Breaking News
Home / আইন বিচার / বান্দরবান সদর হাসপাতালে ৫ বছর ধরে বন্ধ আল্ট্রাসনোগ্রাম

বান্দরবান সদর হাসপাতালে ৫ বছর ধরে বন্ধ আল্ট্রাসনোগ্রাম

বান্দরবান সদর হাসপাতালে ৫ বছর ধরে বন্ধ আল্ট্রাসনোগ্রাম

সিটিজি ট্রিবিউন বান্দরবান প্রতিনিধি মোহাম্মদ আজিজ উল্লাহ,।

বান্দরবান সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাম।বান্দরবান সদর হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী সুবাশ দাস এই তথ‍্যটি নিশ্চিত করেছেন।

গর্ভকালীন যেকোনো জরুরী পরিস্থিতিতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি একজন চিকিৎসকের জন্য সর্বোত্তম ও নির্ভরযোগ্য ডাক্তারি পরীক্ষা পদ্ধতি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ, গঠন-প্রকৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় জানা যায়।এছাড়াও এর সাহায্যে লিভার, স্প্লিন বা প্লিহা, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, পিত্তথলি, চক্ষু, থাইরয়েড, মূত্রথলীসহ নারী ও পুরুষের যৌনাঙ্গের নানাবিধ রোগ সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে আল্ট্রাসনোগ্রাম বন্ধ থাকায় অকেজো হয়ে পড়ছে ৩টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন। হাসপাতালের এ বিভাগ বন্ধ থাকায় বাড়তি খরচে বাইরে থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে রোগীরা। এই মেশিন বন্ধ রাখার পেছনে হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে মনে করছেন রোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছা বশত হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত ৩০ জন চিকিৎসক এর মধ‍্যে ৮/১০ জন চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে জানেন।কর্তৃপক্ষের ব‍্যবস্থাপনার অভাবে তারা সরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে সম্মতি দেননা।

ডা.প্রত‍্যুষ পল ত্রিপুরা,ডা.সমীরণ নন্দী সহ অনেকেই শহরের মুক্তা মেডিকেল,হিলভিউ হাসপাতাল,ই- ম‍্যানুয়েল মেডিকেল সহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে প্রতিনিয়ত আল্ট্রাসনোগ্রাম করছেন।কর্তৃপক্ষ চাইলে এসব অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পর্যায়ক্রমে সদর হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষাটি চলমান রাখতে পারেন।

এছাড়াও ডা.মঞ্জুরুল মোর্শেদ কে চট্রগ্রাম মেডিকেল হতে দীর্ঘ দিন আল্ট্রাসনোগ্রাফির উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হলেও শুরু হয়নি আল্ট্রাসনোগ্রাম।তিনি বতর্মানে রয়েছেন জরুরী বিভাগের দায়িত্বে ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে কর্মরত রেডিওলজিস্ট ডা.তাহমুল হক ডিউটিরত অবস্থায় ষ্ট্রোকজনিত মৃত‍‍্যুবরণ করার পর হতে হাসপাতালের নীচতলায় অবস্থিত আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।নতুনবাবে কোন রেডিওলজিস্ট পোস্টিং না আসাতে দীর্ঘ দিন যাবত বন্ধ রয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাম।

বিভাগটি বন্ধ থাকায় বিভিন্ন চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যার ফলে জেলার বিভিন্ন স্থান ও জেলার বাইরে থেকে আসা রোগীদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

সরকারি নিদিষ্ট খরচে হাসপাতালে ডিজিটাল আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে না পেরে অধিক খরচ দিয়েই বাধ্যতামূলকভাবে বাইরের ডায়াগনস্টিক গুলোতে আল্টাসনোগ্রাম করাচ্ছেন রোগীরা। এক্ষেত্রে গরীব ও অসহায় রোগীদের চরম ভোগান্তি পরিলক্ষিত হয়।

 

এদিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটিই নয়, রেডিওলজিস্টের পাশাপাশি দীর্ঘ দিন থেকে চক্ষু চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত জেলার সাধারণ জনগণ।জানা যায়, চক্ষু চিকিৎসকের পদে বর্তমানে রয়েছেন একজন জেনারেল ডাক্তার।চিকিৎসক সংকটের কারনে হাসপাতালের অনেক ধরনের চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

৩০ জন চিকিৎসকের মধ‍্যে ৫/৬ জনের বেশি চিকিৎসক কখনো হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না।ঢাকা-চট্রগ্রামে নিজস্ব কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে থেকেই দৈনন্দিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর উঠে যায় চিকিৎসকদের।স্বাক্ষরের জন‍্য অনেক চিকিৎসক রেখেছেন মাসিক সন্মানিভুক্ত বিশ্বস্ত হাসপাতাল ষ্টাফ।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এ‍্যমেচিং মার্মা,দিপ্তি ত্রিপুরা,মারজাহান আক্তার ও আতিকুর রহমানসহ আরো ক’জন রোগী জানান, জেলা সদর হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগ বন্ধ থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

বিশেষ করে জরুরী ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে যায়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি কষ্টকর।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জিয়াউল হায়দার বলেন, চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগ দীর্ঘ দিন বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসক পোস্টিং দেওয়ার জন্য আমরা বার বার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে আসছি। চিকিৎসক পেলেই এই বিভাগ আবার চালু হবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. অংশৈপ্রু চৌধুরী জানান,আমরা স্বাস্থ‍্য দপ্তরের সাথে কথা বলেছি,চট্টগ্রাম মেডিকেলে আমাদের তিনজন ডাক্তার কে আল্ট্রাসনোগ্রাফির উপর উচ্চমানের প্রশিক্ষণ দেয়ানো হবে।তারপর আমরা এই সেবাটি চালু করব।

এছাড়াও হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট, কনসালটেন্ট ও চক্ষু চিকিৎসকের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

তারা আমাদের হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে লোকবল নিয়োগ দিলে আশা করছি এ সমস্যাগুলো সমাধান হবে।

 

About Ayaz Ahmed

Check Also

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী   আয়াজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *