রাউজানের দীর্ঘ ২২ বছর পর ৪ তালা ভবন পেয়ে এয়াছিন শাহ্ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থীরা আনন্দে উদ্বেলিত

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে: রাউজান সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিমে অবস্থিত হযরত এয়াছিন শাহ্ পাবলিক কলেজ। ১৯৯৫ সালে এলাকার বিশিষ্ঠ শিক্ষাবীদ এম আব্দুল ওহহাব বিএবিএড এলাকা ও প্রবাসীদের সহয়তায় প্রতিষ্ঠা করেন এই কলেজটি। কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে উত্তর রাউজানের দুটি ইউনিয়ন  হলদিয়া ডাবুয়া ও ফটিকছড়ির একটি ইউনিয়ন ধর্মপুরের কয়েকশ ছাত্রছাত্রী এই কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহন করছে। জানাগেছে ২০০০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হলেও একাডেমিক ভবন ছিল অপ্রতুল। সে ৯৫ সালে গোড়াপত্তনে করা একতালা বিল্ডিংয়ে ক্লাসরুম,অধ্যক্ষ অফিস,লাইব্রেরী,শিক্ষক মিলনায়তন,ল্যবরটরি ও অফিস কক্ষ সহ যাবতীয় কার্যাদি একতালা ভবনে করতে হত। প্রতিষ্ঠাকালীন পূর্বে এলাকার অনেক অভিভাবক নি:সন্তানকে এসএসসি পাস করানোর পর রাউজান সদরে কলেজে ভর্তি করে ইন্টার পড়ানো সে সাহস কিংবা যাতায়তের সুযোগ ছিলনা। তাই এলাকার অনেক মানুষ লেখাপড়ার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। যখন ৯৫ সালে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা হয় তখনি প্রায় ২০/২৫টি গ্রামের উচ্চ শিক্ষার আলোর দুয়ার খুলেযায়। শত শত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়ে এইচএসসি পাস করে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ডিগ্রী অনেকেই ডাক্তারী ইঞ্জিয়ারিংয়ে  ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করছে। এই কলেজটি বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের জন্য একমাত্র বিদ্যাপিঠ হওয়ায় এলাকার কলেজটিতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হওয়ার চাহিদা বেশি। কিন্তু দীর্ঘ ২২ বছর যাবত সরকারী কোন বহুতল ভবন নির্মান না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারী এমনকি ছাত্রছাত্রীরা হতাশায় ভুগছিলেন। বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে প্রায় ৩২৭ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত থাকলেও তাদের ক্লাসরুম ছিল অপ্রতুল। রাউজানের মাননীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রচেষ্ঠায় ও উপজেলা চেয়ারম্যান কলেজ গর্ভণিংবডির সভাপতি এহসানুল হায়দার বাবুলের অক্লান্ত পরিশ্রমের দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক দুই কোটি ৪০ লাখ টাকার ৪তালা ভবনের বরাদ্ধের ব্যবস্থা করেন। এর আগে জেলা পরিষদের মাধ্যমে একতালা ভবনের উপর ১৬ লক্ষটাকা ব্যায়ে একটি হলরুম নির্মানসহ ৩৫ লক্ষ টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করেন। এদিকে বিশাল এই ভবনের বরাদ্ধ হওয়ার খবরে আনন্দে উল্লাসিত কলেজের অধ্যক্ষ ও কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা। পাশাপাশি অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীরা উদ্বেলীত। বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী বলেন, মাননীয় এমপি মহোদয় আমাদের কলেজের জন্য ৪ তালা ভবনের বরাদ্ধ নিয়ে এসেছেন এটি আশ্চার্য জনক বিষয়। তারা বলেন, রাউজানের উন্নয়নে যিনি ২০ বছর যাবত অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাউজানকে সাজিয়েছেন তাকে আমরা ভুলতে পারিনা। বিশাল ভবনটি নির্মান কাজ শেষ হলে এই কলেজের আমূল পরিবর্তন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কলেজের অধ্যক্ষ কৃষিবীধ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। নতুন বছরের প্রথম দিন দুপুরে চারতালা ভবনের নির্মান কাজের ফলক উন্মোচন করেন রেলপথ মন্ত্রনালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। এসময় তিনি কলেজের সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক কর্মচারীকে নিয়ে এটির উদ্বোধন করেন। তিনি সকল ছাত্রছাত্রীকে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড ঘরে ঘরে সকল মা বোন কে বলার জন্য আহব্বান জানান। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফোনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ সহকারী প্রকৌশলী সত্যপ্রদ দান চৌধুরী জানান,  দুই কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিতব্য ভবনটি ঠিকাদারী কাজ করছেন এনকে ট্রেডাসের স্বত্বাধিকারী নাঈম খান। তিনি আরো বলেন, চারতালা ভবনটি কাজ শেষ হলে এই কলেজের সমস্ত কার্যাদি এই ভবনে পরিচালনা করতে পারবে। গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখাযায় সোমবার উদ্বোধনের পর থেকে মাঠের পূর্ব প্রান্তে বিল্ডিংয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েগেছে। একশ দশ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্তের এই ভবনটির নির্মান কাজ শেষ হলে এই এলাকায় বিশাল কলেজ হিসেবে রুপান্তরিত হবে। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রত্যেক বছর এই কলেজ ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছে ,এই কলেজের লেখাপড়ার মান অনেক ভাল, সম্মানিত অধ্যাপকবৃন্দ খুব আন্তরিক। ছাত্রছাত্রীরাও নিয়মিত ক্লাসে হাজির থাকেন। তবে গ্রামের কলেজ হওয়ায় অভিভাবকদের আরোও একটু সচেতন হতে হবে। তিনি এই কলেজকে ডিগ্রীতে উন্নীতকরনের জন্য কাজ চলছে বলে জানান। স্থানীয় সমাজ সেবক মোহাম্মদ মুনছুর আলম জানান, ইন্টার কলেজে ৪ তালা ভবন বরাদ্ধ সত্যি মাইলফলক। সবমিলিয়ে এ কলেজের চারতালা ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ হবে এমনটি আশা সকলের।

 

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *