Breaking News
Home / ধর্ম / শাহ্জাদা শেখ ফরিদ আল-কুতুবী একজন আধ্যাত্মিক নেতাঃ

শাহ্জাদা শেখ ফরিদ আল-কুতুবী একজন আধ্যাত্মিক নেতাঃ

শাহ্জাদা শেখ ফরিদ আল-কুতুবী একজন আধ্যাত্মিক নেতাঃ

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি সিটিজিট্রিবিউনঃ

 

আধ্যাত্মিক জগতের জ্যোতিষ্ক , শাহ্জাদা আলহাজ্ব শেখ ফরিদ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী কক্সবাজার জেলাস্থ পূর্ণ্যভূমি পর্যটন নগরী কুতুবদিয়া থানাস্থ ধুরুং গ্রামে ১৯৫৩ সালের পহেলা জানুয়ারিতে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, গাউছে মুখতার, শায়খুত তরিকত, হযরতুল আল্লামা শাহ্ আবদুল মালেক আল-কুতুবী মুহিউদ্দীন আজমী (রা.)’র ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। শাহ্জাদা শেখ ফরিদ আল-কুতুবী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বর্তমানে কুতুব শরীফ দরবারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। মহান সাধক পুরুষ একজন সমাজসংস্কারক এবং ধর্মীয় আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি সর্বদায় আল্লাহর এবং তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)’র হুকুমের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল এবং আনুগত্যশীল।

আল্লাহর প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও আমলে জিন্দেগী অকল্পনীয় এবং অচিন্তনীয়। তিনি ইবাদাত-বান্দেগী, জিকির-আজগার, কুরআন তেলাওয়াত, রিয়াজত, মুরাকাবা-মোশাহাদা হরহামেশাই মগ্ন থাকেন। তিনি ছোটবেলা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-লাভের পাশাপাশি ইলমে তাসাউফ চর্চা শুরু করেন। তাঁর গৌরবময় শ্রদ্ধেয় আব্বাজান থেকে শরীয়ত, তরিকত, মারেফাত এবং হাকিকতের নির্জাস জ্ঞান শিক্ষা নেন। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তিনি আধ্যাত্মিক জগতে পদার্পণ করেন। আত্মার অপরিশুদ্ধতাকে নানা কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে বিশুদ্ধ আত্মায় পরিণত করাকে ইলমে তাসাউফ বলে। আধ্যাত্মিক শিক্ষা হলো সেই শিক্ষা, যে শিক্ষার মাধ্যমে নিজের অন্ধকারাচ্ছন্ন কলুষিত কুপ্রবৃত্তিপূর্ণ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দ.)’র সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি হয়।

আত্মশুদ্ধি অর্জিত হলে আত্মোৎকর্ষ অর্জিত হয়, তখনি মানুষ কামালিয়াতের মকামে পদার্পণ করেন। কামালিয়াত অর্জিত হলে আল্লাহ এবং বান্দার সাথে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এ সম্পর্কের ফলে মানুষ দুনিয়ার পার্থিব ভোগবিলাস ত্যাগ করে দিদারে ইলাহীতে মগ্ন থাকেন। আমার দেখায় তিনি একজন আত্মিক শুদ্ধ পুরুষ কারণ পরশ্রীকাতর,লোভ-লালসা, আরাম-আয়েশ, পরনিন্দা, গীবত কোনো কিছুই তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে দেখিনি। তাঁর উচ্চ বিলাসিতা হচ্ছে,
ক্ষুধার্তের মুখে খাবার, বস্ত্রহীনদের বস্ত্রদান, গরীব-এতিম ছাত্র/ছাত্রীদের ব্যয় বহন। নাম-যশ-খ্যাতি, সুখ-শান্তিকে তিনি প্রকৃত সুখ মনে করেন না। মানুষের কল্যাণের মাঝে তিনি সুখ খুঁজে পান। স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী কুতুব শরীফ দরবার সম্পূর্ণ শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত এবং শুদ্ধ তাসাউফ চর্চার মূল কেন্দ্র। তিনি সুনাম, ঐতিহ্য এবং স্বকীয়তা বজায় রেখে সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিক ভাবে দরবারের সমস্ত কার্যক্রম এবং কর্মসূচী সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন।

পৃথিবীতে খুব কম দরবারই দেখা যায় যেখানে শতশত মানুষকে বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ কুতুব শরীফ দরবারে আগত শতশত মেহমানবৃন্দদের বিনামূল্যে মেহমানদারিসহ তিনবেলা খাবারদাবার এবং থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে যা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। তিনি মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন আলোকিত মানুষ গড়ার বাতিঘর তথা স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র।

সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বীনের খেদমতের আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন যা প্রশংসনীয়। পরম শ্রদ্ধেয় বুজুর্গের মধ্যে কিছু ব্যক্তিত্ব আমার কাছে বিশেষ বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল মনে হয়েছে। যেমন সদালাপী, মিষ্টিভাষী, নিরহংকারী, বিনয়ী, ধৈর্যশীল, অবিলাসী, পরহেজগারি, জনসেবী, শোকরগুজারী, জ্ঞানী, সত্যবাদী, দ্বীনদারী ইত্যাদী চারিত্রিক সৌন্দর্য মানুষ কে দ্বীন-ধর্মের প্রতি বিমোহিত করে। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনে সুষ্ঠু দরবার পরিচালনার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ধনী, গরিব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, এমন কী এমপি, মন্ত্রী এবং সরকারী-বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ বহু ব্যক্তি দরবারে তাঁর সাক্ষাতের জন্য ছুটে আসেন। তিনি দরবারে আগত অসংখ্য ভক্ত বৃন্দের বিভিন্ন সমস্যা মনযোগ সহকারে শুনেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানে আল্লাহর নিকট দোয়া করে থাকেন। সূফীগণ বলেন, আল্লাহর এমন কিছু প্রিয় বান্দা আছেন, যাদের আবদার বা ফরিয়াদ তিনি ফেরৎ দেন না। যেসমস্ত ব্যক্তি আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়ে পার্থিব সুখ কে বিসর্জন দিয়েছেন তাঁরাই প্রকৃত মানুষ। শৈশব থেকেই তিনি জ্ঞানপিপাসু ও ধর্মানুরাগী এবং জনহিতৈষী। ইলমে তাসাউফ এবং ইলমে বেলায়াতের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে শ্রদ্ধেয় পিতার নির্দেশক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে কুতুব শরীফ দরবারে চলে আসেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মরহুম তোফাইল আহমদ চেয়ারম্যান, মরহুম আবদুল জব্বার চেয়ারম্যান, মরহুম নওয়াব আলী সওদাগর, মরহুম ডাক্তার মোস্তফিজুর রহমানসহ দরবারে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর শ্রদ্ধেয় আব্বাজান দরবারের প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পন করেন।

আজ অবধি সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং নিপুণতার সাথে দায়িত্ব পরিচালনা করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর খেদমতকে কবুল করুক। তাঁর সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আসুন আমরা তাসাউফের নামে কুসংস্কার চর্চা হতে বিরত থাকি এবং পরিশুদ্ধ তাসাউফ চর্চায় আত্মনিবেশ করি।

লেখক, মুহাম্মদ কায়ছার উদ্দীন আল-মালেকী

About Jamir Uddin

Check Also

Test

Hello

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *