Breaking News
Home / আইন বিচার / চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সহিংসতার ঘটনায় ০৮ সন্ত্রাসী’কে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সহিংসতার ঘটনায় ০৮ সন্ত্রাসী’কে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সহিংসতার ঘটনায় ০৮ সন্ত্রাসী’কে আগ্নেয়াস্ত্রসহ চট্টগ্রাম মহানগরী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বান্দরবান সদর ও ঢাকা মহানগরীর তেজকুনীপাড়া হতে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

 

সিটিজি ট্রিবিউন চট্টগ্রাম

 

চট্টগ্রাম জেলায় গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কতিপয় অস্ত্রধারী দুষ্কৃতিকারী ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা চালায়। উক্ত সহিংসতার ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রুজু করা হয়।

সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্ন ঘটায় গণমাধ্যমসমূহে সহিংসতাকারীদের চিহ্নিত করে গুরুত্বের সহিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে র‍্যাব- উক্ত সহিংসতা ও নাশকতার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

উক্ত সহিংসতায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে র‍্যাব- সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে র‍্যাব-২, র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-১৫ অভিযান পরিচালনা করে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ রাতে র‍্যাব-১৫ এর অভিযানে বান্দরবান সদর থেকে সহিংসতায় অংশগ্রহণকারী

(১) নাসির উদ্দিন (৩১),’কে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য মতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে (২) মোঃ মোরশেদ (২৬),(৩) কোরবান আলী (৩৭), (৪) মোঃ ইসমাঈল (৫৫)’দেরকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের দেখানো মতে সাতকানিয়ার খাগরিয়া হতে উদ্ধার করা হয় সহিংসতায় ব্যবহৃত ০৩টি একনলা বন্দুক, ০১টি দোনলা বন্দুক, ০১টি ওয়ান শুটারগান, অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ও ৪২ রাউন্ড গোলাবারুদ।

একই রাতে র‍্যাব-৭ এর অপর একটি অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরী হতে বর্ণিত সহিংসতায় জড়িত (৫) মোঃ জসিম (২৪),কে গ্রেফতার করা হয় এবং গ্রেফতারকৃত জসিম এর দেয়া তথ্যানুসারে চট্টগ্রাম এর চান্দনাইশ হতে (৬) মোঃ মিন্টু (২৬),কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের তথ্যানুসারে র‍্যাব-সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে অদ্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ ভোরে -র‍্যাব-২ এর অভিযানে ঢাকা মহানগরীর তেজকুনীপাড়া এলাকা হতে বর্ণিত সহিংসতার নেতৃত্ব প্রদানকারী (৭) মোঃ কায়েস (২২),এবং তার সহযোগী (৮) মোঃ নুরুল আবছার (৩৩)’দেরকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা সহিংসতার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে।

গত ০৭ ফেব্রæয়ারি ২০২২ তারিখ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সকাল ০৯:৩০ ঘটিকা থেকে শুরু করে বর্ণিত সহিংসতায় শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী উক্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও নাশকতা চালায়। উক্ত হামলায় নিহত হয় ০২ জন ও অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়।

বর্ণিত সহিংসতার ঘটনায় সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের ০২টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার কারণে গণমাধ্যমসমূহ বর্ণিত সহিংসতার ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নেয় এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতঃ বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে র‍্যাব-চিহ্নিত সন্ত্রাসীসহ জড়িত অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এজন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম সমূহকে র‌্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গ্রেফতারকৃত মোঃ কায়েস গত দুই বছর যাবত চট্টগ্রামে একটি কোম্পানীতে চাকুরী করে আসছে। পাশাপাশি সাতকানিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব প্রদান করে থাকে। সে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ৩০-৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পরিচালনা করত।

সে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে তার দলের সদস্যদের সরবরাহ করত বলে জানা যায়। বর্ণিত সহিংসতার ঘটনায় তার নেতৃত্বে জসিম, মোর্শেদ, মিন্টু, আবছারসহ আরো শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালায়। সহিংসতা পরবর্তীতে সে ঢাকায় আত্মগোপন করে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় সহিংসতার মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত নাসির একটি কোম্পানীর চট্রগ্রাম বন্দর শাখার কর্মচারী। সে ২০১১-১৩ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী ছিল। পরবর্তীতে দেশে এসে ঢাকার শাহাবাগে ফুল বিক্রি করত। সে উক্ত সহিংসতায় সশস্ত্র দলের নেতৃত্ব প্রদান করেছে বলে জানা যায়।

সহিংসতাকালীন নাসিরকে মেরুন রংয়ের মাফলার ও মুখে লাল-সবুজ রং এর মাস্ক পরিহিত অবস্থায় একটি একনলা বন্দুক হাতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সে বান্দরবানের গহীন জঙ্গলে আত্মগোপন করে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী।

গ্রেফতারকৃত আবছার ঢাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান সমিতির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। যখনি সাতকানিয়ায় কোন সহিংসতার সম্ভাবনা দেখা দেয় তখন সে এলাকায় চলে আসে।

সে নির্বাচনের পূর্বে ঢাকা হতে সাতকানিয়াতে গমন করে এবং কায়েসের নির্দেশে সাতকানিয়ার খাগরিয়াতে সহিংসতাকালীন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব প্রদান করে। পরবর্তীতে সে ঢাকায় চলে আসে ও আত্মগোপন করে। সে কায়েসকেও আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করে। আবছারকে ঢাকার তেজকুনী পাড়া হতে গ্রেফতার করা হয়।

সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় সহিংসতার মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মোরশেদ কায়েসের গ্রুপের একজন অন্যতম সক্রিয় সদস্য। সে পেশায় একজন সিএনজি চালক। তাকে ঘটনার দিনে একটি একনলা বন্দুক হাতে সহিংসতা ও নাশকতা চালাতে দেখা যায়।

সহিংসতার পর সে সাতকানিয়াতে আত্মগোপনে থাকে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় সহিংসতার মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত জসিম খাগরিয়ার বাসিন্দা ও পেশায় রাজমিস্ত্রী হলেও চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন সহিংসতায় বিভিন্ন সময়ে অংশ নেয়। সহিংসতাকালীন একটি ছবিতে লাল জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তাকে কার্তুজ/এ্যামোনিশনের একটি বস্তাসহ গ্রেফতারকৃত মোরশেদের পাশে দেখা যায়। সহিংসতার পর সে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আত্মগোপন করে।

গ্রেফতারকৃত মিন্টু পেশায় গাড়ি চালক। সে বিগত ১৩-১৪ বছর যাবত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালিয়ে আসছে। কায়েসের নির্দেশে সে সহিংসতার উদ্দেশ্যে বাহির থেকে অস্ত্র পরিবহণ করে। এছাড়াও তার তত্ত্বাবধানে সহিংসতার উদ্দেশ্যে ৩০-৩৫ জন বহিরাগত’কে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। সহিংসতাকালীন তাকে ১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধে চান্দনাইশ থানায় দস্যুতা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত কোরবান আলী পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী। সে বর্ণিত সহিংসতাকারীদের লাঠিসোঠা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ করার মাধ্যমে সহিংসতায় প্রতক্ষ্যভাবে অংশগ্রহণ করে। সহিংসতার পরবর্তীতে সে সাতকানিয়াতে আত্মগোপনে থাকে। তার বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ইসমাঈল পেশায় একজন জমির দালাল। পূর্বে রংপুর হতে তামাক সংগ্রহ করে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত। সে সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে সহিংসতায় লাঠিসোঠা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। সহিংসতার পরবর্তীতে সে সাতকানিয়াতে আত্মগোপনে থাকে। সে বর্ণিত সহিংসতায় সাতকানিয়া থানায় অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভ‚ক্ত আসামী।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত কায়েস বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়ায় অস্ত্র সংগ্রহ করত বলে তথ্য পাওয়া যায়। অস্ত্র সংগ্রহ করে কায়েস তার বিশ^স্ত সদস্যদেরকে অস্ত্র সরবরাহের দায়িত্ব দিত। তারা গ্রæপের অন্যান্য সদস্যদেরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সহিংসতায় অস্ত্র সরবরাহ করত। কার্যশেষে অস্ত্র ফেরত দিলে তারা স্থানীয় কবরস্থান ও পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে সেসব অস্ত্র লুকিয়ে রাখত।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ সাতকানিয়াতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপচেষ্টার উদ্দেশ্যে উক্ত সহিংসতা ও নাশকতা চালায়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

About Ayaz Ahmed

Check Also

সরকারী ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে রাতের আধারে পাহাড় কাটার মহোৎসব

সরকারী ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে রাতের আধারে পাহাড় কাটার মহোৎসব   সিটিজি ট্রিবিউন বান্দরবান প্রতিনিধি, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *