রাখাইনে নারীদের ধর্ষণের বিষয় এড়িয়ে গেলেন সু চি

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা, পুলিশ ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের পরিচালিত বর্বর নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কোনো আমলে নেয়নি। এ ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে রাখাইনে সেনাদের হাতে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলতে রাজি হননি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। আর সেকারণে ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে কোনও ফলপ্রসূ আলোচনা করা যায়নি বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের ওই বিশেষ দূত।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে এমন হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রামিলা প্যাটেন নামের ওই কর্মকর্তা। সেই চিঠিটি দেখতে পাওয়ার দাবি করে আজ বুধবার খবরটি জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছেন প্রমিলা প্যাটেন। জাতিসংঘের যুদ্ধ বা সংঘর্ষে যৌন হয়রানিবিষয়ক এ বিশেষ প্রতিনিধি চলতি মাসের মাঝামাঝি মিয়ানমার সফর করেন। এ সময় তিনি সু চি ছাড়াও দেশটির সেনাবাহিনী ও অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বেশ কিছু বৈঠক করেন। তার ভিত্তিতেই তিনি ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন। গত সপ্তাহে এই নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি লিখেছেন প্রামিলা। তিনি জানান, সু চির সঙ্গে তার ৪৫ মিনিট ধরে আলোচনা হলেও বৈঠকটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে; কারণ রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগগুলো নিয়ে কথা বলতে চাইলে তা এড়িয়ে গেছেন সু চি।

প্রামিলার দাবি, এটি কেবলই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। প্রামিলা প্যাটেন জানান, তার সঙ্গে বৈঠকেও রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সু চি। জাতিসংঘ মহাসচিবকে পাঠানো চিঠিতে প্রামিলা লিখেছেন: ‘মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার সঙ্গে যে বৈঠকটি হয়েছে তা ছিল ৪৫ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাৎ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি ফলপ্রসূ আলোচনা ছিল না। জাতিসংঘের এই দূত জানান, রোহিঙ্গা নারীদের নিপীড়ন প্রসঙ্গে সরাসরি উত্তর না দিয়ে সু চি তাকে বলেছেন প্রামিলার সঙ্গে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের আরও কয়েকটি ‘ভালো বৈঠক’ আছে এবং তিনি তা উপভোগ করবেন। প্রামিলার দাবি, ওইসব বৈঠকেও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা নিপীড়নের অভিযোগগুলো উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে অতিরঞ্জিত করেছে। যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে গেছে তাদের সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংযোগ রয়েছে বলে পাল্টা দাবি করেছে তারা প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দেশটির বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭০০-এর বেশি রোহিঙ্গা মারা গেছে। জাতিসংঘ এ অভিযানকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *