Breaking News
Home / আইন বিচার / কচুর মুখে ইয়াবা পাচার কালে আপন ৩ বোন র‍্যাবের হাতে আটক

কচুর মুখে ইয়াবা পাচার কালে আপন ৩ বোন র‍্যাবের হাতে আটক

নিত্য-নতুন মাদক পাচারের পদ্ধতির অংশ হিসেবে এবার কচুর মুখীর ভিতরে সবজীর আড়ালে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা পরিবহনের সময় ৩ মহিলা ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-৭

মোঃআলাউদ্দীন, সিটিজি ট্রিবিউন, চট্টগ্রাম ;

র‌্যাব-৭  চট্টগ্রাম গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজার হতে সিএনজি যোগে মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং তারিখ ১৭:৪৫ ঘটিকায় র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম এর একটি চৌকস আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী এলাকায় একটি চেক পোষ্ট স্থাপন করে গাড়ী তল্লাশী শুরু করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে একটি সিএনজি থেকে নেমে তিন জন মহিলা সু-কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে র‌্যাব সদস্যরা আসামী ফাতেমা বেগম মনু, হালিমা বেগম এবং আসমাউল হুসনা’কে আটক করে।

পরবর্তীতে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সম্মুখে আসামীদের হাতে থাকা শপিং ব্যাগের ভিতরে কচুর মুখী নামক সবজির অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় সংরক্ষিত অবস্থায় ১৮,৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই আপন বোন, যেখানে ফাতেমা এই অবৈধ মাদক ব্যবসা ও পাচারের পারিবারিক ব্যবসার মূল হোতা। তারা মোট ০৮ বোন এবং সবাই মাদক (ইয়াবা) ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা এতই বিশেষজ্ঞ যে তারা তাদের ছোট বাচ্চাদের, এমনকি নিজের কন্যাদের ০৫ মাস বয়সী বাচ্চাকেও নিয়ে গেছে, এটি চিত্রিত করার জন্য যে তারা পরিবারের সদস্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তারা মাদক বহনে অত্যন্ত দক্ষ এবং আইন প্রযোগকারী সংস্থার সমস্ত চেকপোস্ট এড়াতে একটি অনন্য পথ অনুসরণ করে। প্রথমে তারা সবজির উপরের অংশ (কচুরমুখী) কেটে ভিতরে খালি করে ইয়াবা লুকিয়ে রাখে, তারপর পলিথিনের ব্যাগে মুড়িয়ে ইয়াবা রাখে। তারপর টমেটো এবং অন্যান্য শাকসবজি নিয়ে যায়। তারা চকোরিয়া পর্যন্ত আসে তারপর পুলিশ ও অন্যান্য চেকপোস্ট এড়াতে ফাশিয়াখালী-লামা-আলীকদম-বিলছড়ি-লোহাগাড়া পথ অনুসরণ করে। পরে তারা সবাই সাতকানিয়ার কেরানিরহাটে এসে সেখান থেকে দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায় যেখানে একটি দল নিয়মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অনুসরণ করে এবং অন্যটি কেরানিরহাট-বান্দরবান-চন্দ্রঘোনা-রাঙ্গুনিয়া রুট অনুসরণ করে এবং হাটহাজারী পিএস পর্যন্ত কোনো সনাক্ত বা চেক ছাড়াই পৌঁছায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজার জেলা হতে ইয়াবা ট্যাবলেট স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে পরবর্তীতে তা বেশি মুনাফা লাভের আশায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট পাচার করে আসছে এবং উক্ত আসামীরা ইয়াবা পাচারে সবসময়ই নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা পাচার করে আসছে।উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৫৬ লক্ষ টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

About md Alauddin TNT

Check Also

চট্টগ্রাম মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ এর মায়ের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত

শেরশাহ কলোনী বাসা নং-এফ/ও -০৬ নিবাসি সকলের প্রিয় মুখ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক বৃহত্তর শেরশাহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *