করোনা ভাইরাসের কারণে এমআই টেক্সটাইলের অর্ডার বাতিল -

করোনা ভাইরাসের কারণে এমআই টেক্সটাইলের অর্ডার বাতিল

সি টি জি ট্রিবিউন নিজস্ব প্রতিবেদক ঃমহামারির করোনা ভাইরাসের কারণে ঢাকা গাজীপুরে অবস্থিত এমআই টেক্সটাইলের ৪ লাখ ৭৭ হাজার ডলারের অর্ডার এবং শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস রোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হলেও খোলা থাকছে অধিক গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল কারখানা। জানা

গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে পোশাক কারখানা বন্ধ হবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের উপর ছেড়ে দিয়েছে সরকার। তবে এই পোশাক খাতের বড় সংগঠন বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, কোনো কারখানা বন্ধের এখতিয়ার তাদের নেই।

কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু সরকারই নিতে পারে। করোনা ভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বস্তরের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, পোশাক শিল্পের ওপর সাধারণ ছুটি মানার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পোশাক কারখানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মালিকরা। তবে সরকারি-বেসরকারি অন্যসব কারখানা বন্ধ থাকবে।

আমরা প্রথম থেকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুব ক্লোজ মনিটরিংয়ে রেখেছি। গার্মেন্টসের আগাগোড়াই রয়েছে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। কারখানার মালিকরাও প্রত্যেকটি জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়া, গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহারের কাজটা করে যাচ্ছেন নিয়মিত। সে ক্ষেত্রে গার্মেন্টস মালিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন তারা কী করবেন।”

এবিষয়ে এমআই টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান মাসুক ইমতেজামকে মুঠোফোনে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এমআই টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রায়’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই অর্ডার বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন- ”করোনা মহামারি রোধে আমরাও সচেতন কিন্ত আমাদের অর্ডার বাতিল বা শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে।

আমাদের কর্মচারী বা ফ্যাক্টরীর কর্মীদের বেতন দিতে এখন আমাদেও সমস্যায় পড়তে হবে। আমরা এই ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্শন করছি। এরপরেও আমরা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের এমআই টেক্সটাইল লিঃ এ পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট) এবং মাস্ক তৈরীর কাজ অব্যহত রেখেছি”।

গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক জানান, ‘বিজিএমইএ মনে করেন, কারখানাগুলো বন্ধের বিষয়ে কারখানার মালিকরাই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন। বিজিএমইএ কারখানা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। শুধু সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী আকারে দেখা দেওয়াতে বাংলাদেশের পোশাক খাতেও এই মহামারির প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাউকে ধৈর্য হারালে হবে না, সবাইকে ধৈর্যশীল হতে হবে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আশস্ত করা হচ্ছে, সরকার আমাদের সঙ্গে আছে।

বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে এখন বোঝাতে হবে, আমাদের যেসব পণ্য প্রস্তুত আছে সেগুলো তারা যেন ক্রয় করেন, না হলে আমরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ব। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৬৩ কোটি ৪৮ লাখ তৈরি পোশাকের রপ্তানি অর্ডার বাতিল হয়েছে, যার মূল্য ১৯৮ কোটি ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *