Breaking News
Home / আইন বিচার / সুন্দরবনসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র্যাবের তত্ত্বাবধানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ।র‍্যাব

সুন্দরবনসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র্যাবের তত্ত্বাবধানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ।র‍্যাব

সুন্দরবনসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র্যাবের তত্ত্বাবধানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ।র‍্যাব 

 

আয়াজ সানি সিটিজি ট্রিবিউন চট্টগ্রাম;

 

সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্তকরণ এবং আত্নসমর্পণকৃত জলদস্যুদের পুনর্বাসন এর মাধ্যমে র‍্যাব ফোর্সেস বাংলাদেশের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন , পৃথিবীর একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনের জীব বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণে দেখিয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য নিশ্চিত করছে উপকূলীয় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা , অভিশাপমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে অসংখ্য পথচ্যুত সাধারণ মানুষকে ।

ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে খ্যাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন । শুধু বাংলাদেশেরই নয় , পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট অপার সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই সুন্দরবনে আশির দশকে চাঁদাবাজি , অপহরণের মাধ্যমে শুরু হয় “ জলদস্যু ” নামে এক কলঙ্কিত অধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০১২ সালে বনদস্যু ,

জলদস্যুদের দমনের লক্ষে র্যাব , পুলিশ , কোস্টগার্ড , বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে মহাপরিচালক র্যাব ফোর্সেসকে প্রধান সমন্বয়কারী করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয় এবং বেগবান হয় সুন্দরবনে আভিযানিক প্রক্রিয়া ।

র‍্যাব সুন্দরবনসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যু ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।এ পর্যন্ত সুন্দরবনসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বমোট ৫০ টি বিভিন্ন বাহিনীর ৪০৫ জন ৬৫০ টি অস্ত্র ,৩২,২০৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ র্যাবের নিকট আত্মসমর্পণ করেছে ।

তন্মেধ্যে সুন্দরবন অঞ্চলে সর্বমোট ৩২ টি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রসহ ৩২৮ জন ৪৬২ টি অস্ত্র , ২২,৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বমোট ১৮ টি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রসহ ৭৭ জন , ১৮৮ টি অস্ত্র , ৯,৭০৩ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে ।

আত্মসমর্পণকারীরা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে সে জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে । সরকারের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণকারী সকল জলদস্যু / বনদস্যুদের বিরুদ্ধে রুজুকৃত চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অপরাধের মামলা ব্যতিত অন্যান্য সকল সাধারণ মামলা সহানুভূতি সহকারে বিবেচনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে গত ৩১ মে ২০১৬ তারিখ মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রার শুভ সূচনা হয় । একে একে আত্মসমর্পণ করে সকল বাহিনী । গত ০১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে সুন্দরবনের শেষ ৬ টি বাহিনী আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া শেষ হয় ।

সুন্দরবন সম্পূর্ণ রুপে জলদস্যু মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে গত ০১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্ত ঘোষণা করেন ।

গত ৩ বছর যাবত র‍্যাব এই সফলতা ধরে রেখেছে । এখন শাস্তির সু – বাতাস বইছে সুন্দরবনে । অপহরণ – হত্যা এখন তিরোহিত । জেলেদের কষ্টার্জিত উপার্জনের ভাগও কাউকে দিতে হচ্ছে না ।মাওয়ালী , বাওয়ালী , বনজীবী , বন্যপ্রাণী এখন সবাই নিরাপদ ।

নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে আসছে দর্শনার্থী পর্যবেক্ষক ,জাহাজ বণিকেরা ।এভাবেই সরকারের দূরদর্শিতায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতার ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বারা উন্মোচিত হয়েছে ।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম – কক্সবাজার অঞ্চলে র্যাবের কঠোর পদক্ষেপের ফলে গত ২০ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মহেশখালীতে ৪৩ জন জলদস্যু এবং ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বাঁশখালী , মহেশখালী ও কুতুবদিয়াতে ৩৪ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে ।

এর ফলে এই অঞ্চলে জলদস্যুতার ঘটনা কমে যায় । আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের প্রত্যেককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ ১ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে ।এছাড়া র‍্যাবের পক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা,শীতবস্ত্র ও ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয় ।

আত্মসমর্পণকারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে ।পুনর্বাসন চাহিদা সমীক্ষা চালিয়েছে র্যাব ।এর ধারাবাহিকতায় র্যাব আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের ১০২ টি ঘর , ৯০ টি মুদি দোকান ( মালামালসহ ) , ২২৮ টি গবাদি পশু , ১২ টি মাছ ধরার নৌকা ও জাল , ০৮ টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা বিতরণ করেছে ।

তারা যেন আবার তাদের পুরনো পেশায় ফিরে না যায় সে জন্য র্যাব তাদের নিয়মিত মোটিভেশনের ব্যবস্থা করেছে । আগে জলদস্যু ছিল, আত্মসমর্পণের পর এখন অনেকেই মৎসজীবিসহ বিভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছে ।

আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের পুনর্বাসনে সরকারের আরো অনেক উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন র্যাবের প্রত্যাশা তারা কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সকলের পূর্ণাঙ্গরূপে সুখী স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে ।

 

About Ayaz Ahmed

Check Also

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী   আয়াজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *