইকে জানায়। ছাত্রীর ভাই ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই তারেকুজ্জামানকে বিষয়টি জানাতে যায়। ইনচার্জকে ক্যাম্পে না পেয়ে ফিরে আসে। পরে কনস্টেবল নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও নায়েব জাহিদ বিষয়টি জানতে পেরে যুবকের দোকানে এসে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। দোকানে ভাংচুরও চালায় তারা।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফাঁড়ি ঘেরাও করে। নির্যাতনের শিকার যুবককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা করা হবে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে কনস্টেবল নাঈমসহ বেশ কয়েক পুলিশ সদস্য। ছাত্রী তার ভাইকে এ ঘটনা জানায়।

তার ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাটি ওসিকে জানাই। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলে বিক্ষুব্ধ জনতা শান্ত হয়।

সূত্র- দৈনিক যুগান্তর

 

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *