সিটিজি ট্রিবিউন ডটকম ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতির অভিষেক রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ হয়, আগুনসন্ত্রাসীদের সাথে নয় : তথ্যমন্ত্রী সিটিজিট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক আয়াজ আহমেদ সানি’র মায়ের মৃত্যু অসুস্থ মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন : সাংবাদিক আয়াজ আহমদ সানি অনিয়মের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফলের গেজেট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন বান্দরবান জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আত্ন-প্রকাশ আগামীকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আন্তজার্তিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের যৌক্তিকতা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন ঢাকার বাড্ডায় ‘সেলুন পাঠাগার বিশ্বজুড়ে’র বুক সেলফ বিতরণ মা হওয়ার ইচ্ছা ছিল অঙ্কিতার, ‘বিগ বস’-এ ভিকির সঙ্গে অশান্তির পরে কি ভেস্তে যাবে সব? দূর্গাপূজা উপলক্ষে র‍্যাবের রোবাস্ট পেট্রোলিং ও চেকপোস্ট
রাজনীতির সকল সংবাদ ::

ঘুরে এলাম কাপ্তাই,মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া

  • Ashiq Arfin
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২
  • ৭৯৪ বার পড়া হয়েছে

সিটিজিট্রিবিউন, চট্টগ্রাম 

বেড়াতে ভালো লাগে সবারই, কিন্তু নগর জীবনের চলমান ব্যস্ততায় বেড়ানোর জন্য সময় বের করাটাই মুশকিল। লেকের নীল জলরাশির সাথে দিগন্তে মিশে যাওয়া নীল আকাশের মিতালি ভালো লাগেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, কাছাকাছি যদি প্রকৃতির বর্ণিল রঙে নিজকে রাঙানোর এমন সব আয়োজনের সমাবেশ ঘটে তাহলে কথাই নেই, সুযোগ মিলেছে যখন ঢুঁ মেরেই আসি, সরকারি কর্মাস কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের পিইউও আবুল হাসনাতের আমন্ত্রণে এবারের গন্তব্য কাপ্তাই । কাপ্তাই সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য দিয়ে রাখি। কৃত্রিম নীল পানির কাপ্তাই লেকের আয়তন প্রায় ১১,০০০ বর্গ কিলোমিটার। ইংরেজ সরকার ১৯০৬ সালে প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা করে কাপ্তাইয়ে। তারপর আমেরিকার অর্থায়নে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কাপ্তাই বাঁধ তৈরি কাজ শুরু করেন। ১৯৬০ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নির্মাণের পর পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি সংরক্ষণের জন্য বাঁধ নির্মাণের ফলে নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। তারপর হ্রদের সৃষ্টি হয়। এই হ্রদের সর্বনিম্ন গভীরতা ৩০ ফুট এবং প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত। বলা আছে কাপ্তাই হ্রদটি ৯০ বছরের মধ্যে ভরাট হয়ে যাবে। ইংরেজি এইচ বর্ণের আকৃতি বিশিষ্ট কাপ্তাই লেক এর দুটি বাহু রয়েছে। সুভলং এর নিকটে গিরিসঙ্কট দ্বারা সংযুক্ত যা কর্ণফুলী নদী পথের অংশ। কাপ্তাই হ্রদের ডান বাহু বা কাসালং দক্ষীন দিকে দুটি আন্তপ্রবাহি নদী মাইনি ও কসালং দ্ধারা এবং পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদী দ্বারা পুষ্ট। রাঙামাটি-কাপ্তাই অর্থাৎ বাম বাহুটি দুটি নদী দ্বারা বেস্টিত। উত্তরে চেঙ্গি বা চিংরি দক্ষিণে রাইন খিয়াং দ্বারা পুষ্ট। মূলত রাঙ্গামাটি শহরের সৌন্দর্য ও পর্যটন নগরি হয়ে ওঠার কারন এই কাপ্তাই লেক। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের নিদর্শন কাপ্তাই লেক বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে নিয়ে গেছে অনন্য উ”চতায়। কাপ্তাই লেক ঘেঁষেই রাঙ্গামাটির পথে রাস্তা গিয়েছে বলে কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি একসাথে ভ্রমণ করার দারুন সুজোগ রয়েছে ।

১১ ফাল্গুন, ২৪শে ফেব্রুয়ারী, ২০২২, সকাল সাড়ে ৭ টা, সবার মধ্যে সীমাহীন আনন্দ কারণ এখনই ছেড়ে দিবে সরকারি কমার্স কলেজ বিএনসিসি প্লাটুন কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষা সফরের বাস। বাসে ইতিমধ্যে আসন গ্রহণ করেছেন সরকারি কমার্স কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ সুসেন কুমার বড়ুয়া এবং তারঁ পরিবার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আবুল হাসনাত, বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ এহতেশাম-উল হক, এবং এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও কমার্স কলেজের প্রত্যবেক্ষন মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া এবং ছত্রিশ জন রানিং ক্যাডেট। বাস ছাড়ার পরপরই ক্যাডেট মুমতাহিন সুলতানা মাইক্রোফোনে বলে উঠলো -সকলকে কমার্স কলেজ বিএনসিসি প্লাটুন এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, এর পরপরই ক্যাডেট যাত্রা শুভকামনার উদ্দ্যেশ সামনে রেখে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করার জন্য ক্যাডেট তামান্না আক্তার কে অনুরোধ করে । ক্যাডেট আলোক শাহ গীতা ও অরুপ বড়ুয়া ত্রিপিটক পাঠ করেন। অধ্যক্ষ মহোদয়ের অনুমতি নিয়ে সকলে দেশের গান গাইতে গাইতে এবং চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন, রাউজান চট্টগ্রাম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাঙ্গুনীয়ার শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী ইকু পার্ক , কর্ণফুলী পেপার মিল গেইট, কর্ণফুলী সরকারি কলেজ, কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়, বিজিবির কাপ্তাই সদর ব্যাটালিযন, প্যানোরোমা জুম রেস্তোরা দেখতে দেখতে এরই মধ্যে আমরা কাপ্তাই প্রশান্তি পার্কে এসে পৌছাই। প্রশান্তি পার্কেই আমরা সকালের নাস্তা করি। কাপ্তাইয়ের মধ্যে এটি খুব সুন্দর ও ভাল মানের রিসোর্ট। কাপ্তাই সড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠা প্রশান্তি পার্ক। পাশে কর্ণফুলী নদী এবং উঁচু পাহাড়। মানসম্মত খাবার, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এবং ব্যবস্হাপনা সব মিলিয়ে সেরা প্রশান্তি পার্ক। প্রশান্তি পার্ক থেকে আমরা ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বৌদ্ধ মন্দির, কাপ্তাইয়ের সুইডিশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পার হয়ে আমাদের পূর্বের আমন্ত্রণ সিডিউল অনুযায়ী কাপ্তাই বিএন স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং নেভাল ইউনের পিইউও মোঃ হাজানঙ্গীর আলমের আমন্ত্রণে বিএন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কমান্ডার এম নূরে আলম সিদ্দিকী, বি এন স্যারের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করি। পরে মাওরুম বোর্টে (৪০ জরে ধারণ ক্ষমতা এবং ৪টি কেবিন সংযুক্ত) কাপ্তাইয়ের পাহাড় আর কৃত্রিম হ্রদে ভেসে ভেসে প্রাকৃতিক লিলাভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকি। মাঝপথে বেড়াইন্নার লেক থেকে দুপুরের খাবার সংগ্রহ করে নিই। কারণ বোর্টেই দুপুরের খাবার খাবো এবং খেতে আমাদের গন্তব্য নানিয়ারের দিকে যাবো। নানিয়ার চরের বুড়িঘাটে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট এক দ্বীপে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বাঙ্গালির অন্যতম এক বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। অথৈ নীল জল পরিবেষ্টিত সমাধিতে লেখা “তুমি দুর্জয়, নির্ভীক মৃত্যুহীন এক প্রাণ” কথাগুলো যেন তাঁর গৌরবজ্বল বীরত্বের এক অনন্য প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের এই বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে। অথবা আপনার সন্তান বা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সেই ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলেও আপনার গন্তব্য হতে পারে নানিয়ার চর। ১৯৯৬ সালে স্হানটি চিহ্নিত করা হয় এবং ২০০৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের আত্মত্যাগের প্রতি প্রদ্ধা জানিয়ে নির্মান করা হয় মার্চ রাইফেল ভাস্কর্য সংবলিত স্মৃতিসৌধ।বেড়াইন্নার লেক থেকে আসাম বস্তি, তবলছড়ি, ডিসি বাংলো রিজার্ভ বাজার এলাকার সৌন্দর্য দেখতে কি যে ভাল লাগছে এ অনুভূতি লিখে বুঝানো যাবেনা। একবার ভাবুন আমরা বোর্ট থেকে পুরো রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন কাপ্তাই লেকের ঝর্ণা ধারা আর পানির বুকে বয়ে চলা নৌকা গুলোর দৃশ্য দেখে হারিয়ে যা”ছিলাম যেন এক অজানা স্বর্গীয় আনন্দে। লেকের পানিতে নৌকায় চড়ে যত দূর এগিয়ে যাই প্রতি মুহূর্তে যেন চোখের সামনেই পালটে যা”েছ দৃশ্যপট, দেখতে দেখতে এক সময় মনে হয়েছিলো বিশ্বের সৌন্দর্যের রানী খ্যাত কাশ্মীর এর কোন দর্শনীয় স্থান উপভোগ করছি। নীল জল রাশির মধ্যে দুলতে দুলতে চলা নৌকা আর শীতল বাতাস জন্ম দিবে অন্যরকম অনুভূতি আর চমৎকার রোমান্টিক দৃশ্য । উপভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় র‍্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানে ছিল ক্যাডেট ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ক্যাডেট সীমান্ত দাস (সর্বত মঙ্গল রাধে) ক্যাডেট হৃদিতা বড়ুয়া (উত্তল পেগে মেঘে), ফাতেমা -তুজ – জোহরা (সোনা বন্ধু রে) মেয়েদের মিশ্র নাচে মেহেরুন্নেছা, ফাতেমা , মারজিয়া আলাম, সাদিয়া আফরিন, হৃদিতা বড়ুয়া (আবার এল যে সন্ধ্যা) । আবৃত্তিতে ক্যাডেট অলোক শাহ (লিচু চোর কবিতা) দলীয় নাচে মুনতাসির কিবরিয়া, কারিমুল মাওলা সাকিব, শাহরিয়ার সিয়াম, রাহাত হোসেন। ফ্যাশন শোতে মারজাহান আক্তার, নাসরিন ফারজানা, মারজিয়া আলাম, সাদিয়া আফরিন, জান্নাতুল ফেরদৌস, ঈশিতা রাহাত হোসেন অরুপ বড়ুয়া, কারিমুল মওলা অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিল মুহাম্মদ মুনতাসির কিবরিয়া এবং মুমতাহিন সুলতানা। ফেরার সময় বার বার মনে হচ্ছিল এই স্বর্ণালী সময় এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল! দিনভর এত্ত বেশী উপভোগ করেছি স্মৃতির আয়নায় সারা জীবন ভেসে উঠবে এই কাপ্তাই ভ্রমণ ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানার অস্ত্র মামলায় আসামি গ্রেফতার।

কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে নির্বাচনে আনা হচ্ছে না: ওবায়দুল কাদের

ঘুরে এলাম কাপ্তাই,মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া

আপডেট সময় : ১০:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২

সিটিজিট্রিবিউন, চট্টগ্রাম 

বেড়াতে ভালো লাগে সবারই, কিন্তু নগর জীবনের চলমান ব্যস্ততায় বেড়ানোর জন্য সময় বের করাটাই মুশকিল। লেকের নীল জলরাশির সাথে দিগন্তে মিশে যাওয়া নীল আকাশের মিতালি ভালো লাগেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, কাছাকাছি যদি প্রকৃতির বর্ণিল রঙে নিজকে রাঙানোর এমন সব আয়োজনের সমাবেশ ঘটে তাহলে কথাই নেই, সুযোগ মিলেছে যখন ঢুঁ মেরেই আসি, সরকারি কর্মাস কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের পিইউও আবুল হাসনাতের আমন্ত্রণে এবারের গন্তব্য কাপ্তাই । কাপ্তাই সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য দিয়ে রাখি। কৃত্রিম নীল পানির কাপ্তাই লেকের আয়তন প্রায় ১১,০০০ বর্গ কিলোমিটার। ইংরেজ সরকার ১৯০৬ সালে প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা করে কাপ্তাইয়ে। তারপর আমেরিকার অর্থায়নে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কাপ্তাই বাঁধ তৈরি কাজ শুরু করেন। ১৯৬০ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নির্মাণের পর পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি সংরক্ষণের জন্য বাঁধ নির্মাণের ফলে নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। তারপর হ্রদের সৃষ্টি হয়। এই হ্রদের সর্বনিম্ন গভীরতা ৩০ ফুট এবং প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত। বলা আছে কাপ্তাই হ্রদটি ৯০ বছরের মধ্যে ভরাট হয়ে যাবে। ইংরেজি এইচ বর্ণের আকৃতি বিশিষ্ট কাপ্তাই লেক এর দুটি বাহু রয়েছে। সুভলং এর নিকটে গিরিসঙ্কট দ্বারা সংযুক্ত যা কর্ণফুলী নদী পথের অংশ। কাপ্তাই হ্রদের ডান বাহু বা কাসালং দক্ষীন দিকে দুটি আন্তপ্রবাহি নদী মাইনি ও কসালং দ্ধারা এবং পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদী দ্বারা পুষ্ট। রাঙামাটি-কাপ্তাই অর্থাৎ বাম বাহুটি দুটি নদী দ্বারা বেস্টিত। উত্তরে চেঙ্গি বা চিংরি দক্ষিণে রাইন খিয়াং দ্বারা পুষ্ট। মূলত রাঙ্গামাটি শহরের সৌন্দর্য ও পর্যটন নগরি হয়ে ওঠার কারন এই কাপ্তাই লেক। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের নিদর্শন কাপ্তাই লেক বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে নিয়ে গেছে অনন্য উ”চতায়। কাপ্তাই লেক ঘেঁষেই রাঙ্গামাটির পথে রাস্তা গিয়েছে বলে কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি একসাথে ভ্রমণ করার দারুন সুজোগ রয়েছে ।

১১ ফাল্গুন, ২৪শে ফেব্রুয়ারী, ২০২২, সকাল সাড়ে ৭ টা, সবার মধ্যে সীমাহীন আনন্দ কারণ এখনই ছেড়ে দিবে সরকারি কমার্স কলেজ বিএনসিসি প্লাটুন কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষা সফরের বাস। বাসে ইতিমধ্যে আসন গ্রহণ করেছেন সরকারি কমার্স কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ সুসেন কুমার বড়ুয়া এবং তারঁ পরিবার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আবুল হাসনাত, বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ এহতেশাম-উল হক, এবং এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও কমার্স কলেজের প্রত্যবেক্ষন মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া এবং ছত্রিশ জন রানিং ক্যাডেট। বাস ছাড়ার পরপরই ক্যাডেট মুমতাহিন সুলতানা মাইক্রোফোনে বলে উঠলো -সকলকে কমার্স কলেজ বিএনসিসি প্লাটুন এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, এর পরপরই ক্যাডেট যাত্রা শুভকামনার উদ্দ্যেশ সামনে রেখে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করার জন্য ক্যাডেট তামান্না আক্তার কে অনুরোধ করে । ক্যাডেট আলোক শাহ গীতা ও অরুপ বড়ুয়া ত্রিপিটক পাঠ করেন। অধ্যক্ষ মহোদয়ের অনুমতি নিয়ে সকলে দেশের গান গাইতে গাইতে এবং চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন, রাউজান চট্টগ্রাম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাঙ্গুনীয়ার শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী ইকু পার্ক , কর্ণফুলী পেপার মিল গেইট, কর্ণফুলী সরকারি কলেজ, কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়, বিজিবির কাপ্তাই সদর ব্যাটালিযন, প্যানোরোমা জুম রেস্তোরা দেখতে দেখতে এরই মধ্যে আমরা কাপ্তাই প্রশান্তি পার্কে এসে পৌছাই। প্রশান্তি পার্কেই আমরা সকালের নাস্তা করি। কাপ্তাইয়ের মধ্যে এটি খুব সুন্দর ও ভাল মানের রিসোর্ট। কাপ্তাই সড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠা প্রশান্তি পার্ক। পাশে কর্ণফুলী নদী এবং উঁচু পাহাড়। মানসম্মত খাবার, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এবং ব্যবস্হাপনা সব মিলিয়ে সেরা প্রশান্তি পার্ক। প্রশান্তি পার্ক থেকে আমরা ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বৌদ্ধ মন্দির, কাপ্তাইয়ের সুইডিশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পার হয়ে আমাদের পূর্বের আমন্ত্রণ সিডিউল অনুযায়ী কাপ্তাই বিএন স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং নেভাল ইউনের পিইউও মোঃ হাজানঙ্গীর আলমের আমন্ত্রণে বিএন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কমান্ডার এম নূরে আলম সিদ্দিকী, বি এন স্যারের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করি। পরে মাওরুম বোর্টে (৪০ জরে ধারণ ক্ষমতা এবং ৪টি কেবিন সংযুক্ত) কাপ্তাইয়ের পাহাড় আর কৃত্রিম হ্রদে ভেসে ভেসে প্রাকৃতিক লিলাভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকি। মাঝপথে বেড়াইন্নার লেক থেকে দুপুরের খাবার সংগ্রহ করে নিই। কারণ বোর্টেই দুপুরের খাবার খাবো এবং খেতে আমাদের গন্তব্য নানিয়ারের দিকে যাবো। নানিয়ার চরের বুড়িঘাটে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট এক দ্বীপে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বাঙ্গালির অন্যতম এক বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। অথৈ নীল জল পরিবেষ্টিত সমাধিতে লেখা “তুমি দুর্জয়, নির্ভীক মৃত্যুহীন এক প্রাণ” কথাগুলো যেন তাঁর গৌরবজ্বল বীরত্বের এক অনন্য প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের এই বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে। অথবা আপনার সন্তান বা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সেই ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলেও আপনার গন্তব্য হতে পারে নানিয়ার চর। ১৯৯৬ সালে স্হানটি চিহ্নিত করা হয় এবং ২০০৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের আত্মত্যাগের প্রতি প্রদ্ধা জানিয়ে নির্মান করা হয় মার্চ রাইফেল ভাস্কর্য সংবলিত স্মৃতিসৌধ।বেড়াইন্নার লেক থেকে আসাম বস্তি, তবলছড়ি, ডিসি বাংলো রিজার্ভ বাজার এলাকার সৌন্দর্য দেখতে কি যে ভাল লাগছে এ অনুভূতি লিখে বুঝানো যাবেনা। একবার ভাবুন আমরা বোর্ট থেকে পুরো রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন কাপ্তাই লেকের ঝর্ণা ধারা আর পানির বুকে বয়ে চলা নৌকা গুলোর দৃশ্য দেখে হারিয়ে যা”ছিলাম যেন এক অজানা স্বর্গীয় আনন্দে। লেকের পানিতে নৌকায় চড়ে যত দূর এগিয়ে যাই প্রতি মুহূর্তে যেন চোখের সামনেই পালটে যা”েছ দৃশ্যপট, দেখতে দেখতে এক সময় মনে হয়েছিলো বিশ্বের সৌন্দর্যের রানী খ্যাত কাশ্মীর এর কোন দর্শনীয় স্থান উপভোগ করছি। নীল জল রাশির মধ্যে দুলতে দুলতে চলা নৌকা আর শীতল বাতাস জন্ম দিবে অন্যরকম অনুভূতি আর চমৎকার রোমান্টিক দৃশ্য । উপভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় র‍্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানে ছিল ক্যাডেট ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ক্যাডেট সীমান্ত দাস (সর্বত মঙ্গল রাধে) ক্যাডেট হৃদিতা বড়ুয়া (উত্তল পেগে মেঘে), ফাতেমা -তুজ – জোহরা (সোনা বন্ধু রে) মেয়েদের মিশ্র নাচে মেহেরুন্নেছা, ফাতেমা , মারজিয়া আলাম, সাদিয়া আফরিন, হৃদিতা বড়ুয়া (আবার এল যে সন্ধ্যা) । আবৃত্তিতে ক্যাডেট অলোক শাহ (লিচু চোর কবিতা) দলীয় নাচে মুনতাসির কিবরিয়া, কারিমুল মাওলা সাকিব, শাহরিয়ার সিয়াম, রাহাত হোসেন। ফ্যাশন শোতে মারজাহান আক্তার, নাসরিন ফারজানা, মারজিয়া আলাম, সাদিয়া আফরিন, জান্নাতুল ফেরদৌস, ঈশিতা রাহাত হোসেন অরুপ বড়ুয়া, কারিমুল মওলা অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিল মুহাম্মদ মুনতাসির কিবরিয়া এবং মুমতাহিন সুলতানা। ফেরার সময় বার বার মনে হচ্ছিল এই স্বর্ণালী সময় এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল! দিনভর এত্ত বেশী উপভোগ করেছি স্মৃতির আয়নায় সারা জীবন ভেসে উঠবে এই কাপ্তাই ভ্রমণ ।