Breaking News
Home / জাতীয় /  আলোচিত চট্টগ্রাম কারাগার সিডিএ

 আলোচিত চট্টগ্রাম কারাগার সিডিএ

 আলোচিত চট্টগ্রাম কারাগার সিডিএ

সিটিজিচ্রিবিউন:চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার নানা ঘটনার কারণে বছরজুড়ে ছিল আলোচনায়। গত বছরের এপ্রিল থেকে করোনা সংক্রমণ এড়াতে চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনের সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে।

তবে বন্দিদের কারা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভেতর থেকে স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ রয়েছে।

বছরজুড়ে এই অঙ্গনে আলোচিত ছিল- কারাবন্দি পালিয়ে যাওয়া, চট্টগ্রাম জেল সুপার ও ডেপুটি জেলার প্রত্যাহার, সংরক্ষিত চট্টগ্রাম কারাগার অরক্ষিত হয়ে ওঠা, অনিয়মই, কারাগারে বন্দি নির্যাতনের অভিযোগে মামলা ও কারাবন্দিদের মোবাইল সেবা।

কারাবন্দির পলায়ন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গত ৬ মার্চ ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ফরহাদ হোসেন রুবেল নামে এক হাজতি পালিয়ে যায়। সদরঘাট থানার হত্যা মামলায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান তিনি। থাকতেন কারাগারের ১৫ নম্বর কর্ণফুলী ভবনের পানিশমেন্ট ওয়ার্ডে। কারা অভ্যন্তরে দক্ষিণ পাশে সীমানায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে রুবেলকে শনাক্ত করা হয়। একইদিন বিকেলে কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। রাতে জেলার মো. রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

হাজতি পালিয়ে হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ঘটনার পরদিন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেন কারা মহাপরিদর্শক। গত ৮ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত দলের প্রধান খুলনা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক ছগির মিয়া ডিআইজি প্রিজন চট্টগ্রামের কার্যালয়ে যান। গত ৯ মার্চ পালিয়ে যাওয়া রুবেলকে নরসিংদীর জেলার রায়পুরা থানার বাল্লাকান্দি চর এলাকা থেকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করে।

কারাগারের ভেতর থেকে লাফ দিয়ে বের হওয়া কয়েদি রুবেল ট্রেনে নরসিংদী পালিয়ে গিয়েছিল। রুবেল প্রথমে কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের নিচে নামেন। সেখানে একটি পানির হাউসে চোখে ও মুখে পানি দেন। এরপর ডান পাশের গেইট দিয়ে বেরিয়ে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ গজ দূরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৪ তলায় উঠেন। গত ১৮ মার্চ রুবেলের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ ঘটনায় কারাগারের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

জেল সুপার ডেপুটি জেলার প্রত্যাহার

হাজতি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত ৭ মার্চ কেন্দ্রীয় উপ মহা-কারাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পৃথক আদেশে চট্টগ্রামের জেলার মো. রফিকুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার মুহাম্মদ আবু সাদ্দাতকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এছাড়া কারারক্ষী নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কারারক্ষী ইউনুস মিয়াকে প্রত্যাহার করা হয়ে। সহকারী প্রধান কারারক্ষী কামাল হায়দারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গত ২৩ মার্চ কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন স্বাক্ষরিত আদেশে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন জেলার হিসেবে পদায়ন করা হয় মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে। একই আদেশে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ঘটনায় বদলিকৃত (কারা অধিদফতরে সংযুক্ত) চট্টগ্রামের সাবেক জেলার মো. রফিকুল ইসলামকে কারা অধিদফতর থেকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বদলি করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর কারাগারে রুবেল পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খানকে শাস্তি হিসেবে ‘তিরস্কার’ করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের (শৃঙ্খলা-১ শাখা) সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম কারাগার থেকে বন্দি লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পরও বন্দি নিখোঁজ রয়েছে মর্মে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন প্রেরণ করে সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান প্রতারণা করেছেন। মো. শফিকুল ইসলাম খানের দায়িত্ব পালনকালে রুবেল কারাগার থেকে পালানোর ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদচারণের’ অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা (নম্বর ০৮/২০২১) দায়ের করা হয়। শফিকুল ইসলাম কারাবিধির ৭১, ৭১ (১), ৭৩, ৭৮, ৮৩ ধারার বিধান অনুযায়ী কারাগারের জেলারের কাজ এবং অধস্তনদের দায়িত্ব-কর্তব্য তদারকি ও বন্দি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

সংরক্ষিত কারাগারঅরক্ষিত

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের দক্ষিণ ও পূর্বদিকের বিশাল এলাকা এখনও অরক্ষিত। সীমানা প্রাচীরে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও তা ডিঙিয়ে পার হওয়া যায় অনায়াসে। সীমানা প্রাচীরের সঙ্গে লাগানো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন ভিড় থাকে সাধারণ মানুষের। সেখানে রাখা হয়েছে মালামাল, গড়ে উঠেছে অবৈধ পার্কিং। বন্দিদের রাখার জন্য তিনশ’ শয্যার পাঁচ তলা বিশিষ্ট যমুনা ভবনের পেছন দিকে কারাগারের বড় সীমানা প্রাচীর রয়েছে। প্রাচীরের ওপারে থাকা সড়কটি জেল রোড হিসেবে পরিচিত। সড়কের নিচ থেকে বন্দিদের নাম ধরে ডাকা হলে কিছু সময় পর সেই জানালার কাছে হাজির হয় ওই বন্দি। পরে ইশারা ও চিৎকার করে চলে কথা-বার্তা।

১৬.৮৭ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৮৫৩ জন। কিন্তু বন্দি থাকেন গড়ে ৯ হাজার। ১৯৯৮ সালে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কর্ণফুলী, হালদা ও সাঙ্গু নামে পাঁচতলা বিশিষ্ট ছয়টি বন্দি ভবন ও একটি দ্বিতল সেল ভবন নির্মাণ করে সরকার। এখন ৪২টি সেল থাকলেও ধারণক্ষমতার বেশি বন্দি থাকায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ নম্বর সেলটি ৬৪ নম্বর সেলে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। ২০১১ সালে কারাগারে ঘনিষ্ট দুই কয়েদিকে আলাদা করে দেওয়ার ঘটনায় টয়লেটের ভেন্টিলেটর থেকে লাফিয়ে পড়ার হুমকি দেয় তারা। ২০১২ ও ২০১৫ সালে কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টাকালে দুজন ধরা পড়েন।

জানা যায়, কারাগারের একাধিক কর্মকর্তা ও কারারক্ষী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দর্শণার্থী নিয়ে বাণিজ্য, বন্দিদের নির্যাতন করে অর্থ আদায়, বন্দিদের মোবাইল ব্যবহার করতে দেওয়া ও ক্যান্টিনের খাবার সরবরাহে নানান অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কারাগারকে অনিয়মের আখড়া বানিয়ে কারা কর্মকর্তারা গড়ছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে ধরাও পড়েছেন ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি কারাগার পরিদর্শন শেষে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার অনিয়মের তথ্যও পেয়েছেন। কারা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন খাতে মাসে অবৈধ আয় ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন দুদকের এক পরিচালক।

কারাভোগ করে আসা ব্যক্তিদের ভাষ্য, এখানকার ডাল হচ্ছে হালকা হলুদ রঙের পানি। মোটা চালের শক্ত ভাতের সঙ্গে মেলে পচা সবজি, মাংসের ছোট হাড় ও ছোট একটি টুকরো মাছ। ক্যানটিনে নেওয়া হয় বাড়তি দাম। নতুন আসামি কারাগারে যাওয়ার পর প্রথমে ‘আমদানি ওয়ার্ডে’ রাখা হয়। পরদিন সকালে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় তাদের। সেখানে চলে টাকার খেলা। প্রভাবশালী বন্দিরা তাদের নিয়ে কেনা-বেচা করে। কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের লোহার জালি বেশ ঘন হওয়ায় কেউ কারও কথা শুনতে পারে না। তাই টাকা দিলে কারাগারের অফিস কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় সাক্ষাতের সুযোগ মেলে।

বন্দি নির্যাতন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রূপম কান্তি নাথ নামে এক বন্দিকে বৈদ্যুতিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে নির্যাতনের অভিযোগে গত ৪ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার, জেলার, কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ও রতন ভট্টাচার্য নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন নগরের পাহাড়তলীর বাসিন্দা ঝর্ণা রানী দেবনাথ। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

একই আদালতে গত ১৩ ডিসেম্বর মো.শামীম নামের এক বন্দীকে নির্যাতনের অভিযোগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম, জেলার দেওয়ান তারিকুল ইসলাম, ডেপুটি জেলার মো. সাইমুর, আইজি প্রিজনের গোয়েন্দা কারারক্ষী সবুজ দাশ ও সুবেদার মো. এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্তের আদেশ দেন।

কারাগারে মোবাইল সেবা

কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে মোবাইল সেবা। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বন্দিরা সরকারি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। সারাদেশে কারাগারে এই ব্যবস্থাটি চালু করা হয়। মোবাইল সেবার মাধ্যমে বন্দিদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত হচ্ছে বলে জানান কারা কর্মকর্তারা।

জানা যায়, প্রতি মিনিটে এক টাকা হারে বন্দিদের চার্জ দিতে হবে। একেকজন বন্দি প্রতি ১৫ দিনে একবার ১০ মিনিট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এক্ষেত্রে আগেই পরিবারের ঘনিষ্ঠ দুইজন সদস্যের মোবাইল নম্বর কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকাভুক্ত করে রাখতে হয়। সেই দুইটি নির্দিষ্ট নম্বরেই তারা কথা বলতে পারছেন।

বছরজুড়ে বিতর্ক সিডিএর ভূমিকায়

 

প্রাণহানি থেকে শুরু করে ফ্লাইওভারে ফাটল সবকিছু নিয়ে বছরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সেবা সংস্থাগুলো দায়িত্বে অবহেলা, নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হলেও দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ রুখতে পারেনি বিতর্কের পথ।

সংস্থাগুলোর এমন সমন্বয়হীনতার সমাধান করতে না পারলে নগরবাসীকে আরও খেসারত দিতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রতিটি সংস্থা যদি প্রতি বছর নিজেদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারতো তাহলে কাজের গুণগতমান এবং সেবা সংস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেতো।

চট্টগ্রামে বছরব্যাপি চলা উন্নয়ন প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজই বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল, বাকলিয়া এক্সেস রোড উল্লেখযোগ্য।

নালায় পড়ে জনের মৃত্যু 

চট্টগ্রামে এক বছরে নালায় পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জুন নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট মেয়র গলিতে বৃষ্টির সময় সিএনজি অটোরিকশা সরু সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় খালে পড়ে যায়। এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলা হলেও খালের পাশে কোনও ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনি না থাকাকে সেবা সংস্থাগুলোর অবহেলা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া গত ২৫ আগস্ট দুপুরে মুরাদপুর মোড়ে পা পিছলে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমদ নামের সবজি বিক্রেতা। প্রায় ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মিলেনি এ ব্যক্তির। গত ২৭ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদে নালায় পড়ে মারা যান এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। চলতি মাসের ৪ ডিসেম্বর নালায় নেমে স্রোতে ভেসে যায় ৬ বছরের এক শিশু। ৩ দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১৯ জুন চান্দগাঁও থানাধীন বি-ব্লক এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সিএনজি অটোরিকশা উল্টে নালায় পড়ে যায়। তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও যেতে হয় হাসপাতালে। এসব দুর্ঘটনার পর একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দায় সেরেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এনিয়েও দুই সংস্থার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়।

ফ্লাইওভারে ফাটল

গত ২৫ অক্টোবর রাতে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের ওপরে কালুরঘাটমুখী র‌্যাম্পের একটি পিলারে ফাটল দেখা দেয়। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সিডিএর প্রকৌশলীরা এটিকে ফাটল নয় বলে দাবি করেন। এ ঘটনার মাস ঘুরতেই আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে ফাটলের ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই নিয়েও কোনও বক্তব্য দেয়নি সিডিএ ও ওয়াসা। এছাড়া দেওয়ান হাট ব্রিজও ঝুঁকিপূর্ণ বলে উঠে আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা নিয়ে দ্বন্দ্ব

গত ৮ জুন সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয় সভায় এক্সপ্রেসওয়ে শুরুর প্রান্ত অর্থাৎ লালখান বাজার অংশের নকশা চূড়ান্ত করা হয়। এ নকশা অনুযায়ী পতেঙ্গা থেকে আসা চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটির দুই লেন নেমে যাবে লালখান বাজার মোড়ের আগে। বাকি দুই লেন রাস্তার ডান পাশ (পূর্ব) দিয়ে সোজা জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সামনে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের সঙ্গে যুক্ত হবে। কিন্তু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শুরুর প্রান্তের নকশা নিয়ে আপত্তি তুলে চসিক। এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান দফায় দফায় আলোচনায় বসেও সমাধানে আসতে পারেনি।

চসিকের দাবি, এ নকশা অনুযায়ী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হলে টাইগারপাস এলাকার পাহাড়ি সৌন্দর্য নষ্ট হবে। এনিয়ে সিডিএকে দুই দফা চিঠিও দেয় সিটি করপোরেশন। তবে কোনও চিঠিরই উত্তর দেয়নি সিডিএ।

বাকলিয়া এক্সেস রোড

বাকলিয়া এক্সেস রোডের অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে গড়ে ওঠা আলোচিত ১০ তলা ভবনের বিষয়ে সমাধান আসে। বাড়ির মালিক ১৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর টাকা বাঁচাতে উদ্যোগী হয় সিডিএ। শেষ পর্যন্ত সড়কটির নতুন অ্যালাইনমেন্টের ডিজাইন করে গত ১২ জুলাই সিডিএর প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি ও বোর্ড সভায় অনুমোদন পায়। নতুন ডিজাইন প্রস্তুত হলেও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও খরচ বাড়তে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

বঙ্গবন্ধু টানেল

দেশের বড় কয়েকটি প্রকল্পের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল অন্যতম। চলতি বছরের ৮ অক্টোবর টানেলের দ্বিতীয় টিউবের খনন কাজ শেষ হয়। এতে দুই পারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন দৃশ্যমান হয়। এ বছর টানেলের কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরও ৬ মাস বেশি মেয়াদ বাড়াতে চায় কর্তৃপক্ষ।

হেলেপড়া ভবন

এবছর চট্টগ্রাম শহরে ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। ১১ এপ্রিল নির্মাণ কাজের ত্রুটি থাকায় নগরের গোয়ালপাড়ায় একটি ৫ তলা ভবন হেলে পড়ে। ভূমিকম্পের কারণে গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর সাবানঘাটা এলাকায় একটি ৪ তলা ভবন হেলে পড়ে। এছাড়া চলতি মাসের ২২ ডিসেম্বর রাতে নগরের সদরঘাট ফকিরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরসহ ৩টি বাড়ি হেলে পড়ে।

সিডিএর ক্ষমতা থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ না করা এবং গ্রাহকরা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদনের আবেদন করলে তা যাচাই না করে অনুমতি দেওয়ার কারণে এভাবে ভবন হেলে পড়ার ঘটনা ঘটছে বলে মত বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের। প্রতিবেদন:কেইউকে

 

About kamal Uddin khokon

Check Also

সদরঘাটে দুর্ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর তদন্ত কমিটি

সদরঘাটে দুর্ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর তদন্ত কমিটি   সিটিজিট্রিবিউন: ঢাকা: সদরঘাটে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রী নিহত হওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *