Breaking News
Home / আইন বিচার / মহাসড়কে ডাকাতি ও অপহরণ সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও মহিলা সহযোগী সহ কয়েকটি অস্ত্র সহ র‍্যাব-৭ এর হাতে আটক।

মহাসড়কে ডাকাতি ও অপহরণ সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও মহিলা সহযোগী সহ কয়েকটি অস্ত্র সহ র‍্যাব-৭ এর হাতে আটক।

চট্টগ্রাম-ফেনী মহাসড়কে ডাকাতি ও অপহরণ সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও খুন/ডাকাতি সহ ১০ টির বেশী মামলার আসামী মোঃ সরোয়ার হোসেন জনি মনু ডাকাত মহিলা সহযোগী ও কয়েকটি অস্ত্র সহ র‍্যাব-৭ এর হাতে আটক।

 

সিটিজি ট্রিবিউন চট্টগ্রাম;

 

চট্টগ্রাম-ফেনী মহাসড়কে ডাকাতি ও অপহরণ সিন্ডিকেট আসামী ১। মোঃ সরোয়ার হোসেন জনি মনু (৩৪),২। মোঃ রিপন (৩২),৩। তাসলিমা বেগম (৩৬),দের অদ্য ১৭ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ ০২;১৫ ঘটিকায় ডাকাতির প্রস্তুতি কালে

পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর কাট্টলী খেজুরতলী জাইল্যাপাড়া ব্রীজের নিকট হতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দখল হতে একটি দুনালা বন্দুক, দুইটি এলজি,০৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবে -৭ সিটিজি ট্রিবিউন কে জানায়,

র‍্যাবের জিজ্ঞাসায় তারা চাঞ্চল্যকার তথ্য প্রদান করে।

তারা জানায় পলাতক আসামীদের সহযোগীতায় ভোর রাতে মাইক্রোবাস সংগ্রহ করে যাত্রী সেজে তারা গাড়ীতে উঠে একেক জন একেক সিটে বসে কেউ তসবি পড়তে থাকে, কেউ ভদ্রভাবে বসে থাকে। সর্বপরি রাস্তার যাত্রীদের বিশ্বাস করানোর জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করে।

গাড়ীতে আগে থেকে বসে থাকা ডাকাতদের নম্র, ভদ্র ব্যবহার দেখে সহজ সরল যাত্রীরা কম টাকায় গন্তব্যে পৌছার জন্য ডাকাতদের গাড়ীতে উঠে। গাড়ীতে উঠার পর ডাকাতরা বিভিন্ন ধর্মীয় কথাবার্তা বলতে থাকে।

কিছু দুর যাওয়ার পর ডাকাত দলের একজন বলে আমি সামনে নামব তখন ডাকাত দলের দুইজন সামনের সিটে চলে আসে এবং টার্গেট যাত্রীকে মাঝখানের সীটে বসায়। তারপর শুরু হয় আসামীদের আসল রুপ।আসামীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে, জিম্মি করতঃ মারপিট করে, গলায় গামছা পেছিয়ে পিছনে টান দিয়ে ভীত সন্তত্ব করে যাত্রীদের নিকট থেকে নগদ টাকা পয়সা, মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

যাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে। ডাকাত দলের সদস্যরা ভিকটিমকে অভিনয় করে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করতে বলে।

ভিকটিমের আত্মীয় স্বজন ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা দিয়ে দেয়। অতিরিক্ত ভয় দেখালে ভিকটিমের কথা বার্তা এলোমেলো হতে পারে সে দিকেও নজর রাখে তবে ডাকাতদল জরুরী অবস্থায় পালানোর পথ সুগম করার জন্য গাড়ীতে দেশীয় অস্ত্রের ষ্টক রাখে।আগ্নেয়াস্ত্র দেখালে সে দিন সাধারনত খুন বা ভয়াভহ কিছু ঘটে।

তাদের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম হতে কুমিল্লার মধ্যবর্তী সুবিধা জনক স্থানে যাত্রীকে ফেলে দিয়ে চলে যায়। যাত্রীদের রাস্তার পাশে ফেলে দেয়ার আগে ভিকটিমের চোখে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক মলম লাগায় যার কারনে মলমের বিষক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু দেখতে পায় না অর্থাৎ গাড়ীর নাম্বার দেখতে পায় না বা কোন দিকে গাড়ী চলে গেছে তা বলতে পারে না ইতি মধ্যে ডাকাতরা নিরাপদ দুরত্বে চলে যায়।

আসামী রিপন র‍্যাবের জিজ্ঞাসায় জানায় কিছুদিন পূর্বে মনু ডাকাতের সাথে যাত্রীদের উঠিয়ে অনুরুপ পদ্ধতি অবলম্বন করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে যাত্রী (ভিকটিম)কে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

রিপনের বক্তব্যেও ঘটনার হুবহু মিল পাওয়া যায়। তাছাড়া তাসলিমার স্বামী মিজানুর রহমান প্রকাশ চান মিয়া মাইক্রোবাস সরবরাহ করে এবং সাথে কাজ করে থাকে তার জন্য টাকার আলাদা ভাগ পায়।

তাসলিমা স্বামীর কাজে সহযোগীতা করার জন্য ডাকাতের সাথে যোগাযোগ রাখে ও প্রয়োজনে সেও অপারেশনে যায়। সম্প্রতি পাহাড়তলী থানার মামলা অর্থাৎ একই ভাবে মাইক্রোবাসে যাত্রী উঠিয়ে ডাকাতি করে ফেলে গেলে পরবর্তীতে ভিকটিম মারা যায় এই মামলার প্রধান আসামী মোঃ সরোয়ার হোসেন জনি মনু ডাকাত তার সহযোগীদের নিয়ে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল বলে র‍্যাবের কাছে অপকটে স্বীকার করে।

তাছাড়া তাসলিমা বেগমের স্বামী মিজানুর রহমান প্রকাশ চান মিয়া খুনসহ ডাকাতি মামলার জড়িত আসামী হিসাবে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও উদ্ধার হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আসামী মোঃ সরোয়ার হোসেন জনি মনুর বিরুদ্ধে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ১০ টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

About Ayaz Ahmed

Check Also

সরকারী ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে রাতের আধারে পাহাড় কাটার মহোৎসব

সরকারী ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে রাতের আধারে পাহাড় কাটার মহোৎসব   সিটিজি ট্রিবিউন বান্দরবান প্রতিনিধি, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *