১৪ ডিসেম্বর থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী ও বিজয় দিবস উপলক্ষে মুসলিম হল প্রাঙ্গনে ৮ দিনব্যাপি বইমেলা ও চিত্র প্রদর্শনী

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ:) ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ০৮ (আট ) দিন ব্যাপী বইমেলা ও চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন আনজুমানে খোদ্দামুল মোসলেমীন কেন্দ্রীয় ট্রাস্টি বোর্ড। এ উপলক্ষে আজ ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন এর বইমেলা আয়োজন কমিটি। মেলা প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব স উ ম আবদুস সামাদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বই জ্ঞানের বাহন। সভ্যতার উন্নয়নে বই বরাবরই অগ্রসর ভূমিকা রেখেছে। একটি জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার বিকাশ সাধনে বইয়ের ভূমিকা অপরিমেয়। তৃণমূলে বই পড়ার স্পৃহাকে যে মাধ্যমটি ব্যবহার করে জাগিয়ে তোলা যায় তা হলো বইমেলা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক জাগরণে ভূমিকা রাখছে অমর একুশে বইমেলা। এই বইমেলা সৃষ্টি করেছে হাজারো লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী। একাত্তরের পরাজিত শক্তির বুদ্ধিজীবী নিধন কর্মসূচি কুপোকাত করে দিয়েছিল বাংলা একাডেমির বইমেলা। অনিশ্চয়তার কৃষ্ণগহ্বর থেকে ফিরিয়ে এনে আলোর পথে যাত্রার সূচনা করেছিল এ সৃজনশীল উদ্যোগ। জাতীয় পর্যায়ে অমর একুশে বইমেলার অবদান বিশাল। তবে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের তৃণমূলে বইপড়া আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে কার্যকর কোন উদ্যোগ এ পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধ ও প্রিয়নবীজী (দ.) এর আগমন; এই দুটো ক্ষণকে একীভূত করে উদযাপন করতে সামাজিক সংগঠন আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন ট্রাষ্টি বোর্ড বইমেলাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করছে। সংবাদ সম্মেলনে স উ ম আবদুস সামাদ আরও বলেন, বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে, একমাত্র বই-ই পারে মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বে উন্নীত করতে। বই জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম । জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই বই পড়তে হবে। একটি ভাল বই ঘুমন্ত বিবেক জাগিয়ে তোলে। ভাল লেখকের মানসম্মত বই মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে। তথ্য-প্রযুক্তির কারণে বর্তমান নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে তারা হয়ে পড়ছে বইবিমুখ। ফলে তাদের কল্পনা ও চেতনা শক্তি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমান প্রজন্মকে বইমুখি করতে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামের শাশ্বত মূলধারার সাথে পরিচিত করতে বইমেলা ও চিত্র প্রদর্শনীর গুরুত্ব অপরিসীম। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন ট্রাস্টি বোর্ড [যার নিবন্ধন নং- ঈঐ-ঝ৪৭১(৫৩)] দীর্ঘ দিন যাবত বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাহিকতায় আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৮ দিনব্যাপী বইমেলা ও চিত্র প্রদর্শনী ২য় বারের মত আয়োজন। এ লক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ-অধ্যাপকবৃন্দ, সরকারি – বেসরকারি বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট বইমেলা আয়োজন কমিটি।
বইমেলা দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলবে। মেলার মূল অনুষ্ঠান দুপুর ২.৩০মি: থেকে শুরু হয়ে ২টি অধিবেশনে রাত ৮.০০টা পর্যন্ত চলবে। প্রথম অধিবেশন বিকাল ২.৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৩.৫০মিনিট এবং দ্বিতীয় অধিবেশন বিকাল ৪.১৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। কর্মসূচির মধ্যে থাকছে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাতে রাসূল (দ:) পরিবেশন, রাসূল (দ:)’র শানে নিবেদিত কবিতা পাঠের আসর, দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, নতুন বইয়ের প্রকাশনা উৎসব, মোড়ক উন্মোচন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ:) ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কিত আলোচনা সভা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের দুর্লভ চিত্র প্রদর্শনী। মেলায় সর্বমোট ২৭টি স্টল ও ৪টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। প্রতিদিন আলোচনায় অংশ নিবেন দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও ওলামা মাশায়েখগণ। তিনি উক্ত মহতী কর্মসূচি সফলের জন্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিশেষত: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনসহ সকল আইন প্রয়োগকারী-সেবা সংস্থা ও দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য বই মেলার স্টল বরাদ্দের জন্য ০১৮১৯-৮০৩৮০৪, ০১৮১৯-৮৬৩৫৭৬, ০১৮১২-৭২২৫৯২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন, বইমেলা আয়োজন কমিটির সদস্য ড. মাছুম চৌধুরী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তালেব বেলাল, সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার, শিল্পপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ নঈম উল ইসলাম, আলহাজ্ব মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী, মাষ্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, আলহাজ্ব মাওলানা করিম উদ্দিন নুরী, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, জিএম শাহাদত হোসাইন মানিক, মোঃ নোমান উল্লাহ বাহার, মুহাম্মদ শফি, মুহাম্মদ শফিউল আলম শফি, মুহাম্মদ নুরুল্লাহ রায়হান খান, মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম কাদেরী, এম সাইফুল ইসলাম নেজামী, মুহাম্মদ মারূফ রেজা, মুহাম্মদ মফিজুর রহমান, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী, মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *