ডিআইজি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার

অস্ত্রের মুখে এক নারীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করাসহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা ডিআইজি পদপর্যাদার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) সহেলী ফেরদৌস বলেন, ডিআইজি মিজানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘ডিআইজি মিজানকে নিয়ে পুলিশের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। আজ সকালেই তাঁকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়া হোসেন আলী স্কুলে আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছিলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিজানুর রহমানের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত বড় কর্মকর্তাই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ আনা ওই নারী একটি জাতীয় দৈনিককে জানান, স্কয়ার হাসপাতালের কাছে তাঁর বাসা। সেখান থেকে কৌশলে গত বছরের জুলাই মাসে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মিজান। পরে বেইলি রোডের মিজানের বাসায় নিয়ে তিনদিন আটকে রাখা হয়েছিল। আটকে রাখার পর বগুড়া থেকে তাঁর মাকে ১৭ জুলাই ডেকে আনা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা কাবিননামায় মিজানকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। পরে লালমাটিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখেন আগে থেকেই বিবাহিত মিজান।

ওই নারী আরো অভিযোগ করেন, কয়েক মাস কোনো সমস্যা না হলেও ফেসবুকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি ছবি তোলার পর ক্ষেপে যান মিজান। বাড়ি ভাঙচুরের একটি মিথ্যা মামলায় তাঁকে গত ১২ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। সেই মামলায় জামিন পাওয়ার পর মিথ্যা কাবিননামা তৈরির অভিযোগে আরেকটি মামলায় তাঁকে আটক দেখানো হয়।

দুটি মামলায় জামিনে বেরিয়ে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তা মিজানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন ওই নারী।

 

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *