Breaking News
Home / আইন বিচার / মানবপাচার চক্রের হোতা ইদ্রিস আটক : ৭ জন ভিকটিম উদ্ধার,র‍্যাব-১৫,

মানবপাচার চক্রের হোতা ইদ্রিস আটক : ৭ জন ভিকটিম উদ্ধার,র‍্যাব-১৫,

কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের হোতা ইদ্রিস আটক : ৭ জন ভিকটিম উদ্ধার,র‍্যাব-১৫,

 

সিটিজি ট্রিবিউন শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১১ ফেব্রুয়ারী।

 

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে দালালের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো অসহায় রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ। একটি সংঘবদ্ধ চক্র সিএনজি অটোরিকশা যোগে সড়ক পথে কক্সবাজার নিয়ে আসতো তাদের।

পরে এখান থেকেই রোহিঙ্গা নারী পুরুষকে বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী একটি দেশসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের জন্য দালাল চক্রের হাতে তুলে দিতেন মো. ইদ্রিস। বিশেষ কার্ড বানিয়ে দেশের সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করতেন তারা। মানবপাচারকারী চক্রের হোতা সন্দেহভাজন মো. ইদ্রিসকে গ্রেফতার ও ৭ জন ভিকটিম রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৬ জন নারী রয়েছে ।

শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারী ) দুপুরে র‍্যাব-১৫ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্ণেল খায়রুল আলম সরকার উদ্ধার ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় মানবপসচার কারী চক্রে হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব।

লে.কর্ণেল খায়রুল আলম সরকার সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৫, এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল খায়রুল আলম সরকার জানান, উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বকে পূঁজি করে পাচারের জন্য রোহিঙ্গা নারী পুরুষকে ক্যাম্প থেকে অটো রিকশা ভাড়া করে কক্সবাজার নিয়ে আসেন।

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশি কালে সিএনজি অটোরিকশা রিক্সার যোগে আসার সময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিক্সা তল্লাশি চালানো হলে চালক মো. ইদ্রিস পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে।

এসময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৬ জন নারী ও ১ জন পুরুষকে। যারা সকলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী।আটককৃত মো. ইদ্রিস জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে এবং বিভিন্ন প্রলোভন ও প্ররোচনার মাধ্যমে পাশ্ববর্তী একটি দেশসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, মানবপাচারকারী চক্রের পলাতক অপর দুই সদস্য মো. ছৈয়দ হোসেন ও মো. বশরের নেতৃত্বে উদ্ধারকৃত নারী ও পুরুষকে গাড়ী যোগে কুমিল্লা জেলার পদুয়া বাজারস্থ একটি স্থান থেকে পাশ্ববর্তী অন্য একটি দেশে পাচার করার সুনির্দিষ্ট একটি নীলনকশা তৈরী করা ছিল।কিন্তু মুলহোতাকে আটকের পর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

একটি সুত্র জানিয়েছেন, বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নাগরিকদের কখনও বিয়ের প্রলোভন, কখনও কাজের লোভ দেখিয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকেও নারী, কিশোরী ও তরুণী পাচার হচ্ছে ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কাউকে না জানিয়ে রাতের আধারে এসব নারী ও কিশোরীরা ভারতে পাড়ি জমাচ্ছে দালালের হাত ধরে।

এভাবে পাচার হওয়া খুব সামান্য সংখ্যক মেয়েকেই সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টায় দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি নারীদের সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত করে পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো। এর একটি গ্রুপে মধ্যবিত্তদের। আরেকটি গ্রুপে নিম্ন মধ্যবিত্ত। মধ্যবিত্ত নারীদের ভারত থেকে দুবাইয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়।

আর নিম্ন মধ্যবিত্ত নারীদের ভারতে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়। পরে তাদের ঠাঁই হয় বিভিন্ন যৌনপল্লীতে।

About Ayaz Ahmed

Check Also

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী   আয়াজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *