Breaking News
Home / সারাদেশ / কক্সবাজারে সুফল প্রকল্পের বনায়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ

কক্সবাজারে সুফল প্রকল্পের বনায়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ

কক্সবাজারে সুফল প্রকল্পের বনায়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ

 

সিটিজি ট্রিবিউন শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১৬ জানুয়ারী।

 

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাস কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জের আওতাধীন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে টেকসই বন ও জীবিকা বা সাসটেইনেবল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড (সুফল) প্রকল্পের সৃজিত বনায়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। গত ১৩ জানুয়ারী থেকে ১৫ জানুয়ারী পর্যন্ত তিনি বনায়ন কার্যক্রম পরিশর্দন করে ১৬ জানুয়ারী রবিবার সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে কক্সবাজার ছাড়েন।

জানা গেছে, ২০১৯-২০২০, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে
কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রেঞ্জে বন কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর বননির্ভরতা কমিয়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানো, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই বন ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য নিয়ে বনায়ন সৃজন করা হয়।
বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় বন ভূমিতে গড়ে উঠেছে নীরব সবুজ বিপ্লব।

বনভুমিকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। যতদুর চোখ যায়-সবুজের সমারোহে ভরে গেছে পাহাড় গুলো। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের দখলে ছিল অনেক পাহাড়। ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাহাড় গুলো দখল মুক্ত করে গড়ে তোলা হয় সুফল বাগান। এই সুফল বাগানের সবুজের সমারোহ এখন হাতছানি দিকে ডাকছে।

গত বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারী সকালে তিনি সপ্তাহের সফরে কক্সবাজার আসেন। এদিন বিকালে তিনি
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের টেকনাফ হোয়াইক্যং রেঞ্জের শামলাপুর বিট, মনখালী বনবিটের সুফল প্রকল্পের বনায়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। ১৪ জানুয়ারী শুক্রবার পরিদর্শন করেন উখিয়া ও রামু উপজেলার ধোয়াপালং রেঞ্জ, রাজারকুল রেঞ্জ ও পানেরছড়া রেঞ্জের বিভিন্ন বনবিটের সুফল বনায়ন কার্যক্রম এবং ইনানী রেঞ্জের মেরিন ড্রাইভের ঝাউবাগান।

১৫ জানুয়ারী শনিবার পরিদর্শন করেন কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের রামু বাঘখালী রেঞ্জের বিভিন্ন বনবিটে সৃজিত সুফল বনায়ন কার্যক্রম।

এসব এলাকায় ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ সালের সুফল প্রকল্পের আওতায় সৃজিত শতশত হেক্টর বনভূমির বনায়ন ছাড়াও অন্যান্য খাতের বনায়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাস। পরিদর্শন কালে ছিলেন, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকার, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা সরোয়ার আলম, সহকারী বন সংরক্ষক শহিদুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক প্রান্তোষ চন্দ্র রায়,

সহকারী বন সংরক্ষক
কাজী তারিকুর রহমান (রেঞ্জ কর্মকর্তা উখিয়া), সহকারী বন সংরক্ষক আশিকুর রহমান, সহকারী বন সংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস,

কক্সবাজার শহর
রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বনবিভাগের বিশেষ টহল দলের ওসি একেএম আতা এলাহী, পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা
মোঃ তৌহিদুর রহমান টগর,

বাঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সরওয়ার জাহান, জোয়ারিয়া নালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু, ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা, মোঃ আনোয়ার হোসেন খাঁন ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ রফিকুল ইসলাম, ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন, শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল ইসলাম, টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম,
রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল, কক্সবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা সমির রঞ্জন সাহা, কক্সবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবুল কাশেম,

ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা
মোস্তাফিজুর রহমান,
মেহের ঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমান ছাড়াও কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন সরকার জানান, রেঞ্জ গুলোর আওতাধীন বন বিটগুলোতে সুফল প্রকল্পের আওতায় বনভুমিতে মিক্সড প্ল্যান্টেশন উইথ স্লো গ্রোয়িং এবং বন ভুমিতে দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষের বনায়ন করা হয়েছে।
বন সংরক্ষ বিপুল কৃষ্ণ দাস এসব বনায়ন ও বৃক্ষের বৃদ্ধিসহ বনায়নের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।

পাহাড় গুলো বর্তমানে সবুজ বনে পরিনতি হয়েছে। স্থানীয়রা আরও সচেতন হলে পাহাড় রক্ষা এবং ন্যাড়া পাহাড়সমুহ আরও সবুজ বনে পরিনতি হবে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সরোয়ার আলম জানান, পাহাড়ের দিকে থাকালে সুফল বাগানের সবুজের সমারোহ এখন হাতছানি দিকে ডাকছে।

তিনি আরও বলেন, এলাকার লোকজন যদি সচেতন হয়, তাহলে ন্যাড়া পাহাড় গুলো সবুজের সমারোহ করা সম্ভব।

১৬ জানুয়ারী রবিবার সকালে সিএফ বিপুল কৃষ্ণ দাস সড়ক পথে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ বছর মেয়াদি বন অধিদপ্তরের সুফল প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো বৃক্ষ উজাড় হওয়া প্রাকৃতিক বনগুলোর খালি জায়গা, রাস্তার ধার ও নতুন চরে গাছ লাগানো। প্রকল্পের আওতায় বনায়ন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসন, বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বিপন্ন প্রজাতির গাছপালার তালিকা তৈরি ও বননির্ভর পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

About Ayaz Ahmed

Check Also

জেলহত্যা দিবসে দুস্থদের মাঝে ‘স্বপ্ন উচ্ছ্বাস সংঘ’র খাবার বিতরণ

জেলহত্যা দিবসে দুস্থদের মাঝে ‘স্বপ্ন উচ্ছ্বাস সংঘ’র খাবার বিতরণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি:জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে জাতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *