Breaking News
Home / আইন বিচার / গাজীপুরে বহুল আলোচিত ষাটোর্ধ সাহেরা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার,(পিবিআই)

গাজীপুরে বহুল আলোচিত ষাটোর্ধ সাহেরা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার,(পিবিআই)

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার আদেপাশা এলাকার বহুল আলোচিত ষাটোর্ধ সাহেরা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার করলো (পিবিআই)গাজীপুর।

 

আয়াজ সানি সিটিজি ট্রিবিউন ঢাকা;

 

ঢাকা জেলার গাজিপুরে আলোচিত হত্যা মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ১। মোঃ আল আমিন (২৬), ১৬/০২/২০২২ তারিখ রাত ০৩.৩০ ঘটিকার সময় জিএমপি বাসন থানাধীন ভোগড়া পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে ও ২। মোঃ মামুনুর রশীদ (৩৮),কে ১৭/০২/২০২২ তারিখ রাত ০৪.৩০ ঘটিকার সময় বাসন থানাধীন আদেপাশা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার ভিকটিম মোছাঃ ছাহেরা বেগম (৬০),তার সৌদী প্রবাসী ছেলে বাবুল এর মেয়ে সারা মনি (০৩) কে নিয়ে ঘটনাস্থলের বাড়িতে বসবাস করতেন।

গত ২৫/০৮/২০২০ তারিখ দুপুর অনুমান ১২.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রিসিভ না করায়, ভিকটিমের ছেলে এবং ছেলের স্ত্রী প্রতিবেশী ছালমাকে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থা জানাতে বলে।

তারা ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে ভিকটিমকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়ির মেইন গেট তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের ছেলের অনুরোধে তারা মেইন গেটের তালা ভেঙ্গে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে সারা মনিকে কান্নারত অবস্থায় এবং বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোনের রুমের ভিতরে ভিকটিমের মৃতদেহ গলায় গামছা পেঁচানো এবং নাক মুখ দিয়ে হালকা রক্ত বের হওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ সংক্রান্তে নিহতের মেয়ে পারভীন আক্তার (৪০), বাদী হয়ে বাসন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করলে বাসন থানার মামলা রুজু হয়।

মামলাটি বাসন থানা পুলিশ প্রায় ০১ বছর তদন্ত করে। হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার নির্দেশে পিবিআই গাজীপুর জেলায় পরবর্তী তদন্তের জন্য প্রেরণ করে। গত ০৯/০৬/২০২১ তারিখ হতে পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

অ্যাডিশনাল আইজিপি পিবিআই জনাব বনজ কুমার মজুমদার. বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয় এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এর সার্বিক সহযোগীতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) জনাব এস এম শাকিল হাসান মামলাটি তদন্ত করেন।

আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভিকটিম সাহেরা বেগমের একমাত্র ছেলে বাবুল স্ত্রী সহ বিদেশে থাকার কারনে, ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর কন্যা সন্তান সারা মনি (০৩)-কে নিয়ে ঘটনাস্থলের বাড়িতে বসবাস করতেন। ভিকটিমের বাসায় ফরিদা বেগম নামে একজন কাজের বুয়ার কাজ করতেন।

উক্ত কাজের বুয়ার ছেলে আল আমিন (২৬), ভিকটিমের বাসায় মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে ভিকটিম সাহারা বেগম আল আমিনকে দিয়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করাতেন। গত ২৪/০৮/২০২০ তারিখ বিকালে অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় আল আমিনের সাথে তার পূর্ব পরিচিত আসামী মোঃ মামুনুর রশীদ (৩৮), এর সাথে দেখা হলে আসামী মামুন আসামী আল আমিনকে রাত ১০.৩০ ঘটিকার সময় একটা কাজ আছে মর্মে তার বাসার সামনে দেখা করতে বলে।

সেই মতে আসামী আল আমিন রাত অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় আসামী মামুনের বাসার সামনে দেখা করে। তখন আসামী মামুন বলে, বিদেশ থেকে ভিকটিমের ছেলে টাকা পয়সা, স্বর্নালংকার পাঠাইছে। এগুলো নিতে হবে। তুমি বাসার সামনে পাহাড়া দিবে। এদিকে কেউ আসলে সংকেত দিবে।

সেই মোতাবেক আসামী আল আমিন ভিকটিমের বাসার সামনে পাহাড়া দেয়া অবস্থায় আসামী মামুন ভিকটিমের বাড়ির মেইন গেটের সামনে গিয়ে ভিকটিমকে আপনার ছেলে বাবুল বিদেশ থেকে ফোন করেছে বলে গেইট খুলতে বলে।

সাথে সাথে ভিকটিম বাসার গেইট খুলে দিলে আসামী মামুন ঘরের ভিতরে ঢুকেই ভিকটিমের গলায় গামছা পেচিঁয়ে নীচে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আসামী মামুন ঘরের ভিতরের আলমারি হতে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে মেইন গেট বাহির হতে তালাবদ্ধ করে দিয়ে উভয় আসামী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আসামী মামুন এ কাজের জন্য অপর আসামী আল আমিনকে ১০ হাজার টাকা দেয়।

এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। ভিকটিম সাহারা বেগম তার ০৩ বছরের নাতনী সারা মনিকে নিয়ে ঘটনাস্থলের বাড়িতে বসবাস করতেন। ভিকটিম এর একমাত্র ছেলে দেশে বাইরে থাকেন এবং মায়ের জন্য নিয়মিত টাকা পয়সা সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পাঠাতেন।

এই বিষয়টি জানতে পেরে আসামীগন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিম এর বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমের গলায় গামছা পেচিঁয়ে শ্বাষরোধ করে হত্যা করে নগদ টাকা সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এ সংক্রান্তে আসামী আল আমিন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আসামী ১। মোঃ আল আমিনকে ১৬/০২/২০২২ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে উক্ত আসামী নিজেকে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামী মামুনের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ঘটনায় জড়িত অপর আসামী ২। মোঃ মামুনুর রশীদকে ১৭/০২/২০২২ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

About Ayaz Ahmed

Check Also

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মৃত্যু রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কোন বিকল্প নেই :স্বাস্থ্যমন্ত্রী   আয়াজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *