Breaking News
Home / জাতীয় / বর্ষীয়ান নেতা নায়ক নাীয়ীকাদের হারানোর বছর

বর্ষীয়ান নেতা নায়ক নাীয়ীকাদের হারানোর বছর

বর্ষীয়ান নেতা নায়ক নাীয়ীকাদের হারানোর বছর

:কামালউদ্দিনখোকন:

আর মাত্র এক দিন বাকি। বিদায় নেবে ২০২১ সাল। নতুন বছর ২০২২ সালকে নিয়ে এখন সবার ভরসা নির্ভর করছে। ২০২১ সালে করোনার প্রকোপ কিছুটা কাটিয়ে অনেকে দেখেছেন আশার আলো। আবার অনেকের আলো নিভে গিয়েছে চিরতরে। এই বছরই বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেতাঅভিনেত্রীকে হারিয়েছে দেশ।

২০২১ সালে আমরা চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি যেসব তারকা ও গুণী মানুষ: টি এম শামসুজ্জামান
আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান (এটিএম শামসুজ্জামান) চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান। পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা নিয়ে কয়েক মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর সূত্রাপুরের নিজ বাসভবনে নেওয়া হলে সেখানে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। একজন অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন এটিএম। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয় বার। এর মধ্যে দায়ী কে? (১৯৮৭) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে; ম্যাডাম ফুলি (১৯৯৯), চুড়িওয়ালা (২০০১) ও মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা বিভাগে এবং চোরাবালি (২০১২) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্বঅভিনেতা বিভাগে পুরস্কার পান। ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আয়োজনে তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন নন্দিত এ অভিনেতা।

সারাহ বেগম কবরী
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী মারা যান চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

চট্টগ্রামের মেয়ে কবরীর পারিবারিক নাম মিনা পাল। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়, ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিগুলো।  ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিতে তার অভিনয় দর্শকদের স্মৃতিতে এখনো অমলিন। ১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ ছবিতে অভিনয় করে ছাড়িয়ে যান আগের সব জনপ্রিয়তাকে। পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। ষাট ও সত্তরের দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা কবরী রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবশেষ সরকারি অনুদানের ‘এই তুমি সেই তুমি’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন ঢাকাই ছবির এ ‘মিষ্টি মেয়ে’।

ফকির আলমগীর
২০২১ সালের ২৩ জুলাই মারা যান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

গণসংগীত ও দেশীয় পপ সংগীতে ফকির আলমগীরের ব্যাপক অবদান। তিনি ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেসা। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে শিল্পী একজন শব্দসৈনিক হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন।

মিতা হক
২০২১ সালের ১১ এপ্রিল মারা যান রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক। প্রথমে করোনা আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও কদিন বাদে হার্ট অ্যাটাক হয় মিতা হকের। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ওয়াসিম
ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওয়াসিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে মারা যান গত ১৮ এপ্রিল। এক সময় রাজকীয় সিনেমা মানেই ছিল ওয়াসিমের সরব উপস্থিতি ছিল। ১৯৭৩ সালে মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে প্রথম অভিনয় করার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কখনো অ্যাকশন, কখনো ফোক, আবার কখনো রোমান্টিক- সব ঘরানার সিনেমায় নিজেকে যোগ্য নায়ক হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন তিনি।

জানে আলম
জানে আলমের একটি গান খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। গানটি হচ্ছে ‘একটি গন্ধমেরও লাগিয়া’। এ ছাড়া, আরও অসংখ্য গান করে মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন শিল্পী হিসেবে। গত ২ মার্চ তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে বিদায় নেন।

রাবেয়া খাতুন
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি একুশে পদক বিজয়ী বাংলাদেশি লেখিকা রাবেয়া খাতুন মারা যান। বেশ কিছুদিন বাধ্যর্কজনিত রোগে ভুগে বনানীতে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

শাহীন আলম
চলতি বছরের ৮ মার্চ মারা যান চলচ্চিত্র অভিনেতা শাহীনূর আলম শাহীন (শাহীন আলম)। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগে ভুগে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

ইন্দ্র মোহন রাজবংশী
ইন্দ্রমোহন রাজবংশী ৭ এপ্রিল ২০২১ মার যান। তিনি একজন বাংলাদেশী লোকগানের শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি, সারি, মুর্শিদি ইত্যাদি গাইতেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীও ছিলেন।

. ইনামুল হক
নাট্যকার ও অভিনেতা ড. ইনামুল হক ১১ অক্টোবর ঢাকায় মারা যান। ফেনীর সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে ১৯৪৩ সালের ৭ মার্চ জন্ম ইনামুল হকের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে ১৯৬৫ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগে। ১৯৮৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

মাহমুদ সাজ্জাদ
কলেজ জীবন থেকেই মঞ্চনাটকে যুক্ত ছিলেন মাহমুদ সাজ্জাদ। তারপর টেলিভিশন নাটকেও ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেন। টেলিভিশনে তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘সকাল-সন্ধ্যা’। এরপর তিনি সহস্রাধিক নাটকে অভিনয় করে দর্শক মন জয় করেন। এ বছরে ২৪ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এছাড়া, ‘ঢাকা ৮৬’ খ্যাত চলচ্চিত্রকার শফিকুর রহমান, ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রযোজক কামরুল, বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনোয়ারার স্বামী মহিতুল ইসলাম, অভিনেতা শামীম ভিস্তি, নৃত্য পরিচালক সুমন রহমান, কাইয়ুম চৌধুরীর স্ত্রী শিল্পী তাহেরা চৌধুরী, সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ, নাট্যপরিচালক ও অভিনেতা কায়েস চৌধুরী এ বছর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

সাত সংসদ সদস্যকে হারানোর বছর

 

বিদায়ী বছরে (২০২১ সাল) সাত সংসদ সদস্যকে (এমপি) হারিয়েছে জাতীয় সংসদ। এদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের। তিনজন মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। মহামারির কারণে সংসদ ভবনে তাদের কারও জানাজা হয়নি।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস
চলতি বছরের মার্চ মাসে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসকে হারায় জাতীয় সংসদ। সিলেট-৩ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। হ্যাটট্রিক করলেও হেরে যান করোনাভাইরাসের কাছে। ২০২১ সালের ১১ মার্চ তার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তার মৃত্যুর সংবাদ নির্বাচনী এলাকা ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। এসময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

আসলামুল হক
২০২১ সালের ৪ এপ্রিলে মৃত্যু হয় আসলামুল হকের। স্ট্রোক করে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনবারের এই সংসদ সদস্য। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি ঢাকা-১৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

সে সময় চলা সংসদ অধিবেশনে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধিবেশনে তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সত্যিই খুব কষ্টকর। এই সংসদের বেশ কয়েকজনকে আমরা হারালাম। আসলাম সুস্থ ছিলেন। গতকালও সংসদে এসেছিলেন। আজকে নেই। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাই হচ্ছে মানুষের জীবন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।

আবদুল মতিন খসরু

আসলামুল হকের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই একই মাসে আরেকটি দুঃসংবাদ আসে। এবার ১৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যু হয়। তিনি করোনাভাইরাসে মারা যান।১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া খসরু ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি হয়েছিলেন সভাপতি। ১২ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেন। কিন্তু দায়িত্বের মেয়াদ শেষ না হতেই ৭১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান।

অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ
সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ ছিলেন কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য। ৭৩ বছর বয়সী আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ রাজনীতিক চান্দিনা থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি।

পিত্তথলির পাথরের অপারেশনের জন্য ২০২১ সালের ২ জুলাই আলী আশরাফকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফুসফুসে ক্ষতসহ দেখা দেয় নানা সমস্যা। ৯ জুলাই নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শত চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি তাকে। ২০২১ সালের ৩০ জুলাই মৃত্যু হয় তার।

হাসিবুর রহমান স্বপন
এরপর চিরবিদায় নেন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন। ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। সবাই দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও তুরস্কের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।

এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক থেকে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন হাসিবুর রহমান স্বপন। কিন্তু ২৫ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ফের কিডনি জটিলতা দেখা দেয় তার। চিকিৎসার জন্য ২৯ আগস্ট পুনরায় যান তুরস্কে। কিন্তু সেখান থেকে তার আর দেশে জীবিত ফেরা হয়নি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

হাসিবুর রহমান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ৮০’র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।

পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ ঐকমত্যের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সে সময় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী
জাতীয় পার্টির (জাপা) সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী মারা যান ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চট্টগ্রামের এই নারী ছিলেন অধ্যাপকও।

একাব্বর হোসেন
সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবশেষ না মারা যান মো. একাব্বর হোসেন। ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর মৃত্যু হয় তার। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৩৬ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

একাব্বর হোসেন টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের টানা চারবারের সংসদ সদস্য। এছাড়া ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

ধানমন্ডি-৭ নম্বর রোডের বায়তুল আমান মসজিদে তার প্রথম জানাজা হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদের হুইপ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার প্রতি ফুল দিয়ে জানানো হয় শ্রদ্ধা। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

মৃত্যুবরণকারী এসব সংসদ সদস্যের জানাজা হয়নি সংসদ ভবনে। অথচ কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে সংসদে অনুষ্ঠিত জানাজায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ছাড়াও নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা হলে পান গার্ড অব অনার। জানাজায় সহকর্মীরা ছাড়াও সংসদে কর্মরত ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীরা অংশ নেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে তাদের ভাগ্যে এসব জোটেনি।

জাতীয় সংসদে আবদুল মতিন খসরু ও আসলামুল হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আসলে জীবনটাই হয়ে গেছে এমন,

কখনো বাদী কখনো আসামি পরীমনি

 

; ঘটনাবহুল ২০২১ শেষ হচ্ছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সতর্কবার্তা দিয়ে। বছরজুড়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে বহু মানুষের মৃত্যু দেখেছে দেশ। তবে মহামারির কালো ছায়া ছাপিয়ে মাদককাণ্ড ও ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা ইস্যুতে বছরের শেষভাগে তুমুল আলোচনায় ছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। এসব কর্মকাণ্ডে তার নামের পাশে সমানভাবে জড়িয়ে যায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও প্রযোজক-অভিনেতা নজরুল ইসলাম রাজের নামও। কখনো বাদী আবার কখনো আসামির ভূমিকায় পরীমনির উপস্থিতিতে ঢাকার আদালতপাড়ায়ও ছিল বাড়তি উত্তাপ।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। এর কিছুদিন পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীর বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব। এ দুই মামলায় নাসির-পরীমনি গ্রেফতার হন। তাদের একাধিকবার রিমান্ডেও নেওয়া হয়। জামিনও পান তারা। বর্তমানে নাসিরের বিরুদ্ধে করা মামলায় বাদী হিসেবে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন পরীমনি। আবার মাদক মামলার আসামি হিসেবেও তাকে আদালতে আসতে হয়।বিদায়ী বছরে ঢাকার আদালতে যেসব আলোচিত মামলা ও মামলার রায় হয়েছে, তা নিয়ে পাঁচপর্বের সালতামামির আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব।

পরীমনিকে ধর্ষণহত্যাচেষ্টা: নাসিরঅমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
ঢাকার বোট ক্লাবে পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৪ জুন রাজধানীর অদূরে সাভার থানায় মামলায় করেন পরীমনি। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের একদিন পরই ১৫ জুন নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও পরীর বন্ধু অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিনই সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় করা মাদক মামলায় নাসির-অমি সাতদিনের রিমান্ডে থাকায় সেদিন এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।

মাদক মামলায় রিমান্ড শেষে পরীমনির ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় নির্ধারিত দিনে পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসান নাসির-অমির বিরুদ্ধে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৯ জুন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমীদা নাসির-অমির জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাসির-অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার অপর আসামি হলেন শহীদুল আলম।

গত ১৩ ডিসেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক হেমায়েত উদ্দিন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে আসামি শহীদুল আলম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরীমনির মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িতে করে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওয়ানা হন। পথে অমি বলেন- ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে।

 

অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করান। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখন ক্লাবটির সিকিউরিটি গার্ড গেট খুলে দেন। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলেন এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পারো।

এজাহারে পরীমনি আরও উল্লেখ করেন, তখন আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন ও কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদ্যপানের জন্য জোর করেন। আমি মদ্যপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।

এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে গেলে আমার ফোনটি কেড়ে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এসময় দুই নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন এক নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করেন। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, দুই নম্বর আসামি অমি পরিকল্পিতভাবে আমাকে বর্তমান বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যান। তিনিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন আসামি ও নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে ও জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা
গত ৪ আগস্ট ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে’ অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওইদিনই রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে র‌্যাব সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ এবং তাদের দুই সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপু ও সবুজ আলীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে বনানী থানায় নেওয়া হয়। এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। আলাদা মামলা হয় রাজ ও সবুজ আলীর বিরুদ্ধেও।

 

ওইদিনই আলাদা মাদক মামলায় পরীমনি ও দীপুর সাতদিন এবং রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীর সাতদিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত তাদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরে মাদক মামলায় আরও দুই দফায় পরীমনিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়ার প্রায় এক মাস পর গত ১ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান চিত্রনায়িকা পরীমনি।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন। আগামী ২ জানুয়ারি আলোচিত এ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। সেখানে নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।

২০১৪ সালে সিনেমায় ক্যারিয়ার শুরু করা পরীমনি এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি চলচ্চিত্র ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।

নানান ঘটনায় বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। কখনো রেলওয়ে রানিং স্টাফদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি আবার কখনো মাইলেজ রীতি রহিতকরণ, বাস ট্রেন সংঘর্ষ।

ঐতিহাসিক সবুজ বলয় খ্যাত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ছিল নিয়মিত আন্দোলন।

গত ৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের খুলশী থানার ঝাউতলা রেলক্রসিংয়ে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস-সিএনজির ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম, পাহাড়তলী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শারতাজ উদ্দিন শাহীন ও ডালি কনস্ট্রাকশনের ইঞ্জিনিয়ার বাহা উদ্দিন সোহাগ মারা যান। এছাড়া আহত হন আরও ছয়জন।

 

ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন সেতু

লেভেল ক্রসিং, ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও সেতু ট্রেন দুর্ঘটনার একটি কারণ। প্রতিদিন তিনবার করে পুরো রেললাইন, সিগন্যাল ও সেতু পরিদর্শনের কথা থাকলেও অনেক সময় বছরে একবারও পরিদর্শনে যাওয়া হয় না। দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, লাইনচ্যুত হয়ে ও লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। সারা দেশে আছে ৩ হাজার ৬টি রেল সেতু, যার ৯০ শতাংশ তৈরি হয়েছে ব্রিটিশ আমলে। জোড়াতালি দিয়ে সচল রাখা হয়েছে সেতুগুলো। এগুলোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিভিন্ন রুটের ট্রেন।

রেললাইনে পাথর না থাকা, সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি, লাইন ক্ষয়, স্লিপার নষ্ট, লাইন ও স্লিপার সংযোগস্থলে লোহার হুক না থাকার কারণেও ঘটছে দুর্ঘটনা। লাইনে নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে (প্রায় ৪০-৫০ ফুট) পয়েন্ট রয়েছে। এসব পয়েন্টের মধ্যে দুইপাশে ৮টি করে মোট ১৬টি নাট-বল্টুসহ ১৬টি হুক, ক্লিপ থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ পয়েন্টের মধ্যে ১৬টির স্থলে রয়েছে ৫-৭টি ।

ব্রিটিশ আমলের রেল সেতু, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন কোচ, জরাজীর্ণ রেললাইন ও লোকবলের ঘাটতি নিয়ে কথা হয়েছে সংসদে। দেশের প্রায় ৩ হাজার ৩৩২ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে প্রায় সময় খোলা থাকে ফিশপ্লেট, ক্লিপ, হুক, নাট-বল্টুসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। এমনকি রেললাইন মজবুত ও স্থিতিশীল রাখতে স্থাপিত স্লিপারগুলোর অবস্থাও নাজুক। আবার এসব স্লিপারকে যথাস্থানে রাখতে যে পরিমাণ পাথর থাকা প্রয়োজন অধিকাংশ স্থানে তা নেই। কোথাও কোথাও পাথরশূন্য অবস্থায় আছে স্লিপারগুলো।

প্রতিদিন রেললাইন, সিগন্যাল ও ব্রিজ পরিদর্শন করা ছাড়াও ট্রেন ছাড়ার পূর্বে ইঞ্জিন ও প্রতিটি বগির চাকাসহ বিশেষ বিশেষ যন্ত্রাংশ চেক করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না।

লোকবল সংকট

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে লোকবল সংকট দীর্ঘদিনের। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শূন্য রয়েছে ৭ হাজার ৯৯ জনের পদ। ২৪৫ জন সহকারী স্টেশন মাস্টার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল রেলওয়ে। কিন্তু তাদের চাকরিও নানান কারণে অনিশ্চিত। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদ রয়েছে ১১টি। কিন্তু সেখানে আছেন মাত্র ৫ জন। এছাড়াও বিভিন্ন দফতরে লোকবল সংকট থাকায় সঠিক কাজ যথাসময়ে হচ্ছে না বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লোকবল বাড়ানোর জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন কোচ

মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের কারণেও দুর্ঘটনায় পড়ছে ট্রেন। দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেন থেকে ১০টি নিম্নমানের ইঞ্জিন এনে সমালোচনার মুখে পড়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই সমালোচনার তোয়াক্কা না করেই গত ২১ নভেম্বর আরও ১০টি ইঞ্জিন একই কোম্পানি থেকে আমদানি করে রেলওয়ে। সেই নতুন ইঞ্জিনগুলো বহরে যুক্ত হতে না হতেই ৩টি অকেজো হয়ে গেছে।

এছাড়াও গত ১৪ ডিসেম্বর কোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানি থেকে আমদানি করা নতুন ১০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৩০১৪ সিরিয়ালের একটি ইঞ্জিন টার্ন টেবিল থেকে অসতর্কতা ও অদক্ষতার  কারণে পড়ে যায়।

রেলপথে মৃত্যু

ট্রেনের ছাদে উঠে কিংবা এক বগি থেকে অন্য বগিতে লাফিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় নিচে পড়ে কাটা পড়ে মৃত্যু হয় অনেক পথশিশু ও ভবঘুরের। ৩০ অক্টোবর নগরের কদমতলী রেলগেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে মনুজা বেগম (৭০) নামে এক ভিক্ষুকের মৃত্যু হয়। ৯ অক্টোবর জোরারগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতনামা (২২) এক যুবকের মৃত্যু হয়। ৫ অক্টোবর হাটহাজারীর মীরেরহাট ইউনিয়নের আলমপুর এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় আব্দুস সোবহান (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা যান। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও দুজন আহত হয়। ৯ সেপ্টেম্বর সকালে সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় তিনি মারা যান। গত ৩১ অক্টোবর লাফাতে গিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বালুছড়া এলাকায় ১০ বছরের এক পথশিশু মারা যায়। গত ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট এলাকায় রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের দু পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়াও সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর হাটহাজারীর মীরেরহাট বাজারের রেল ক্রসিংয়ের উত্তরে ট্রেনে কাটা পড়ে রাউজানের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

মাইলেজ রীতি

সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রেলওয়ে ট্রেন চালকদের (রানিং স্টাফ) যে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয় সেটিকে ব্রিটিশ আমল থেকে মাইলেজ বলা হয়। এছাড়াও রেলওয়ে রানিং স্টাফরা প্রতি ৮ ঘণ্টা কর্ম সম্পাদনের জন্য ১ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ যে অর্থ দেওয়া হয় তাই মাইলেজ।

রেলওয়ের সংস্থাপন কোডের বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাফিক রানিং স্টাফ এবং লোকোমোটিভ রানিং স্টাফদের ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ভিত্তিতে রানিং অ্যালাউন্স দেওয়ার প্রস্তাব হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানিং স্টাফদের বিশেষ এ ভাতা প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেন। কিন্তু সম্প্রতি ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদান প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ ভাতা সীমিত হয়ে যাওয়ার ঘোষণা মানছেন না রানিং স্টাফরা। এ মাইলেজ পাওয়ার জন্য বছরজুড়ে আন্দোলনে রেলওয়ে রানিং স্টাফরা।

সর্বশেষ ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলন্ত ট্রেনে দৈনিক ১০০ কিলোমিটার কিংবা তার চেয়েও বেশি দায়িত্ব পালন করলেও ওই দিনের বেতনের ৭৫ শতাংশের বেশি মাইলেজ ভাতা পাবেন না সংশ্লিষ্ট রানিং স্টাফ। আর মাস শেষে এই মাইলেজ মূল বেতনের বেশি হবে না। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা।

করোনায় রেলওয়ের ক্ষতি

২০২১ সালে মার্চে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধিতে লকডাউন আর যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয় গড়ে দিনে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ টাকা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে গণপরিবহনের মতো ট্রেনেও অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ১ এপ্রিল থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায় সব যাত্রীবাহী ট্রেন। এভাবে চলে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করায় দিনে পূর্বাঞ্চল রেলে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। ৫ দিনে ক্ষতি ৬৫ লাখ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে বন্ধ করে দেওয়া হয় সব গণপরিবহন। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতে না পারায় ৫ এপ্রিল থেকে দিনে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতি রেলের।

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ

পূর্ব রেলের সদর দফতর চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় পিপিপিতে একটি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এ হাসপাতাল নির্মাণের খবরে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ এর বিরোধিতায় আন্দোলনে নামে। যে আন্দোলন এখনো চলছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিআরবি এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে-ইউনাইটেড হাসপাতালের চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৯ সংগঠনের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও গত ২৪ জুলাই সিআরবিতে পিপিপি’র হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের চুক্তি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামের ১০১ বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন সংগঠনের আয়োজনে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে সমাবেশ করছেন।

 

সালতামামি-২০২১

‘মানুষখেকো’ নালা-খাল আতঙ্কে ছিল চট্টগ্রাম

জলজ্যান্ত মানুষটি নালায় পড়ে মুহূর্তেই ‘নেই’ হয়ে গেলেন। সিসিটিভি ফুটেজের সেই দৃশ্য নাড়া দিয়েছে দেশবাসীকে।

ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে বৃষ্টির পানিতে নিখোঁজ হওয়া ছালেহ আহমেদের (৫০) খোঁজ আর মেলেনি।

তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভান্ডার দরবার শরিফে যাওয়ার জন্য মুরাদপুরে এসেছিলেন। ওখান থেকে বাসে করে দরবার শরিফে যাওয়ার কথা ছিল। সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ নিখোঁজের ঘটনায় সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের অবহেলাকে দায়ী করেছিল তদন্ত কমিটি।

শুধু কি মুরাদপুর, নগরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ‘মানুষখেকো’ নালা আর খালগুলো ২০২১ সালে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির সাক্ষী। কী বর্ষা, কী গ্রীষ্ম বছরজুড়ে রীতিমতো আতঙ্কে দিন পার করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সেই বাবার কথা মনে পড়ে

পথশিশু মোহাম্মদ কামালের ছবি হাতে চশমা খালের পাড়ে বিলাপ করছিলেন ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বাবা কাউসার। কামাল বন্ধুর সঙ্গে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে খালে নামে। একপর্যায়ে আবর্জনার স্তূপের নিচে তলিয়ে যায়। একজন উঠতে পারলেও কামাল শক্তিতে পেরে উঠেনি। তলিয়ে যায় সে।

ষোলশহর ভূমি অফিসের পাশের চশমা খালে কামাল নিখোঁজ হলেও তিন দিন পর গত ৬ ডিসেম্বর ছোট্ট শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় মুরাদপুরের মির্জা খাল থেকে।

চশমা খালে ভেসে যান তারা

গত ৩০ জুন মেয়র গলি এলাকায় টিঅ্যান্ডটি কলোনির বাইলেন দিয়ে যাওয়ার সময় চশমা খালে পড়ে গিয়েছিল একটি সিএনজি অটোরিকশা। বৃষ্টির কারণে খালটি তখন ছিল পানিতে টইটম্বুর। পাহাড়ি ঢলের স্রোতও ছিল প্রচণ্ড। সেই স্রোতে ভেসে যান চালক সুলতান ও যাত্রী খাদিজা বেগম (৬৫)। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শেহেরীন সাদিয়ার ফেরা হয়নি আর

চশমা কিনে মামার সঙ্গে বাসায় ফেরার পথে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নগরের আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের ছাত্রী শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়া (১৯)। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে এক টন আবর্জনা পরিষ্কারের পর উদ্ধার হয় সাদিয়ার মরদেহ।

ভাগনিকে উদ্ধারের জন্য মামা সঙ্গে সঙ্গে নালায় লাফ দেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। নালায় তরুণী পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নালার বিভিন্ন অংশে খোঁজাখুঁজি করেন ডুবুরি দলের সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে ৩০ গজ দূরে ওই নালা থেকে নিথর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এরপর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, নগরে ৫৭টি খাল ও ছয়শ’ নালা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্দতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের অধীনে রয়েছে বড় খাল ও বড় নালাগুলো। বাকি খাল ও নালা দেখভাল ও পরিষ্কারের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। সিডিএ ও চসিকের সমন্বয়হীনতা, প্রকল্প এলাকায় বেড়া না দেওয়াসহ নানা কারণে খাল ও নালায় পড়ে মানুষ আহত এমনকি নিহতও হচ্ছে।  এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়া, সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান উপেক্ষা করা, সেবা সংস্থাগুলোর ইউটিলিটি সার্ভিসের পাইপ লাইনগুলো নালার মাঝ বরাবর নিয়ে যাওয়া, অপচনশীল প্লাস্টিক, ফোম, পলিথিনসহ গৃহস্থালি বর্জ্যে  খাল ও নালা ভরে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকতা হারিয়ে গেছে।

কর্ণফুলী নদী গবেষক প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী বলেন, খাল, নালা ও নর্দমায় পড়ে এক বছরে ৫ জন মানুষ মারা যাওয়া দুঃখজনক। শরীরে যেমন খাদ্যনালি আছে তেমনি খাল-নালা-নর্দমা হচ্ছে নগরের খাদ্যনালি। এগুলো পরিষ্কার, নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। একটি ভবন নির্মাণের সময় আমরা টিনের বেড়া, চটের বেড়া দিই নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু নালায় যে উন্নয়নকাজ চলছে সেখানে তেমনটি দেখা যায় না। আবার অনেক নালার পাশে সড়কে হাঁটু সমান প্রাচীর নেই। নয়তো একটি সিএনজি অটোরিকশা কীভাবে খালে পড়ে যায়? আসলে আমাদের উন্নয়নের পাশপাশি জনস্বার্থ, জনস্বাস্থ্য ও জনসেবার বিষয়টিও দেখতে হবে। অন্যের ওপর দায় বা দোষ চাপিয়ে সমস্যা আড়াল করলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।  প্রতিবেদন:কেইউকে।

 

 

About kamal Uddin khokon

Check Also

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রাজনৈতিক নয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রাজনৈতিক নয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিটিজিট্রিবিউন: ঢাকা: বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *