চট্টগ্রাম ডেলিভারেন্স মিশন ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন গির্জায় বড়দিন শান্তিপূর্ণভাবে পালিত

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ শুভ বড়দিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গির্জায় শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের দিন। এই দিনে বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়া, মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করা এবং সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার করতে তার আগমন ঘটেছিল।

দিনটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।সরকারি-বেসরকারি রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রকাশনার মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরেন। অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্ট ধর্মানুসারীরা যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন। ইতিমধ্যে গত রোববার সন্ধ্যা থেকে বেথলেহেম থেকে ভ্যাটিকান, ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা- সর্বত্র খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বড়দিনের উৎসব শুরু করেছেন। দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিষ্টান পরিবারে কেক তৈরি হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অনেকে বড়দিনকে বেছে নেন। দেশের সব গির্জাসহ খ্রিষ্টান পরিবারগুলো ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে, কেক তৈরি করে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে দিনটি উদযাপন করবে। সান্তা ক্লজ শিশুদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দে ভরিয়ে তুলবেন দিনটি। এরই মধ্যে দেশের সব গির্জায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে গোশালা স্থাপন এবং রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় (পবিত্র জপমালার গির্জা) বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের প্রধানতম গির্জার মধ্যে পাথরঘাটা ক্যাথলিক চার্চ, পশ্চিম পটিয়া মরিয়ম আশ্রম, জামালখানের এ জি বেথলেহেম চার্চ, খুলশীর ডেলিভারেন্স মিশন ইন্টারন্যাশনাল, সেন্ট মেরীজ গির্জা, ক্রিস্ট জেমসে ছিল সারাদেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা, দেশ ও বিশ্ব শান্তি কামনার আয়োজন করা হয়। ডেলিভারেন্স মিশন ইন্টারন্যাশনাল গির্জায় মিশনের পরিচালক ও প্রধান পালক ড. রেভা পলেন পাড়ৈ এর ব্যবস্থাপনায় গত ১৬, ১৮ই ডিসেম্বর সারাদেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন করেন। মিশনের প্রধান পালক তিনি আরো জানান, ‘দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণের নির্বিশেষে, দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বড়দিন শুধু খ্রিস্টানদের জন্য নয়। সারা বিশ্বের মানব জাতির জন্য এই প্রার্থনা। গত রবিবার রাত ১১টায় বড়দিনের আরেকটি প্রার্থনা এবং সোমবার সারাদিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের মধ্যে দিয়ে বড়দিনের উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করেন। এছাড়া অনান্য আয়োজনের মধ্যে আয়োজিত করেন সারাদিন এবং সারারাত বিভিন্ন ডিনার, মোমবাতি প্রজ্জলন, প্রার্থনাসহ নানা অনুষ্টান মহান ঈশ্বরের পুত্র যিশুর নামে পালিত হন এবং ৩১ ডিসেম্বর রাত ১০ টায় হেপী নিউ ইয়ারের বিশেষ প্রার্থনা রয়েছে বলে জানান ডেলিভারেন্স ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক ও পালক ডঃ রেভা পলেন পাড়ৈ।

Critsmass Day 1

তাছাড়া নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্টানের মধ্যে সেন্ট প্লাসিডস স্কুল, সেন্ট স্কলাসটিকা, সেন্ট জেবিয়ারস,উইলিয়াম কেরী, সেন্ট যোসেফ স্কুল, মাদার তেরেসা জোতিনিবাস সেন্টারসহ এর আশপাশে থাকবে রঙিন বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা। প্রচুর জরি লাগিয়ে গির্জার ভেতর রঙিন করা হয়েছে। সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। বড়দিন উপলক্ষে গির্জার মূল ফটকের বাইরে আজ থেকে বসবে মেলা। সব গির্জার নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। নগরীর পাঁচ তারকা হোটেলসহ দেশের বড় হোটেলগুলোতেও বড়দিন উদযাপনের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর আগ্রাবাদ, পেনিনসুলা হোটেল, র‌্যাডিসন ব্লু, লা মেরিডিয়েন, ওয়েস্টিন ও রিজেন্সি হোটেলে, হোটেল সৈকতসহ বিনোদনমূলক স্থানে থাকবে বিশেষ অনুষ্ঠান। হোটেলগুলোর লবিতে ক্রিসমাস ট্রি স্থাপন ও বড়দিনের কেক থাকবে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থাকবে এসব আয়োজন। সকাল ও বিকেলে শিশুদের জন্য রয়েছে শান্তা ক্লজের উপহার অনুষ্ঠান এবং সবার জন্য বুফে ডিনারের ব্যবস্থা।

 

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *