Breaking News
Home / আইন বিচার / বান্দরবানে অধিকাংশ যাত্রী ছাউনী মাতাব্বরদের দখলে

বান্দরবানে অধিকাংশ যাত্রী ছাউনী মাতাব্বরদের দখলে

বান্দরবানে অধিকাংশ যাত্রী ছাউনী মাতাব্বরদের দখলে

সিটিজি ট্রিবিউন মোহাম্মদ আজিজ উল্লাহ,বান্দরবান।শনিবার (৮ জানুয়ারি) ২০২২

যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি ও তদারকির অভাবে বান্দরবানের অধিকাংশ যাত্রী ছাউনী চলে গেছে মাতাব্বরদের দখলে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সম্প্রীতির বান্দরবান বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র সমূহের মধ‍্যে অন্যতম। বছরজুড়ে এই নগরীতে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের উপস্থিতি থাকে উল্লেখযোগ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিশেষ এলাকা বিবেচনা করে এই নগরী উন্নয়নে পার্বত‍্য মন্ত্রী তথা সরকারের আন্তরিকতা প্রশংসনীয়। আগত পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও বান্দরবান জেলা পরিষদের অর্থায়নে জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশ ঘেঁষে নির্মিত রয়েছে অসংখ্য যাত্রী ছাউনী।কিন্তু এসব যাত্রী ছাউনীগুলো যাত্রীদের কল‍্যাণে নির্মিত হলেও সর্বদা দখলে থাকে সমাজের একশ্রেণীর মাতাব্বররা।


বান্দরবান সদরস্থ রেইচা বাজার যাত্রী ছাউনীতে প্রতিনিয়তই দেখা যায়,রেইচা বাজারের জলিল মাতাব্বরের পান বাজারজাত প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম।


মেঘলা তালুকদারপাড়া যাত্রী ছাউনীতে নিয়মিত বসে সব্জির দোকান।পাশাপাশি যাত্রীদের অপেক্ষাস্থলে রাখা আছে পরিত‍্যক্ত আসবাবপত্র।

তালুকদার পাড়া যাত্রী ছাউনীর সামনে বসে প্রতিনিয়ত ফল ও সব্জি বিক্রেতারা।


বান্দরবান জেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রবেশ দ্বারে দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনীটি প্রায়ই পরিণত হয়েছে সড়ক নির্মাণ শ্রমিকদের আবাসস্থল হিসেবে।সেখানে নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণেরও নিরাপদ স্থান মনে হয়।


হোটেল হিল ক্রাউন সংলগ্ন কানাপাড়া যাত্রী ছাউনী পরিণত হয়েছে সিএনজি ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ হিসেবে। এছাড়াও এই যাত্রী ছাউনির এক অংশের দখলে তৈরী হয়েছে দোকান।

নীলাচলের মোড়ে যাত্রী ছাউনীতে দেখা মিলে যানবাহন শ্রমিকদের গোল আড্ডা ও একাংশ দখল করেছে একটি দোকান।এসবছাড়াও বেশিরভাগ যাত্রী ছাউনীর চিত্র বেহাল দশা।মাঝেমধ‍্যে কোন যাত্রী ছাউনী পাগলদের দখলেও পরিলক্ষিত হয়।

উল্লেখ্য, তালুকদার পাড়া যাত্রী ছাউনী সংলগ্ন ১১ টি ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি সম্বলিত নিপুন কারুকাজের সম্প্রীতির স্তম্ভটির অবস্থা আরও দুর্দশাগ্রস্ত।স্তম্ভের কাঠামোতে শুকানো হচ্ছে কাঁথা,ফুলঝাড়ু ও শীতবস্ত্র সহ বিভিন্ন দ্রব‍্য সামগ্রী।

স্থানীয়রা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিধিনিষেধ অমান‍্যকারী অসচেতন জলিল মাতাব্বর গং এবং তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক আইনী ব‍্যবস্থা নেয়া জরুরী।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন,বান্দরবানে জেলা প্রশাসন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপদ, ট্রাফিক পুলিশ সহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রশাসন সহ থাকলেও, কোন দপ্তর এই যাত্রী ছাউনীর তদারকি করবেন?- এই বিষয়ে হয়তবা কোন নির্দিষ্ট না থাকার কারনে যাত্রী ছাউনী গুলোর তদারকি হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজল কান্তি দাস বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি বান্দরবানের অভাবনীয় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।কিন্তু উন্নয়নের সকল ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে আমাদের সকলের।যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সামাজিকভাবে নিজস্ব জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে এসব থেকে পরিত্রান মিলতে পারে।

 

About Ayaz Ahmed

Check Also

সরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত তারা! ৩৮ দালাল আটক

সরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত তারা! ৩৮ দালাল আটক   মোঃআলাউদ্দীন,সিটিজ ট্রিবিউন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *