অন্ধকার জগতের আরেক পাপিয়া কথিত নারী নেত্রী ইসমু -

অন্ধকার জগতের আরেক পাপিয়া কথিত নারী নেত্রী ইসমু

অনলাইন ডেস্কঃ- পর্দার আড়াল থেকে প্রশাসনের খাঁচায় বন্দি সদ্য বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ’র ভয়ংকর রুপ প্রকাশ্যে আসলেও, এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে পাপিয়ার চেয়েও ভয়ংকর কক্সবাজারের আরেক কথিত মহিলানেত্রী ইসমু!

এ যেনো পাপিয়ার ঘটনাই শেষ নয়। বড় পাপিয়ারা এখনো অধরা রয়ে গেছে। সম্প্রতি এই নারীনেত্রী নিজেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তরায় তার বসবাস। বড় নেতা ও বড় পার্টিতে তার আসা যাওয়া। আলোচিত এই নারী হচ্ছেন কক্সবাজারের ইছমত আরা বেগম ইসমু। তিনি নিজেকে সব সময় কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।

সর্বশেষ ১১তম সংসদ নির্বাচনের আগে সর্বত্রই প্রচার করতেন কক্সবাজারে সংরক্ষিত এম’পি পদ পাচ্ছেন। কিন্তু তা না পেলেও থেমে ছিল না তার অপরাধমূলক কাজকর্ম। শুধুমাত্র সচিবালয়, চলচ্চিত্র বা মিডিয়ার লোক না, বিভিন্ন স্তরে বড় পদে থাকা পুরুষেরা হলো এসব নারীদের টার্গেট।

অনুসন্ধান বলছে, ইসমুর একমাত্র কাজ হলো সেজেগুজে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া। মন্ত্রী এমপিদের সরলতার সুযোগ নিয়ে কয়েকটি ছবি তোলা। সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে নিজেকে জাহির করা। এর ফেইসবুক দেখলে তা স্পষ্ট বুঝা যায়। পাপিয়ার মতো এমন কোন নেতা নেই, যার সাথে ইসমু ছবি তুলেন নি।

প্রচার রয়েছে, এর মূল লক্ষ্য হলো-নিজেকে প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা। দিনের বেশির ভাগ সময় ইসমু সচিবালয়ে সেজেগুজে নানা রকম তদবির কাজে ব্যস্ত থাকেন।

জানা যায়, কথিত মহিলানেত্রী ইসমুর পরিচয় দেওয়ার মতো কোন বৈধ পেশা/ ব্যবসা না থাকলেও কক্সবাজারের অজঁপাড়া গাঁ থেকে ঢাকায় এসে ৫ বছরে নিজেকে পাল্টে ফেলেন। আর অল্প সময়ে গড়েছেন ঢাকা উত্তরার আভিজাত এলাকায় দুটি কোটি টাকা দামের দুটি ফ্ল্যাট। ১টি দামি হারিয়ার গাড়ি ও একটি নোহা। বাসায় বিদেশি সব দামি ফার্নিচার আর আসবাবপত্র। এছাড়া তার রয়েছে নামে বেনামে বহু সম্পদ আর ব্যাংক ভিলেজ।

ইসমত আরা বেগম ইসমুর বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী ধলঘাটা গ্রামে। বাবা কক্সবাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকের দারোয়ান ছিলেন। এছাড়াও তার স্বামী আরিফুর রহমান হলেন জামাত শিবিরের এক দুর্ধর্ষ সশস্ত্র ক্যাডার। যাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করতে নানা অভিযান পরিচালনা করে ঢাকায়।

সূত্র বলছে, তিনি কখনো মহেশখালী কক্সবাজারে ছাত্রলীগ করেনি, আওয়ামী লীগের জন্য কোন ত্যাগ-তিতিক্ষা করেনি, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন পদ পদবি দখল করলেও পরে দলীয় অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ায় বাতিল করা হয়।

তারপরেও ভয়ংকর এই নারী ফেইসবুকে রাঙিয়েছেন আবার নানা পদ-পদবি দিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, এছাড়াও শোভা পাচ্ছে তার ফেইসবুকে কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য, জারা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উপদেষ্টা, ব্যাংলা টেক সার্ভিস কোম্পানির বড় অনার তিনি। এ যেনো একই অঙ্গে বহু রুপ।

এ সমস্ত অপ্রকাশিত পাপিয়াদের খোঁজার সময় এসেছে বলে অনেকের দাবি। তাদের বিরুদ্ধেও শীঘ্রই ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা নজর বাড়িয়েছেন।

একাধিক সূত্র বলছে, পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় এই কথিত মহিলানেত্রীও এখন বেশ আতংকে রয়েছেন। চলাফেরা করছেন বোরকা পড়ে। টেনশনে ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কারণ, পাপিয়াকে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, কারা বিভিন্ন কমিটিতে বড় পদ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন এবং কারা পাপিয়ার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন এর সব তথ্য রয়েছে ইছমত আরা ইসমু’র হাতে। বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে এরই মধ্যে অনেক প্রভাবশালী নারী পুরুষ ও রাজনীতিবিদের নাম আসছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে এটা সত্য, এসব সুবিধাভোগি মহিলা নেত্রীরা ছিলেন সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন তাদেরকে ধরা তো দূরে থাক, তাদের দিকে তাকাতেও পারতো না।

সামগ্রিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিতর্কিত এই মহিলানেত্রী ইছমত আরা বেগম ইসমু জানান, আমাকে এত সস্তা কথা ও ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি যখন আমার বাবার হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেছিলাম তখন এই কক্সবাজার ও মহেশখালীতে ৯৫% মানুষ জামাত বিএনপি করত।’

প্রসঙ্গত, সদ্য বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ গ্রেফতার চারজনকে তিন মাম’লায় পাঁচ দিন করে ১৫ দিনের রি’মান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তবে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ওরফে পিউদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে অনেক পিলে চমকানো তথ্য। এমনকি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃৃত্ব নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *